মুন্সিগঞ্জে গুম আর খুন করা লাশের সংখ্যা এখন ৪০

মুন্সিগঞ্জে লাশের ছড়াছড়ি চলছে। সপ্তাহে দুএকটা লাশ পাওয়া যায় না এমন দিন খুবই কম পাওয়া গেছে। হয় খালে, না হয় নদীতে, না হয় ডোবায় লাশ শুধু লাশ। তবে সবচেয়ে বেশী লাশ পাওয়া গেছে গত বৃহস্পতিবার। ৭টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। এদের মধ্যে ৩টি লাশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায়। ৩টি করে গুলি এবং ২টি গামছা প্রত্যেক লাশের সাথে ছিল। প্রথম দিকে লাশের কোন পরিচয় পাওয়া না গেলেও সন্ধ্যার পরে সকল লাশের পরিচয় পাওয়া যায়। জানা যায়, এরা কিলার গ্রুপের সদস্য। জুরাইনের ইব্রাহীম, কেরাণীগঞ্জের কুদ্দুস, মাসুদখাঁন। এরা সকলে ৩১ নাইটের আওয়ামী লীগ নেতা ইসমাইল হত্যা মামলার প্রধান আসামী।

মুন্সিগঞ্জে ৩ বছরে ৪০লাশ মিললেও পুলিশ এ পর্যন্ত কোন লাশের কুলু উদ্ঘাটন করতে পারেনি। মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে ভাসমান লাশ ভেসে থাকতে দেখা গেলেও উদ্ধার কাজে পুলিশের নিরব ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে। দুই দিন ভাসমান অবস্থায় থাকার পর সাংবাদিকরা খবর দেওয়ার পর এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে। পুলিশের ভাষ্য লাশ উঠালে নিজের পকেটের টাকা খরচ হয় তাই তারা লাশ উঠাতে অনিকা প্রকাশ করে। গুম, খুন করে লাশ ধলেশ্বরী নদীতে আর মুন্সিগঞ্জের বিলে ঝিলে ফেলে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা। বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী পুরুষ খুম করে খুন করে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে যায়। কারা ফেলে যায় এ পর্যন্ত একটি লাশেরও কোন কুলু বের করতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন। এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। মুন্সিগঞ্জবাসীর একটি আকুতি এভাবে আর কত লাশ মুন্সিগঞ্জের বুকে পাওয়া যাবে যার কোন হদিস পাওয়া যাবে না। এর একটি বিহীত চায় মুন্সিগঞ্জবাসী।


মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান ও শ্রীনগরে গুলি করে ৩ যুবককে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আসামি অজ্ঞাত রেখে ৩টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিরাজদিখান থানায় ২টি ও শ্রীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। নিহত ইব্রাহিমের পিতা খোরশেদ আলম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বাকী ২টি মামলার বাদী পুলিশের এস.আই আব্দুস সালাম ও আবু হানিফ।

তবে মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে পুলিশ এ হত্যার কারণ উদঘাটনে জোর তদন্ত শুরু করলেও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো কু উদ্ধার করতে পারেনি। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ ৩ যুবকের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল প্রেরণ করা হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইব্রাহিম ও কুদ্দুসের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাসুদের লাশ শুক্রবার ময়না তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর.এম.ও) ডা. এহসানুল করিম। এদিকে নিহত ইব্রাহিম, কুদ্দুস ও মাসুদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাদের বাড়িতে চলছে কান্নার আওয়াজে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে গেছে। শোকের মাতম চলছে দুই দিন ধরে।


নিহত ইব্রাহিমের পরিবার জানান, এ হত্যার ঘটনায় পুলিশ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে। মিডিয়ার কর্মীরা সহযোগিতা করলেই এ হত্যার বিচার পাওয়ার আশা করেন পরিবারের লোকজন। তাই তিনি বারবার মিডিয়ার সহযোগিতা কামনা করেছেন। সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, সিরাজদিখানের রশুনিয়া থেকে গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিম (২৫) ও কুদ্দুসের (৪০) লাশ উদ্ধার করে ২টি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। দুইটি মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

তিনি জানান, একটি মামলায় বাদী হয়েছেন ইব্রাহিমের পিতা খোরশেদ আলম এবং অপরটির বাদী হয়েছেন সিরাজদিখান থানার এস.আই আব্দুস সালাম। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে জোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত বা কি কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে এ বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, শ্রীনগরের বাড়ৈইখালি-শ্রীধরপুর এলাকা থেকে নিহত মাসুদের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শ্রীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।

এসআই আবু হানিফ বাদি হয়ে এ মামলা রুজু করেছেন। এ মামলায়ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে বলেও জানান ওসি মিজানুর রহমান। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের রশুনিয়া এলাকা থেকে ইব্রাহিম ও কুদ্দুস মিয়া ও শ্রীনগরের বাড়ৈইখালি-শ্রীধরপুর সড়কের পাশ থেকে মাসুদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। একই কায়দায় নতুন গামছা দিয়ে বেধেঁ ৩ জনকে গুলি করে হত্যা করে ঘাতকরা। বুধবার দিবাগত রাতে তাদের গুলি করে হত্যার পর মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান ও শ্রীনগরে ফেলে রেখে যায় বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

ইউপিবি নিউজ ২৪