মুন্সীগঞ্জে গ্যাসের তীব্র সংকট

gasশেখ মোহাম্মদ রতন: প্রতিদিন প্রয়োজনীয় রান্না করার জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নেই এ এলাকায় কথাগুলো বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বাগমামুদালী পাড়ার গৃহিনী খালেদা আক্তার নীলা। তার মতোই মুন্সীগঞ্জ উত্তর ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা সেলিনা আক্তার, মালপাড়া এলাকার গৃহবধূ পপি, বিথীসহ শহরাঞ্চলের হাজারো গৃহিনীর গ্যাস নিয়ে একই দাবি।

দিনের পর পর আর মাসের পর মাস জুড়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রত্যেক এলাকার ঘরে ঘরে চলছে গ্যাসের তীব্র সংকট। চুলোতে আগুন ধরার মতো পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় শহরাঞ্চলের গৃহিনীদের এখন অশেষ দুর্গতির মধ্যে রান্না করতে হচ্ছে। মনের মতো খাবার রান্নাতো দূরের কথা, প্রতিদিনের খাবার তালিকার নূ্যূনতম ভাত-মাছ রান্না করাই দুস্কর হয়ে উঠেছে। জেলার প্রাণকেন্দ্র মুন্সীগঞ্জ পৌর এলাকার পাড়া-মহল্লা ও এলাকা এলাকায় গ্যাসের অভাবে মাটির চুলোতে লাকড়ির আগুনে চলছে রান্নার কাজ। দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের এ সংকটে রয়েছেন গৃহিনীরা। কি গরম কি শীত-সব কালেই পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ এখানে ডুমুরে ফুল। জেলা শহরের অন্তত ১৩-১৪ টি এলাকাবাসীর কাছে বিশেষ করে শীতকালে গ্যাস সোনার হরিণ হয়ে দেখা দিয়েছে।
gas
তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর কোম্পানির অফিস সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ ও মীরকাদিম পৌরসভায় ৮ হাজার ২শ ১ জন গ্যাস গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ গ্রাহকের আবাস মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায়। এ পৌরসভাধীন মানিকপুর, উত্তর কোর্টগাঁও, দণি কোর্টগাঁও, মধ্য কোর্টগাঁও, দণি ইসলামপুর, উত্তর ইসলামপুর, খালইস্ট, জমিদারপাড়া, মালপাড়া, ইদ্রাকপুর, গোয়ালপাড়া, বাগমামুদালী পাড়া, দেওভোগ, গনকপাড়া এলাকায় কখনোই গভীর রাতের আগে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায় না। দিন ও রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গভীর রাতে ২-৩ ঘণ্টা গ্যাসের দেখা মিলে। তাই ঘরে ঘরে ওই গভীর রাতেই হাঁড়ি-পাতিলের অনবরত টুং-টাং শব্দের মধ্য দিয়ে চলে পরিবারের সকলের মুখে দেয়ার ন্যূনতম ভাত-মাছ, তরকারি-সবজি রান্না। গভীর রাত ৩ টা থেকে ভোর ৫-৬ টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিকভাবেই পেয়ে থাকেন মুন্সীগঞ্জ শহরের গৃহিনীরা। দিন-রাতের বাকী সময়ে গ্যাসের চুলোতে চাপ এতোই কম থাকে যে সামান্য পানি গরম হয় না সেই আগুনে। টিমটিম আগুনে অগত্যা কোন রান্নার কাজই করা হয়ে উঠে না গৃহিনীদের। আবার গ্যাস সরবরাহ প্রাপ্তির েেত্র মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও জেলা সদরের পার্শ্ববর্তী মীরকাদিম পৌরসভার মধ্যে বৈষম্যের চিত্র পাওয়া গেছে। মুন্সীগঞ্জ পৌর এলাকার ঘরে ঘরে গ্যাসের যখন খুব অভাব, তখন মীরকাদিমের ঘরে ঘরে গ্যাসের পর্যাপ্ত ব্যবহার চলছে। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় তীব্র সংকট থাকলেও পাশের পৌরসভা মীরকাদিমে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি নেই।


তিতাস গ্যাসের মুন্সীগঞ্জ জোনালের ম্যানেজার মাদব চন্দ্র বিশ্বাস জানান, নারায়ণগঞ্জের সিদ্বিরগঞ্জ থেকে পঞ্চবটি হয়ে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কের মাটির নীচ দিয়ে মুক্তারপুর পর্যন্ত মূল পাইপ লাইন টেনে মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। মুক্তারপুর থেকে ৬ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের পাইপ লাইন টেনে রাজধানীর কাছে এ জেলা সদরের মুন্সীগঞ্জ ও মীরকাদিম দু’টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ৬ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের পাইপ লাইন থেকে জোড়া জোড়ায় মাত্র ১-২ ইঞ্চি পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাসের সংযোগ চলে গেছে ওই ২টি পৌরসভার ঘরে ঘরে। গ্রাহকের সংখ্যা মীরকাদিমের চেয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় দ্বিগুন। এ পৌর এলাকায় ১-২ ইঞ্চি একটি পাইপ লাইন থেকেই জোড়ায় জোড়ায় অসংখ্য সংযোগ নেয়া হয়েছে বাসা-বাড়িতে। এতে গ্যাসের চাপ কম। ফলশ্র“তিতে চুলোয় গ্যাসের আগুনের কোন উত্তাপ পাওয়া যাচ্ছে না।


একই সঙ্গে মুন্সীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে পাইপ লাইনে লিকেজ ও পাইপ লাইন টানার েেত্র কিছুটা ত্র“টি রয়েছে। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় অপোকৃত বেশী ঘন বসতি গড়ে উঠায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির আরো একটি অন্যতম কারণ। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার পাড়া-মহল্লা ও এলাকাগুলোতে গ্যাস সংকটের দুঃখ ঘুচাতে চলতি বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অপো করতে হবে। তিতাস গ্যাস কোম্পানির স্থানীয় অফিস সূত্রে জানা গেছে- নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গোদনাইল পর্যন্ত ও গোদনাইল থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত পৃথক দু’টি একেবারেই নতুন পাইপ লাইন টানা হবে। এ কাজের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। নতুন দু’টি পাইপ লাইনের কাজ আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে শুরু করা হবে। লাইন টানার কাজ শেষে পৃথক ওই দু’টি লাইন থেকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে। এ দিয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার গ্যাসের ঘাটতি মেটানো যেতে পাবে। নতুন পাইপ লাইন না টানা পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ শহরাঞ্চলে গ্যাস সংকট থেকে উত্তরনের উপায় নেই। তাছাড়া শীতকালে সর্বত্রই গ্যাসের একটু ঘাটতি থাকেই। নতুন পাইপ লাইন টানা হলে সেখান থেকে নতুন পাইপ লাইন টানা ও নতুন করে সংযোগ দেয়া হলে গ্যাসের সংকট দূর হয়ে যাবে।

ইনিউজ