মাওয়া ঘাটের মুকুটহীন সম্রাট আওয়ামীলীগ নেতা আশরাফ

asrafরাজীব হোসেন বাবু: ঘাট এলাকার মা-বাপ দাবি করেন আশরাফ ও তার বাহিনীর সদস্যরা। বীরদর্পে নানান অপরাধ সংঘঠিত করে যাচ্ছে তার বাহিনীর সদস্যরা। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না। আর সুনিদৃষ্ট অভিযোগের অভাবের দোহাই দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন তাকে আঁড়াল করে রাখছেন মাত্র। তিনি হলেন মাওয়া ঘাটের মুকুটহীন সম্রাট মেদেনী মন্ডল ইউনিয়ন আ.লীগ সাধারন সম্পাদক আশরাফ হোসেন। মাওয়া ঘাটের দুর্দান্ত প্রতাপশালী আওয়ামীলীগ নেতার উত্তাপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।


গত ৫/৬ বছর মাওয়া সিবোর্ট ঘাটের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রন নিয়ে তিনি রাতারাতি বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। ঘাট নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখতে তৈরি করেছেন বিশাল বাহিনী। পদ্মার গহীন চর ও ওপারেও বেশ কয়েকটি গ্রুপ তার হয়ে কাজ করছে বলে গোপন একটি সূত্রে জানা গেছে। ঘাট ইজারা ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে আশরাফ বাহিনীর সদস্যরা। ফলে মাদক, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণসহ ইত্যাদি লোমহর্ষক নানা ঘটনা ঘাটে উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাতে সিবোর্ট চালকরা ছিনতাই, ডাকাতি শেষে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে তার সঠিক তথ্য পুলিশের খাতায়ও নেই। সিবোর্টে রাতে কিংবা সন্ধ্যায় পিতার সাথে স্ত্রী-কন্যা পদ্মা পাড়ি দেওয়ার সময় পদ্মার দুর্গম চরে ধর্ষণের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। প্রতিবাদ করতে যেয়ে অনেকে আবার খুন হয়েছেন। এসব অপরাধের নেপথ্যে আশরাফ বাহিনীর হাত রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। আর বালু দস্যুতায় তার জুড়ি নেই। তবে আশরাফ বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
asraf
গত দুবছর পূর্বে আরেক স্থানীয় যুবলীগ নেতা হামিদুল সরকারী ইজারার মাধ্যমে ঘাট লিজ নিয়েও দীর্ঘ দিন ঘাটে প্রবেশ করতে পারেনি। অবশেষে বিআইডব্লিউটিসি‘র খন্ডকালীন ইজারাদার হিসেবে আশরাফকে চাঁদা উঠাতে দিলে ঘাটের সে বিরোধ আপাতত মিটে।

মাওয়া ঘাটের একচ্ছত্র ডন আশরাফের সাম্প্রতিক ঘটনায় তার নিজ এলাকা যষুলদিয়ার সাধারন জনগন মারাত্মক উৎকন্ঠায় জীবন যাপন করছেন। গত ১৯/১২/১২ইং তারিখ রাতে টেলিফোনে হুমকি দেয়ার অজুহাতে তার নিজ গ্রামের বিএনপি কর্মী সাইফুল ইসলাম মিঠুর বাড়িতে আশরাফ ও তার বাহিনী হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। এবং তার বাহিনীর সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোঠা নিয়ে মিঠুকে খোঁজতে থাকে। খবর পেয়ে রাত ১০টায় লৌহজং ও শ্রীনগর থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেন। রাত ২টায় র‌্যাব-১১ এর বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। পরে লৌহজং থানা পুলিশ মিঠুকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়ে আসে। কিন্তু এ যাত্রায় মিঠুর প্রাণ রক্ষা পেলেও আশরাফের সাথে টেক্কা দেয়ার অপরাধে মিঠু গত ২৮/১০/১২ইং তারিখের অজ্ঞাত লাশ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী বানিয়ে কোর্টে চালান করে লৌহজং থানা পুলিশ। মিঠুর পরিবারের দাবি সে সম্পূর্ণ নির্দোষ। শুধুমাত্র রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে এবং আশরাফকে খুশি করতেই পুলিশ এ ভূমিকা নিয়েছে। এ ব্যাপারে শ্রীনগর সার্কেল এএসপি মিয়া কুতুবুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ ছিল। তাছাড়া, এ ঘটনায় পুরো পরিবারই এখন মারাত্মক হুমকি ও ভয়ের মধ্যে দিন পাড় করছেন। এলাকাবাসী আরও জানায়, নিয়মিত আশরাফের যষুলদিয়া গ্রামের বাড়িতে মদের আসর বসে। আর তারই লালিত বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদকের বিষাক্ত ভয়াবহ ছোবল বিস্তার করাচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ইউএনএসবিডিডটকম