মুন্সিগঞ্জে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে

sirajdikhan 1গড়ে উঠছে আবাসন প্রকল্প, কলকারখানা
আলু উৎপাদনে খ্যাত মুন্সিগঞ্জ। চাষ হয় ইরি, আমন ধানসহ নানা সবজি। সেই মুন্সিগঞ্জে কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ বছরে ৬৪ হাজার ৩১৩ একর কৃষিজমি কমেছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, নদীভাঙন, আবাসন প্রকল্প, শিল্প-কলকারখানা ও বাড়িঘর নির্মাণ বাড়ায় কৃষিজমি কমছে। এ কারণে জেলায় আলু, ধানসহ বিভিন্ন সবজির উৎপাদনও কমছে।

কৃষিজমি কমায় উদ্বিগ্ন সরকারও। ভূমিমন্ত্রী মো. রেজাউল করিম গত ২৭ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত দলিল হস্তান্তরকালে বলেছিলেন, ‘দেশে কৃষিজমিতে আবাসন ব্যবসা বন্ধ করা হবে। আবাসন ব্যবসার কারণে আমাদের কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। এ জন্য দেশে একসময় খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে। এ ব্যাপারে এখনই সজাগ হতে হবে।’
sirajdikhan 1
জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়সাল বলেন, ১৯৮৪ সালে জেলায় কৃষিজমির পরিমাণ ছিল এক লাখ ৬৬ হাজার ২৯১ একর। ২০০৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় এক লাখ ১৭ হাজার ৬৭৭ একরে। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে ২০১১-১২ সালে কৃষিজমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ এক হাজার ৯৭৮ একরে।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মুন্সিগঞ্জের চারপাশে পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতী নদী। দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর ভাঙনে লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় প্রচুর কৃষিজমি বিলীন হয়েছে। কৃষিজমি কমার এটাও অন্যতম কারণ।

সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশে সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলায় কমপক্ষে ১০টি আবাসন প্রকল্পের সাইনবোর্ড। ওই আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষিজমি কিনে সেখানে আবাসন প্রকল্প তৈরি করছে বলে জানা গেছে। গজারিয়ার বাউশিয়ায় কৃষিজমি বিনষ্ট করে গড়ে উঠছে ওষুধ নির্মাণ প্রকল্পসহ নানা শিল্প-কলকারখানা।


সিরাজদিখানের নিমতলী এলাকার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেভাবে বড় বড় কোম্পানি কৃষিজমি কিনছে, একদিন ওই সব এলাকায় কোনো কৃষিজমি থাকবে না। কয়েক বছরে সেখানে বাড়িঘর, নয়তো কলকারখানা হয়ে যাবে। সরকার শিগগিরই সুষ্ঠু পরিকল্পনা না নিলে একদিন কৃষিজমি হারিয়ে কৃষিপণ্যের সংকট দেখা দেবে।’

যোগাযোগ করলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবাসন প্রকল্প, শিল্প-কলকারখানা ও জমিজমা ভরাট করে বাড়ি নির্মাণের ফলে কৃষিজমি বিনষ্ট করা হচ্ছে। এর মধ্যে জেলার সিরাজদিখান, গজারিয়া, শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলায় আবাসন প্রকল্প বেশি দেখা যাচ্ছে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আয়াতুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবাসন প্রকল্প ও কলকারখানার কারণে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে ঠিক; তবে অকারণে যাতে কৃষিজমি বিনষ্ট করে ঘরবাড়ি ও কলকারখানা নির্মাণ ও আবাসন প্রকল্প গড়ে না ওঠে, সেদিকে আমাদের লক্ষ রাখতে হবে।’

তানভীর হাসান – প্রথম আলো