টঙ্গিবাড়ীতে ম্যাক্সিম গ্রুপের কার্যালয়ে তালা

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে ‘দি ম্যাক্সিম গ্রুপ’ নামে একটি মালিপারপাস কোম্পানির পাঁচটি শাখা অফিসে তালা ঝুলছে। এদিকে সাধারণ গ্রাহকদের বিনিয়োগ করা কয়েক কোটি টাকার কোনো সুরাহা না করেই পালিয়েছে ওইসব শাখার দায়িত্বে থাকা কোম্পানির দুই পরিচালক। ফলে এই মাল্টিপারপাসে বিনিয়োগ করা কয়েক কোটি টাকা ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় প্রায় ৫ শতাধিক গ্রাহক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এরা সবাই এখানে বেশি ম‍ুনাফার আশায় টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি কোম্পানির পরিচালনা পরিষদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তাফা রানা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে গ্রাহকরা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ম্যাক্সিম গ্রুপের ৫টি শাখা অফিসে তালাবদ্ধ থাকার চিত্র দেখা গেছে। অফিসগুলোতে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেখা পাওয়া যায়নি।


উপজেলার আলদী বাজার, বালিগাঁও বাজার, টঙ্গিবাড়ী বাজার, বাড়ৈপাড়া ও সিদ্বেশ্বরী বাজার শাখা অফিসে ৩দিন ধরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

এ অবস্থায় গ্রাহকরা উদ্বেগ ও উrকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে নিজ বাড়িঘর ফেলে পালিয়ে যান এ ৫টি অফিসের দায়িত্বে থাকা কোম্পানির পরিচালক মো. সুলতান মাহমুদ ও মো. আব্দুস সালাম।

তাদের বাড়ি জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার রাউতভোগ গ্রামে হওয়ায় শত শত নারী-পুরুষ লাখ প্রতি মাসিক ২ হাজার টাকা মুনাফা পাওয়ার চুক্তিতে ম্যাক্সিম গ্রুপের ওই শাখা অফিসগুলোতে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন।


এতে রোববার গ্রাহকরা উপজেলার আলদী ও সিদ্ধেশ্বরী শাখা অফিসে বিক্ষোভ প্রদর্শন, হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।

গ্রাহকরা বাংলানিউজকে জানান, এ ৫ শাখা অফিসে কম করে হলেও ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ কয়েক কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। তার সিংহভাগই লেনদেন করা হয়েছে পলাতক মো. সুলতান মাহমুদ ও মো. আব্দুস সালামের মাধ্যমে।

২০০৭ সালে ম্যাক্সিম গ্রুপ নামে মাল্টিপারপাস কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আলদী বাজার শাখায় ফিরোজা বেগম নামে এক নারী ৩৬ লাখ টাকা, রাউতভোগ গ্রামের আবু সিদ্দিক ২৪ লাখ টাকা, বাড়ৈপাড়া গ্রামের সালাম মাদবর ১৪ লাখ টাকা, রাউতভোগের জহির হাওলাদার ৪ লাখ, বারেক শেখ ৩২ লাখ, জব্বার শেখ ৬ লাখ, হানিফ মোল্লা ৪ লাখ, রব নগরকান্দি গ্রামের সুলতান কবিরাজ ৩৬ লাখ, লাখারণ গ্রামের আউয়াল দেওয়ান ৬ লাখ টাকা লেনদেন করেন। তাদের মতো আরও অনেক গ্রাহকও লাখ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন কোম্পানিতে।

জানা গেছে, গ্রাহকদের বিনিয়োগ করা টাকা দিয়ে গরুর খামার, মrস্য খামার, মুরগীর খামার, সুপার শপ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেন্ট-এ কার, ইলেকট্রনিক্স শোরুম ও ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দি ম্যাক্সিম গ্রুপের কো-অপারেটিভ প্রকল্প এবং দি ম্যাক্সিম ইলেক্ট্রনিক্স প্রা. লিমিটেড, দি ম্যাক্সিম ফার্মা প্রা. লিমিটেড, দি ম্যাক্সিম অ্যাডভারটাইজিং এন্ড প্রিন্টিং, দি ম্যাক্সিম রিয়েলষ্টেট এন্ড ডেভেলপার, দি ম্যাক্সিম এগ্রোটেক, দি ম্যাক্সিম পরিবহন, দি ম্যাক্সিম ইন্টেরিয়র এন্ড ফার্ণিটেক, দি ম্যাক্সিম ফুড এন্ড কনজ্যুমার, দি ম্যাক্সিম রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ নামের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পলাতক থাকা ২ পরিচালকের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তা বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এ খালেক জানান, ম্যাক্সিম গ্রুপের দুই পরিচালকের বিরুদ্ধে টঙ্গিবাড়ী থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি গ্রাহকরা।

তবে কয়েক দিন আগে ঢাকায় একটি মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

====================

মুন্সীগঞ্জে কোটি টাকা হাতিয়ে-ম্যাক্সিম গ্রুপের অফিসে তালা

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ কোম্পানী “দি ম্যাক্সিম গ্রুপের” অফিসে তালা ঝুলছে। শীর্ষ ২ কর্ণধার পালিয়ে গেছেন বলে ভুক্তভুগী গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন শাখা অফিস খুলে মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ কোম্পানীর অজুহাতে অবৈধ ব্যাংকিং কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে ম্যাক্সিম গ্রুপ। জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ম্যাক্সিম গ্রুপের পৃথক ৫টি শাখা অফিসে গতকাল মঙ্গলবার সারাদিন তালাবদ্ধ থাকার চিত্র দেখা গেছে। অফিস গুলোতে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেখা পাওয়া যায়নি। জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আলদী বাজার, বালিগাঁও বাজার, টঙ্গিবাড়ী বাজার, বাড়ৈপাড়া ও সিদ্বেশ্বরী বাজার শাখা অফিসে গতকাল তালা ঝুলতে দেখা গেছে। গত ৩ দিন ধরেই টঙ্গিবাড়ীতে ম্যাক্সিম গ্রুপের মাল্টি পারপাস ব্যবসায় টাকা লেনদেন করে শত শত নারী-পুরুষ লাখ লাখ টাকা খোয়ানোর আশংকা করে আসছেন। এতে গ্রাহকরা তাদের জমা টাকা ফেরত চেয়ে শাখা অফিস গুলোতে ধরনা দিতে শুরু গত রোববার দিবাগত গভির রাতের আঁধারে নিজ বাড়ি-ঘর ফেলে পালিয়ে গেছে ম্যাক্সিমের ২ কর্ণধার। লাখ প্রতি মাসে মাত্র ২ হাজার টাকা সুদ পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে শত শত নারী-পুরুষ ম্যাক্সিম গ্রুপের ওই শাখা অফিস গুলোতে কয়েক কোটি টাকা লেনদেন করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, ম্যাক্সিম গ্রুপের স্থানীয় ২ কর্ণধার সুলতান শেখের ও সালাম খলিফার বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। ওই ২ কর্ণধারের বাড়ি জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার রাউতভোগ গ্রামে। এ সময় তাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। প্রতিবেশীরা জানান, পরিবার দু’টির সবাই রাতের আঁধারে গা-ঢাকা দিয়েছে। শত শত মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে তারা পালিয়েছেন বলে প্রতিবেশীরা লোকমুখে জানতে পেরেছেন। ওই ২ কর্ণধার মাল্টি পারপাস ব্যবসা করতে বলেই জানেন গ্রামের প্রতিবেশী বাসিন্দারা। তারা এ ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার পাহাড় গড়ে তুলছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে ওই গ্রামে। ২০০৭ সালে “দি ম্যাক্সিম গ্রুপ” নামে মাল্টি পারপাস ব্যবসার বিপরীতে অবৈধ ভাবে ব্যাংকিং কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। শুধু মাত্র জেলার টঙ্গিবাড়ীতেই তাদের ১৪-১৫ টি শাখা অফিস রয়েছে।

অন্যদিকে, ম্যাক্সিম গ্রুপের তালাবদ্ধ ৫ টি শাখা অফিসে টাকা লেনদেন করে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ। ম্যাক্সিম গ্রুপের আলদী বাজার শাখায় ৩৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাড়ৈপাড়া গ্রামের ফিরোজা বেগম নামে এক নারী। তিনি জানান, প্রতি মাসে এক লাখে ২ হাজার টাকা সুদ পেতেন তিনি। প্রথমে অল্প কিছু পরিমান টাকা লেনদেন করেন। পরে সুদের টাকা নিয়মিতই পেয়ে আসলে তিনি সর্ব-সাকুল্যে ওই ৩৬ লাখ টাকা জমা দেন ম্যাক্সিম গ্রুপের আলদী বাজার শাখায়। ম্যাক্সিম গ্রুপের ওই ৫ শাখা অফিসে কম করে হলেও ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ কয়েক কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। এরা সবাই এখন টাকা খুঁইয়ে পথে বসতে বসেছেন।

“অতি লোভে তাতী নষ্ট”- এ প্রবাদ বাক্যের মতোই ওই সব নারী-পুরুষ লেনদেন করা টাকা ফেরত না পাওয়ার আশংকা করছেন। কোম্পানীটির ২ শীর্ষ কর্ণধার সুলতান শেখ ও সালাম খলিফা কোন প্রভাব খাটিয়ে নয়, আন্তরিকতা ও সততার মধ্য দিয়ে প্রথমে প্রতিষ্ঠানটিকে দাঁড় করিয়েছেন। তারা যে কোন একদিন পালিয়ে যেতে পারে তা কখনোই মনে হয়নি গ্রাহকদের কাছে-এমনটাই দাবী করলেন- গ্রাহক টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পলাতক শীর্ষ ২ কর্ণধারের গ্রামের বাড়ি রাউতভোগেরকে গ্রাহক আবু সিদ্দিক। তিনি সর্বশান্ত এখন কোম্পানীর কাছে ২৪ লাখ টাকা লেনদেন করে। তার সমুদয় টাকা ফেরত আদৌ ভাবেন কিনা-তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

এছাড়া বাড়ৈপাড়া গ্রামের সালাম মাদবর ১৪ লাখ টাকা, রাউতভোগ গ্রামের জহির হাওলাদার ৪ লাখ টাকা, একই গ্রামের বারেক শেখ ৩২ লাখ টাকা, জব্বার শেখ ৬ লাখ টাকা, হানিফ মোল্লা ৪ লাখ টাকা, রব নগরকান্দি গ্রামের সুলতান কবিরাজ ৩৬ লাখ টাকা, লাখারন গ্রামের আউয়াল দেওয়ান ৬ লাখ টাকা খুইয়ে এখন পাগল প্রায় হয়ে পড়েছেন।

এ প্রসঙ্গে টঙ্গিবাড়ী থানার অফিসার্স ইনচার্জ-(ওসি) এস এ খালেক বলেন- টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ম্যাক্সিম গ্রুপের ২ কর্ণধারের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেননি গ্রাহকরা। তারা কেউই আসেনি থানায়। তাই ম্যাক্সিমের কর্মকান্ড সম্পর্কে পুলিশের কিছু বলার নেই।

টাইমস্ আই বেঙ্গলী