বিমানবন্দর নিয়ে শঙ্কা ও সংশয়

আড়িয়ল বিল সহিংসতার দ্বিতীয় বছর
আড়িয়ল বিলে প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর নির্মাণ প্রতিহতের ঘোষনায় ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার দ্বিতীয় বছর দেখতে দেখতে পার হয়ে গেলো। ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি আড়িয়ল বিলবাসী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তাল ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে প্রাণ হারিয়েছিলেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান।

এসব ঘটনায় দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আড়িয়ল বিল রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ ২১ হাজার বিলবাসীর বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা রুজু করা হয়।

এছাড়া বিরোধী দলের নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারর্সন খালেদা জিয়াকে প্রধান আসামি করে মুন্সীগঞ্জ আদালতে আড়িয়ল বিলবাসীর নামে অপর একটি সি আর মামলাও রুজু করা হয়।


আড়িয়ল বিলবাসীকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে জেলা দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটির (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিনের দায়ের করা সিআর মামলাও শ্রীনগর থানায় তদন্তাধীন।

মামলাগুলো গত দুই বছর ধরে তদন্তাধীন অবস্থায় থাকায় অভিযোগ পত্র অথবা চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান।

সেদিনের উত্তাল পরিস্থিতির মুখে পিছু হটে বিমানবন্দর নির্মাণ না করার ঘোষনা দেয় বর্তমান সরকার। সরকারের ওই ঘোষণায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায় আড়িয়ল বিলে।

তবে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার দোহার উপজেলায় দেওয়া এক বক্তব্যে আগামী নির্বাচনে বর্তমান সরকার পুনরায় ক্ষমতায় আসলে আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর তৈরির ঘোষণা দেন গৃহায়ন ও পূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান। ফলে বিমান বন্দর নির্মাণ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা বিরাজ করছে বিলবাসীর মধ্যে।

বুধবার একাধিক বিলবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আড়িয়ল বিল লক্ষাধিক লোকের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উৎস। লাখ লাখ মানুষ এই বিলে ফসল উৎপাদন ও মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। উৎপাদিত হচ্ছে ধান ও রবি শস্যসহ বিভিন্ন প্রকার ফসলাদি।


তবে এখনও তাদের মনে শঙ্কা, বিমান বন্দর হলে এই বুঝি হারাতে হবে তাদের বাপ-দাদার ঠিকানা। আড়িয়ল বিলের সহিংসতার দ্বিতীয় বছর পার হলেও আজো বিল রক্ষা কমিটির নেতারা ঘরোয়া আড্ডায় মিলিত হন। তারা আড়িয়ল বিলে বিমান বন্দর নির্মাণ প্রতিহত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সব মিলিয়ে বিমান বন্দর নিয়ে এখন সংশয় ও শঙ্কা বিরাজ করে আড়িয়ল বিলবাসীর মনে।

কাজী দীপু জেলা সংবাদদাতা
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম