টঙ্গিবাড়ীতে অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ২

Imranঅপহরণের ৫ দিন পর মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর বালিগাওঁ এলাকা থেকে অপহৃত স্কুলছাত্র ইমরান হালদার (১৪)-কে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার সকাল ৭টার দিকে নারায়রনগঞ্জের কাচঁপুর ব্রীজের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে শনিবার রাতে কামাল (২২) ও বেলাল(২০)-কে সাভারের আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে টঙ্গিবাড়ী পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানায়, অপহরণকারীরা সেলফোনের মাধ্যমে স্কুল ছাত্রের পরিবারের কাছে প্রথমে পরে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এতে ১০ লাখ টাকার চুক্তি হয়। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার আশুলিয়ার ডাচবাংলা ব্যাংক শাখায় স্কুল ছাত্রের পরিবার অপহরণকারীদের একাউন্টে ২ লাখ টাকা পাঠায়।
Imran
এ ঘটনার সুত্র ধরে টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশ তৎপর হয়ে উঠেন। এরপরই ঢাকার আশুলিয়া থেকে কামাল ও বেলালকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণকারীরা রোববার সকালে স্কুলছাত্র ইমরানকে কাচঁপুর ব্রীজের কাছে ছেড়ে দেয়। এ খবর পেয়ে টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুল ছাত্র ইমরানকে উদ্ধার করে টঙ্গিবাড়ী থানায় নিয়ে যায়। টঙ্গিবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) মো. খলিলুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত কামাল ও বেলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া স্কুল ছাত্র ইমরান থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় রোববার সকালে স্কুলছাত্রের চাচা শহীদ হালদার বাদি হয়ে অপহরণ মামলা রম্নজু করেছেন। উলেস্নখ্য, গত ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় টঙ্গিবাড়ীর বালিগাঁও গ্রাম থেকে স্কুল ছাত্র নিখোঁজ হয়। পরদিন পরিবারের সদস্যদের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে অপহরণকারীরা।

টিএনবি
=======================

টঙ্গীবাড়ী হতে অপহৃত স্কুল ছাত্র ইমরান উদ্ধার

৬ দিনের জিম্মি নাটকের অবসান
ব.ম শামীম: রোববার সকাল ৭.৩০ মিনিট হতে টঙ্গীবাড়ী থানায় উৎসুক জনগণ ভিড় জমাতে থাকে। ইমরানের আত্মীয়-স্বজনরা গভীর উৎকন্ঠা নিয়ে থানার সামনে দাড়িয়ে আছে। তবে ইমরানের মা ময়না বেগম থানায় আসতে পারেনি। ৬ দিনে একটি দানাও মুখে দেয়নি সে। তাই বিছানা হতে উঠে আসার ক্ষমতা নাই তার। থানার সামনে দাড়ানো ইমরানের ৫ খালা জানালেন, ইমরানের মাকে স্যালাইন লাগিয়ে রাখা হয়েছে। বাবা ওয়াহিদ হাওলাদার ষ্টোক করেছে সেও সজ্জাসায়ী। সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সকাল ১০টায় ইমরানকে নিয়ে থানায় হাজির হয় পুলিশ।


এ সময় আত্মীয়-স্বজনদের চোখে আনন্দের অশ্র“ বয়ে যায়। টঙ্গীবাড়ী থানা ওসি এস এ খালেক জানান, মোবাইল ষ্টাকিং এর মাধ্যমে ২ অপহরণকারী বিল্লাল (১৮) ও কামাল হোসেন (৩০) কে আশুলিয়ার বাদাইল বাজার হতে গ্রেফতার করা হলে অপহরণকারীরা ইমরানকে কাচঁপুর ব্রীজের উপর ছেড়ে দিয়ে যায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আহসান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী বিল্লাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালে আপহরণকারীরা রোববার সকালে ইমরানের বাবা ওয়াহিদ হাওলাদারের মোবাইলে ফোন করে জানান, তারা ইমরানকে কাচঁপুর ব্রীজের উপর ছেড়ে দিয়ে গেছে। ইমরানের বাবার দেওয়া তথ্য অনুসারে ইমরানকে কাচঁপুর ব্রীজের উপর হতে পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ইমরান জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধায় ১৭-১৮ বয়সের একটি ছেলে তাকে খেলার মাঠ হতে ডেকে নিয়ে বলে, তোমার নামইতো ইমরান। তোমার সাথে আমার ২ ভাই ইতালিতে থাকে। চলো আমার খালা আসছে সে তোমার সাথে কথা বলবে।

বলে ইমরানকে অদূরে দাড়িয়ে থাকা অজ্ঞাত মহিলার সামনে নিয়ে গিয়ে আপহরণকারী সদস্য বলেন, এই যে খালা ইমরানকে নিয়ে এসেছি। এ সময় আপহরণ চক্রের মহিলাটি ইমরানের ইতালি প্রবাসি দুই ভাইয়ের নাম জানিয়ে বলে , তোমার দুই ভাইয়ের সাথে আমার এক ছেলেও ইতালিতে থাকে । আমার ছোট ছেলেকে তোমাদের স্কুল ভর্তি করাবো আমার সাথে তোমাদের স্কুল চলো। এই বলে ইমরানের স্কুল শিক্ষকের কাছে ইমরানকে নিয়ে যায় উক্ত মহিলা। স্কুল শিক্ষক ভর্তির ব্যাপারে পরে তার সাথে যোগাযোগ করতে বললে অপহরণ চক্রের মহিলা তার ছেলের বই কিনার কথা বলে রিক্রায় উঠিয়ে একটি প্রাইভেটকারের সামনে নিয়ে যায় ইমরানকে। পরে প্রাইভেটে থাকা ড্রাইভার সহ মোট ৪ অপহরণকারী তাকে জোর করে প্রাইভেট কারে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় সে কান্নাকাটি করলে তার হাত ও পা বেঁেধ রাখা হয়। পরে রাত ১১ টার দিকে তাকে এক বাসায় নিয়ে তাকে আটকে রাখে অপহরণকারীরা। ৬ দিন পর রোববার সকালে অপহরণকারীরা তাকে নারায়নগঞ্জের কাঁচপুর ব্রীজে ছেড়ে দিয়ে যায়।

পুলিশ জানান, নরসিংদি জেলার অজ্ঞাতনামা কোন এক স্থানে ইমরানকে আটকে রাখা হয়েছিলো । ইমরানের পিতা ওয়াহিদুর রহমান জানান, এলাকার কতিপয় ব্যাক্তি বর্গের সহয়তায় ইমরানকে অপহরণ করে তার কাছে প্রথমে ১ কোটি পরে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপনদাবী করে অপহরণকারীরা। সে আরো জানায়, বর্তমানে ইমরান সুস্থ রয়েছে।

উল্লেখ্য ,মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও গ্রাম হতে বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের অস্টম শ্রেণীর ছাত্র ইমরান হাওলাদার (১৪) কে গত মঙ্গলবার অপহরণ করে নিয়ে যায় একটি অপহরণকারী চক্র।

==================

টঙ্গিবাড়ীতে অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ২

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর বালিগাওঁ এলাকা থেকে অপহৃত স্কুলছাত্র ইমরান হালদারকে (১৪) অপহরণের ৫ দিন পর নারায়রণগঞ্জের কাচঁপুর ব্রিজের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার সকালে ইমরানকে উদ্ধার করে টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশ। এর আগে পুলিশ অপহরণের ঘটনায় জড়িত কামাল ও বেলাল নামে দু’জনকে সাভারের আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, ৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক খোজাঁখুজির করেও ইমরানকে না পাওয়ার পর অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিবারকে অপহরণের ঘটনা জানায়।

এ সময় অপহরণকারীরা ইমরানের পরিবারের কাছে প্রথমে ৫০ লাখ ও পরে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।


পরে অপহরণকারীদের সঙ্গে ইমরানের পরিবারের ১০ লাখ টাকার চুক্তি হয়। এর মধ্যে অপহরণকারীদের একাউন্টে ২ লাখ টাকা পাঠায় ইমরানের পরিবার।

এ বিষয়টি জানতে পেরে টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশ কৌশলে তা পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। এর প্রেক্ষিতেই শনিবার ঢাকার আশুলিয়া থেকে প্রথমে কামালকে ও তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেলালকে গ্রেফতার করা হয়।

এতে গ্রেফতারকৃতদের স্বজনরা ইমরানের পরিবারের সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চালায়।

এরই সূত্র ধরে রোববার সকালে স্কুলছাত্র ইমরানকে নারায়নগঞ্জের কাচঁপুর ব্রিজের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ খবর পেয়ে টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে টঙ্গিবাড়ী থানায় নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী থানা পরিদর্শক মো. খলিল বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত কামাল ও বেলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের সঙ্গে জড়িতদের নাম ও পরিচয় উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া স্কুল ছাত্রকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ৯ জানুয়ারি টঙ্গিবাড়ী থানায় জিডি রুজু করা হলেও রোববার সকালে স্কুলছাত্রের চাচা শহীদ হালদার বাদী হয়ে অপহরণ মামলা রুজু করেছেন।

উল্লেখ্য, ইমরান হালদার বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। সে বালিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ওয়াহিদ হালদারের ছেলে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
=====================