মুন্সীগঞ্জে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল

মোজাম্মেল হোসেন সজল: মুন্সীগঞ্জে লাশের চলছে ছড়াছড়ি। বেড়েই চলছে লাশ, গুম ও গুপ্ত হত্যার ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকার খালে-বিলে, নদী-ডোবায় পাওয়া যাচ্ছে লাশ। এ থেকে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে মুন্সীগঞ্জে লাশের হাট বসছে।

সর্বশেষ গত ২৪ জানুয়ারি একদিনে ৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজদিখানে ২টি ও শ্রীনগরে ১টি গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। আর বাকি ৩টি লাশ আত্মহত্যার পর উদ্ধার করা হয়। গুলিবিদ্ধ লাশ তিনটির পরিচয় প্রথম দিকে না পাওয়া গেলেও বিকালে ও সন্ধ্যার পর ওই লাশগুলো শনাক্ত করে নিহতের স্বজনরা। এ ঘটনায় সিরাজদিখানে ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় তার বাবা খোরশেদ আলম, একই থানায় কুদ্দুস হত্যার ঘটনায় থানার এসআই সালাম ও শ্রীনগরে মিজান হত্যার ঘটনায় থানার এসআই আবু হানিফ বাদী হয়ে পৃথক ৩টি মামলা দাযের করেন। তবে ৩টি মামলায়ই অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়েছে।


গত বছর মুক্তারপুর নৌ-ফাঁড়ির এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে গুপ্ত হত্যার ঘটনা ঘটেছে ৯টি। গত ২৫ মাসে জেলায় খুনের শিকার হয়েছেন অন্তত ১০০ জন। এর মধ্যে ৫০ জনের অধিক লাশ গুম-গুপ্ত হত্যার শিকার হয়।

এছাড়া গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর ৩ মাসেই জেলায় খুনের শিকার হয়েছে অন্তত ৩০ জন। এর মধ্যে গুপ্ত হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৭টি। ঢাকার শাহজানপুর থেকে অপহরণের পর দুই বন্ধু পারভেজ আলমের (২০) লাশ শহর উপকণ্ঠের মুক্তারপুর সেতু সংলগ্ন নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় ও অপর বন্ধু হাসান বান্না শুভ’র (২৪) লাশ সিরাজদিখানের মরিচা ব্রিজ সংলগ্ন ইছামতি নদী থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। শ্রীনগর উপজেলার পশ্চিম কামারগাঁও গ্রামের ছাপড়া ঘরে ভিক্ষুক দম্পতি কিমাজউদ্দিন (৭৮) ও তার স্ত্রী কদবানু ওরফে মরার মা (৬৮)কে গলাকেটে হত্যা অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা।

সিরাজদিখানের মরিচা খারশুর এলাকার একটি ঝোঁপ থেকে দেহ থেকে মস্তক, হাত-পা বিচ্ছিন্ন অজ্ঞাতনামা এক যুবকের (২৪) ১১ টুকরো লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। টুকরোগুলো ৬টি ছোট প্ল্লাস্টিকের বস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণের পর লাশ উদ্ধার করা হয় মুক্তারপুর নৌ-ফাঁড়ি সংলগ্ন শহরের ধলেশ্বরী নদী থেকে নারায়নগঞ্জের সিদ্বিরগঞ্জের শানারপাড়া বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মঞ্জু মুন্সী ও ঢাকা ৫০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি আল-আমিনের গলিত লাশ। লাশগুলোর হাত-পা বাঁধা, মাথায় গুলি ও শরীরে জখমের চিহ্ন ছিল। নদীতে ফেলা লাশগুলোর শরীরের সঙ্গে রশি দিয়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে দেয়া হয়।

সিরাজদিখান থেকে উদ্ধার করা হয় পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ এলাকার রাজিবের (২৫) লাশ। মুখ ও হাত নতুন গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় লাশটি পড়ে ছিল। এ গুপ্তহত্যা থেকে নারীরাও বাদ পড়ছে না । পরিচয়হীন লাশগুলো আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম ও পৌরসভার মাধ্যমে লাশ দাফন করা হয়। কিন্ত এর পরও এরকম অসংখ্য গুম হত্যা হচ্ছে।

এছাড়া হাইওয়ে সড়কগুলোর আশপাশেও অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক এবং মুক্তারপুর নৌ-ফাঁড়ির রাতে টহল পুলিশই বা কি করছে। তারা টহল কাজে থাকলে কাউকে খুন করে লাশ এ জেলায় এনে ফেলে রাখা ঘাতকদের পক্ষে সম্ভব হতো না বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। পুলিশি টহল ব্যবস্থা না থাকায় এসব খুনের ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোন হত্যায় আসামি শনাক্ত, গ্রেপ্তার না হওয়া ও মামলার কোন কুল-কিনারা না হওয়ায় বা পুলিশকে ম্যানেজ করে এভাবে মুন্সীগঞ্জের নদী-নালা, ডোবায় অনবরত লাশ ফেলে যাচ্ছে অপরাধীরা। নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে এ জেলাকে।

এদিকে, এরকম একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটলেও পুলিশ একটি হত্যারও মোটিভ উদ্ধার করতে পারেনি। অন্য জেলার লোকদের হত্যা করে লাশ গুম করার লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদী, রাস্তার পাড়ে ও বিলে-ঝিলে লাশ রেখে যায় ঘাতকরা। ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার তো দূরের কথা- এসব মামলায় এ জেলার লোকদের আটকের পর হত্যার এসব পেন্ডিং মামলার আসামি করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে হরহামেশা। আর এসব হত্যাকান্ডের পেন্ডিং মামলার ভুক্তভোগী হচ্ছেন বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। আর এ থেকে স্থানীয় পুলিশও হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অঙ্কের টাকা। কাউকে আটক করার পর এসব হত্যা মামলায় আসামি করে আদালতে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে থানা পুলিশ বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। আবার আটকের পর পেন্ডিং এসব মামলায় আসামি করে ও ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে অব্যাহতি দেওয়ার অজুহাত দিয়েও হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল অংকের টাকা।

এ পর্যন্ত লাশ উদ্ধারের পেন্ডিং মামলায় চরাঞ্চলের আধারা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি দেলোয়ার হোসেন (৫৫), মোল্ল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন (৪৭), জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান আহমেদ (৪৬), যুবদল নেতা আমিনুল (৩২), খাসকান্দির আওয়ামী লীগ সমর্থিত আক্তার (৪০)সহ বেশ কয়েকজনকে আটকের পর লাশ উদ্ধারের পেন্ডিং মামলায় আসামি করে আদালতে প্রেরণ করার অভিযোগ রয়েছে। পরে এদের কাছ থেকে পুলিশ বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানুয়ারি’ ২০১৩ : ৩টি খুন-গুম হত্যাসহ মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে ২৪ জানুয়ারি একদিনে ৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। খুন-গুম হত্যার মধ্যে সিরাজদিখানে ২ ও শ্রীনগরে এক যুবক রয়েছে। এদের ৩ জনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ইব্রাহিম মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। সে ঢাকার জুরাইনের দারোগা বাড়ি রোডে মামা সালাহউদ্দিনের বাসায় থাকতো। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা এলাকার বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া (৪০) হচ্ছে- মাদারীপুরের হুগলি এলাকার হাজী আব্দুল খালেক বেপারীর ছেলে। অপর যুবক মাসুদ ওরফে রাঢ়ী মাসুদ (৩০) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা এলাকার মীর জাহান খানের ছেলে।

নিহত যুবক মাসুদের বড় ভাইয়ের স্ত্রী তথা ভাবী নুরজাহান জানান, জমি বিক্রির টাকা হাতে পাওয়ার জন্য ক্রেতার সঙ্গে দেখা করতে ১০ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা এলাকার বাসা থেকে বের হন মাসুদ ওরফে রাঢ়ী মাসুদ। এ সময় বন্ধু কুদ্দুস ছিল তার সঙ্গে। ওই দিন রাতে কুদ্দুস ও মাসুদ আর বাসায় ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় গত ১৪ জানুয়ারি মাসুদের স্ত্রী সায়মা বেগম বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। যোগাযোগ করেন র‌্যাব কার্যালয়েও। তখন র‌্যাব তাদের সান্তনা দেন যে, কুদ্দুস ও মাসুদের সন্ধান পেলে পরিবারকে জানানো হবে। ইব্রাহিম, কুদ্দুস ও মাসুদ ওরফে রাঢ়ী মাসুদ ঢাকার কদমতলীতে থার্টি ফাস্ট নাইটে সংঘটিত আওয়ামী লীগ নেতা ইসমাইল হত্যা মামলার আসামি বলে সিরাজদিখান থানার ওসি শেখ মাহবুবুর রহমান দাবি করেছেন।

অথচ নিহতের স্বজনরা বলছেন, তারা নিরপরাধ। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতেই পুলিশ এ কথা বলছে বলে তারা পাল্টা অভিযোগ করেন। এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ব্রিজের নিচ থেকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইব্রাহিম, এর ঠিক ১০০ গজ দূরে বেলা ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ কুদ্দুসের লাশ ও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী শ্রীধরপুর এলাকার রাস্তার পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাসুদ খানের অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ হিসেবে পুলিশ উদ্ধার করে। ৩ জনকেই খুব কাছ থেকে মাথার পেছনের দিক থেকে পেশাদার খুনিরা খুন করে লাশ ফেলে রেখে যায়। তাদের প্রত্যেকের গুলিই মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এ কারণে ময়নাতদন্তকারী অফিসার তাদের শরীরের কোথাও কোন গুলি পায়নি। এখানে এনেই যে তাদের হত্যা করা হয়েছে তাও নিহতদের উদ্ধারের পর রক্তমাখা শরীর দেখেই অনুমান করা যায়। তাদের চোঁখ-মুখ নতুন গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। গত ২১ জানুয়ারি সিরাজদিখানের তেলিপাড়া গ্রামের একটি জমি থেকে অজ্ঞাত তরণীর (২২) লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। গত ১৮ জানুয়ারি রাতে জনতার গণপিটুনির শিকার হয়ে ঢাকা মেডিকের কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডাকাত সদস্য আবু হাসান (২৮) মারা যায়। এর আগের দিন দিবাগত রাতে টঙ্গিবাড়ীর রাউৎভোগ এলাকায় ডাকাতির প্রস্ত্ততিকালে জনতা গণপিটুনি দেয়।

২০১২ সাল : পূর্ব শক্রতার জের ধরে গত ৩০ ডিসেম্বর টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পুরা গ্রামের সিএনজি চালক আনোয়ার হোসেনের আড়াই বছরের শিশু পুত্র লিখনকে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় ফেলে রাখা হয়।

গত ২৭ ডিসেম্বর কাঠপট্টি পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকার ধলেশ্বরী নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের (৩৪) লাশ পুলিশ উদ্ধার করে।

১৯ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদী ও একটি ডোবা থেকে নববধূসহ ২ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বিয়ের ৪ দিনের মাথায় সদর উপজেলার নৈপুকুরপাড়ের একটি ডোবার কচুরিপানার ভেতর থেকে নববধূ আন্না আক্তারের (১৮) লাশ পুলিশ উদ্ধার করে।

১৫ নভেম্বর সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌর সভার রামগোপালপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মুক্তার হোসেন তার খালাতো বোন আন্নাকে পছন্দ করে বিয়ে হয়। বিয়ের ২ দিন পর গত ১৭ নভেম্বর বিকাল ৪ টার দিকে স্বামী মুক্তার হোসেনের ফোন পেয়ে নববধূ আন্না বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়ে পড়েন। একই দিন বেলা পৌনে ১১ টার দিকে ইউসুফ আলী (২৮) নামে এক বাবুর্চির লাশ সদর উপজেলার কাঠপট্টির পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। নিহত ইউসুফ লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব মাছিমপুর গ্রামের নূরু মিস্ত্রির ছেলে। গত ১৭ নভেম্বর বেলা ১১ টার দিকে সে নিখোঁজ হয়। ১৫ নভেম্বর শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের চিনারখোলা গ্রামে ডাকাতের গুলিতে সৌদি প্রবাসী ইয়াসিন ভুঁইয়ার স্ত্রী শাহীনুর বেগম (৩৭) নিহত হয়।

৮ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে গজারিয়ার উপজেলার তেতৈতলা গ্রামের আনোয়ার সিমেন্ট সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের (৩৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

৬ নভেম্বর সকালে শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়নের শিবরামপুর এলাকা থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর (৪৮) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ২রা নভেম্বর রাত ৯টার দিকে শ্রীনগর উপজেলার ব্রজেরপাড়া গ্রামে সালিশি বৈঠকে জুতাপেটায় গোপাল পোদ্দার নামে (৫৩) এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী মারা যায়। রান্না ঘর ব্যবহার করা নিয়ে সালিশি বৈঠক চলাকালে এ তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২ সহোদর চিত্তরঞ্জন দাস (৫০) ও বিঞ্চু (৪০)-কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

১ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে গজারিয়ার কালীপুরা গ্রামের শরাফত আলী (৬৮) প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যায়। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর পূর্ব বিরোধের জের ধরে ষষ্ঠীতলা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম খান রতন ও নিহত শরাফত আলী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

২৫ অক্টোবর দুপুরে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আব্দুল্লাহপুর এলাকায় গ্রামীণফোন ইজিলোডের ১০ লাখ টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার পথে কান্দাপাড়াস্থ কুন্ডেবাজার এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ছিনতাইকারীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশের গুলিতে এক ছিনতাইকারী নিহত ও অপর ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার হয়। এ সময় লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা পুলিশ উদ্ধার করে। টঙ্গিবাড়ীর পুরান বাজার এলাকায় দুর্গা পূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে সহপাঠীদের হামলায় আহত হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর স্কুল ছাত্র শাওন (১০) গত ২৪ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে মারা যায়। গত ২ অক্টোবর সকালে শহরের কোটগাঁও গ্রামের দুলাল হোসেন (৪০) নিখোঁজ থাকার পর কেওয়ার একটি খাল থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। ২ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে লৌহজং পদ্মা রিসোর্টের নৈশ প্রহরী জয়নাল আহমেদ (৫৩)-এর মৃতদেহ টঙ্গিবাড়ীর হাসাইল পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। তার বাড়ি লৌহজং উপজেলার হাট ভোগদিয়া গ্রামে।

১৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে জমি-জমার বিরোধকে কেন্দ্র করে লৌহজংয়ের কাজীর পাগলা গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন খান (৫২)কে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে।

১৫ অক্টোবর দুপুরে মিরকাদিমের কাঠপট্টি এলাকার পুরাতন লঞ্চঘাট সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের (২০) লাশ পুলিশ উদ্ধার করে।

১০ অক্টোবর দিবাগত রাতে শ্রীনগর উপজেলার পশ্চিম কামারগাঁও গ্রামের ছাপড়া ঘরে ভিক্ষুক দম্পতি কিমাজউদ্দিন (৭৮) ও তার স্ত্রী কদবানু ওরফে মরার মা (৬৮)কে গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ হত্যার রহস্য আজো পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি।

৬ অক্টোবর রাতে শ্রীনগরে মাদ্‌রাসা ছাত্র সজিব (১২)কে গলাকেটে হত্যা করে। ওইদিন রাতেই মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকা থেকে তার মস্তকবিহীন লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। পরদিন মাদ্রাসা সংলগ্ন পুকুর থেকে তার মস্তক (মাথা) উদ্ধার করা হয়।

৮ আগস্ট টঙ্গিবাড়ীর বালিগাঁও বাজারে বিএনপির পরিত্যক্ত কার্যালয় থেকে নাসির (২৪) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

৩১ জুলাই বাঘড়ার ফুলতলা গ্রামে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ঢাকার শাহজানপুর থেকে ২ বন্ধু অপহরণ হবার ৮দিন পর গত ২৯ জুলাই রাতে মুন্সীগঞ্জ শহর উপকণ্ঠের মুক্তারপুর সেতু সংলগ্ন নদী থেকে এক বন্ধু পারভেজ আলমের (২০) লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। পরদিন ৩০ জুলাই সকালে লাশ শনাক্তের পর মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের বাবা মো. কবির লাশ নিয়ে গেছেন। নিহতের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার সামনধার এলাকায়। তারা ২৮৬/ এ খিলগাঁও, সিপাহীবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় বাস করেন।

এর আগে ২৪ জুলাই অপর বন্ধু হাসান বান্না শুভ’র (২৪) লাশ সিরাজদিখানের মরিচা ব্রিজ সংলগ্ন ইছামতি নদী থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। পরদিন ২৫ জুলাই নিহতের স্বজনরা মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশ শনাক্ত করে নিয়ে যায়। তার পিতার নাম আনিসুজ্জামান ও মা সাবিয়া শোভা বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের মতিঝিল থানার সভাপতি। ঢাকার রাজারবাগ এলাকায় তারা ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

২৪ জুলাই বেলা ১১টার দিকে শ্রীনগরের হাসাড়া এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের (৩০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ১০ জুন সিরাজদিখানের মরিচা খারশুর এলাকার একটি ঝোঁপ থেকে দেহ থেকে মস্তক, হাত-পা বিচ্ছিন্ন অজ্ঞাতনামা এক যুবকের (২৪) ১১ টুকরো লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। টুকরোগুলো ৬টি ছোট প্ল্লাস্টিকের বস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়।

৯ জুন শ্রীনগরের বাঘড়া এলাকায় জমি-জমার বিরোধ নিয়ে ওরশেদ মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে দু’টুকরো করে হত্যা করা হয়। গত ৪ জুন রাতে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে টঙ্গিবাড়ীর কাঠাদিয়া-শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রিপন ফকিরকে রক্তাক্ত জখম করে। পরদিন ৫ জুন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

৫ এপ্রিল শহরের যোগিনীঘাট এলাকার খাল থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন মস্তকবিহীন অজ্ঞাতনামা এক যুবকের (৩২) লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রতনপুর আনসার ক্যাম্পের পাশে একটি ডোবা থেকে অর্ধগলিত অজ্ঞাতনামা এক যুবকের (২৩) লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। পরে শহরের গনকপাড়া এলাকার নাসিরের লাশ হিসেবে সনাক্ত করা হয়।

৭ ফেব্রুয়ারি নবজাতকসহ অজ্ঞাতনামা ২ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কামারগাঁও এলাকার পদ্মা নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের (৪০) ও কামারগাঁও গ্রামের সরিষা ক্ষেত থেকে এক অজ্ঞাত নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে শ্রীনগর থানার পুলিশ।

২১ জানুয়ারি আলভী চৌধুরী (৬) নামে এক শিশুকে হত্যার পর ফিরিঙ্গিবাজার মসজিদের ভিতরে সিড়ির নিচ থেকে তার লাশ পুলিশ উদ্ধার করে।
১৬ জানুয়ারি কেয়টখালি গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী শাহ আলমের ভারসাম্যহীন স্ত্রী তার ৬ মাসের শিশু পুত্র সামিরকে গলা কেটে হত্যা করে।

২০১১ সাল : বিয়ের দু’বছরের মাথায় মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল গ্রামে ২০১১ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর সকালে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় রেশমা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ীকে পুলিশ গ্রেপ্তাার করেছে। গৃহবধূ রেশমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে মামলার বাদী আনোয়ার হোসেন কনক দাবি করেছেন।

২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর জেলার শ্রীনগর উপজেলার ওমপাড়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে নিখোঁজ লঞ্চ মিস্ত্রি বিল্ল্লাল বেপারীর (৪০) লাশ উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার পশ্চিম শিয়ালদি। তিনি মাওয়ায় লঞ্চের ইঞ্জিন মেরামতের মিস্ত্রি ছিলেন।

২০ ডিসেম্বর গজারিয়া উপজেলার দড়ি বাউশিয়া এলাকা থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে।

১৩ ডিসেম্বর দুপুর ১টার দিকে মুক্তারপুর নৌ-ফাঁড়ির ধলেশ্বরী নদীতে এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ৩টি অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সিদ্বিরগঞ্জের শানারপাড়া বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মঞ্জু মুন্সীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

১০ ডিসেম্বর একই দিন মীরকাদিম পৌরসভার গোপনগর এলাকায় এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৮ ডিসেম্বর ধলেশ্বরী নদীর মোল্লারচর এলাকা থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের ২টি লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। পরদিন ৯ ডিসেম্বর এদের মধ্যে ১ জনের লাশ শনাক্ত হয়। নিহত আল-আমিন ঢাকা ৫০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি।

৬ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ সদর ও শ্রীনগর ২টি গুপ্ত হত্যা হয়। সদর উপজেলার চরাঞ্চল শিলই ইউনিয়নের আকাল মেঘ গ্রামের ইউপি সদস্য আমজাদ বেপারীর ছেলে মো. ওয়ালিদকে (৩৮) হত্যার পর লাশ গুম করা হয়। ৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চরবেশনাল গ্রামের একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

৫ ডিসেম্বর লৌহজং উপজেলার হারিদিয়া গ্রামের মৃত নাদু মিয়ার ছেলে শামীম (৩০) ঢাকার মিরপুরের ভাইয়ের বাসা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসার পথে নিখোঁজ হয়। পরদিন ৬ ডিসেম্বর শ্রীনগর উপজেলার হরপাড়া জামে মসজিদের টয়লেট থেকে তার লাশ উদ্দার করা হয়।

১০ নভেম্বর একই দিন সকাল ১০টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আন্ডার গ্রাউন্ড থেকে অজ্ঞাত পরিচয় (৫০) এক বৃদ্ধের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী খাল থেকে নিঁেখাজ হওয়ার ৩ দিন পর ২৪ অক্টোবর সকালে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র অপু খন্দকারের (১১) লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। শহরের উত্তর ইসলামপুর গ্রামের জামাল হোসেন (৪০) ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৩ অক্টোবর বিকেলে তার বস্তাবন্দি লাশ ধলেশ্বরী নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

১৫ অক্টোবর ভোরে মুন্সীগঞ্জ বালু মহালের কালেকশন করতে গিয়ে জামাল নিখোঁজ হয়। গত ১৫ অক্টোবর জেলার শ্রীনগর, লৌহজং ও সদর উপজেলায় অজ্ঞাত পরিচয় ৩ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন সকালে ক্ষেতেরপাড়া এলাকা থেকে ১৩-১৪ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন দুপুরে শহর উপকণ্ঠ কাঠপট্টি এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক তরুণীর (২২) লাশ উদ্ধার করে মুক্তারপুর নৌ-ফাঁড়ি পুলিশ। একইদিন শ্রীনগরের কামারগাঁও এলাকায় পদ্মা নদীতে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো এক যুবকের (২২) ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

১৩ অক্টোবর বিকেলে শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ৪ অক্টোবর ভোরে লৌহজংয়ের সাইনহাটি গ্রামের ডোবা থেকে এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নবজাতক সন্তানকে হত্যার পর লাশ গুম করার চেষ্টাকারী পিতা রাসেল (১৮)কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়। পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ এলাকা থেকে অপহৃত রাজিবের গুলিবিদ্ধ লাশ ২২ জুলাই ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সিরাজদিখানের এক ডোবা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। মুখ ও হাত নতুন গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় লাশটি পড়ে ছিল।

জাস্ট নিউজ