পাপুয়া নিউগিনি থেকে বাংলাদেশি শ্রমিকের লাশ দেশে পৌঁছেছে

lavluঅস্ট্রেলিয়া মহাদেশের পাপুয়া নিউগিনিতে মালিকপক্ষের অবহেলার শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রমিক লাভলু হাসানের (৪২) লাশ হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ালাইন্সের একটি ফ্লাইটে লাভলুর লাশ আনা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। নিহত লাভলু হাসানের বোন জামাই শরীফ হাসান ও ভাই আব্দুল আউয়ালসহ স্বজনেরা লাশ গ্রহণ করে গাড়িতে করে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

লাভলু হাসানের ভাই আব্দুল আউয়াল শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় বাংলানিউজকে জানান, লাভলু হাসানের লাশ গাড়িতে ওঠানো হয়েছে। রাতের মধ্যেই লাশ নিজ বাড়িতে নেওয়া হবে।


এদিকে লাভলু হাসানের মৃত্যু ও লাশ নিয়ে আসার খবরে স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল চলছে। তারা এখন অপেক্ষার প্রহর গুণছেন, কখন লাশ বাড়িতে আসবে লাভলু হাসানের।

লাভুল হাসানের ভাই মো. নুরুল হক রাতে জানান, বোন জামাই শরীফ হাসান ও ছোট ভাই আব্দুল আউয়ালসহ বেশ কয়েকজন স্বজন লাশ আনতে হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ চলছে।

গত রোববার পাপুয়া নিউগিনিতে বাংলাদেশি শ্রমিক লাভলু হাসান চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেন। শুক্রবার রাতে ৫ দিনের মাথায় লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
lavlu
জানা গেছে, ২ বছর আগে সাড়ে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার রনছ রুহিতপুর গ্রামের আব্দুল মালেক মাদবরের ছেলে লাভলু হাসান পাপুয়া নিউগিনিতে গিয়ে আবুল কালাম নামের এক বাংলাদেশির মালিকানাধীন কে আর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগদান করেন।

গত ৩ মাস আগে লাভলু হাসান অসুস্থ হয়ে পড়েন। মালিকপক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি যুবক লাভলু হাসানকে চিকিৎসা দেওয়া থেকে বিরত থাকে। এতে অসুস্থ অবস্থায় লাভলু হাসান হ্যাপি প্রতিষ্ঠানের ওপরে থাকার ঘরে বসবাস করছিলেন।


মৃত লাভুলু হাসানের ভাই মো. নুরুল হক জানান, মালিক আবুল কালাম অসুস্থ লাভলু হাসানের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেননি। চিকিৎসার অভাবে লাভলু হাসান গত রোববার মৃত্যুবরণ করলে ৪ দিন তার লাশ পাপুয়া নিউগিনির হিমঘরে রাখা ছিল।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম