ম্যাক্সিম গ্রুপ-এর প্রতারনার খপ্পরে কয়েক শতাধিক বিনিয়োগকারী

Maxim1মুন্সীগঞ্জে দি ম্যাক্সিম গ্রুপ নামক একটি মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ কোম্পানীর প্রতারনার খপ্পরে কয়েক শতাধিক বিনিয়োগকারী। অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে প্রায় ত্রিশ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে কোম্পানীর টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আলদি বাজার ও সিদ্ধেশ্বরী শাখার দুই কর্মকর্তা। এক এক করে তালা ঝুলছে অন্য শাখা অফিসগুলোতে। লাভের আশায় লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়ে এখন দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা।


২০০৭ সালে দি ম্যাক্সিম গ্রুপ নামক একটি মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ কোম্পানী মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে ১৫-১৬টি শাখা অফিস খুলে বসেন। লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আদলে ম্যাক্সিম গ্রুপ গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা জমা করতে থাকে। প্রতি এক লাখ টাকায় মাসিক ২ হাজার টাকা সুদ পাওয়ার আশায় শত, শত গ্রাহক ম্যাক্সিম গ্রুপে টাকা বিনিয়োগ করেন।
Maxim1
এদিকে গ্রুপের প্রধান কর্ণধার গোলাম মোস্তফা রানার বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যাংকিংয়ের অভিযোগে ঢাকায় মামলা হয়। এ খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে গ্রাহকরা টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ম্যাক্সিম গ্রুপের বিভিন্ন শাখা অফিসে ধরনা দিতে শুরু করেন। বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত চান তারা। গ্রাহকরা টাকা ফেরত চাইলে ম্যাক্সিম গ্রুপের ওই দুই অফিসের কর্মকর্তা সালাম খলিফা ও সুলতান শেখ গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেই-দিচ্ছি করে টালবাহনা শুরু করেন। এক পর্যায়ে রোববার সন্ধ্যায় অফিসে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
Maxim2
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য টঙ্গীবাড়ী থানায় গিয়ে পাওয়া যায়নি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এ খালেককে, তবে তিনি ফোনে জানান, ম্যাক্সিম গ্রুপের প্রতারনার বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেননি বিনিয়োগকারীরা। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলার রাউতভোগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে সুলতান শেখ ও একই গ্রামের এলাহী খলিফার ছেলে সালাম খলিফা টঙ্গিবাড়ীর শাখা অফিসগুলোর পরিচালক বলে জানা গেছে। ঢাকার ম্যাক্সিম গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক গোলাম মোস্তফা রানার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বলই গ্রামে।

প্রতারিত হওয়া বিনিয়োগকারীদের এখন একটাই দাবী টাকা উদ্ধারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবে সরকার।

ইউএনএসবিডিডটকম