হুমকিতে সেতু সহ বিদ্যুতের টাওয়ার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

ধলেশ্বরীতে বালু উত্তোলনে অনিয়ম
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার কাঠপট্টি ঘাটের কাছে ধলেশ্বরী নদীতে খননযন্ত্র দিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ষষ্ঠ বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সেতু (মুক্তারপুর সেতু), মিরকাদিমে বিদ্যুতের সাবস্টেশন, বৈদ্যুতিক টাওয়ার, মিরকাদিম নদীবন্দর, কাঠপট্টি ঘাটে বিভিন্ন কাঠের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিনোদপুরের চালের আড়ত, ক্রাউন সিমেন্ট কারখানাসহ দুই পাশের বহু শিল্প-কারখানা।

অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে রাজস্বও হারাচ্ছে সরকার। এ ছাড়া ওই মহল সুযোগ পেলেই বালু উত্তোলন করতে মুন্সিগঞ্জ পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জের সীমানায় ঢুকছে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় আড়াই মাস ধরে মিরকাদিম পৌরসভার ধলেশ্বরী নদীতে প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বালু উত্তোলন। সাত-আটটি খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলার পর যন্ত্রগুলো প্রতিদিন সন্ধ্যায় কাঠপট্টি নতুনঘাটের কাছে নোঙর করে রাখা হয়। মাঝে মাঝে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গোগনগর এলাকায় বালু তোলার সময় চরের লোকজন ধাওয়া দিলে তারা যন্ত্র নিয়ে মুন্সিগঞ্জ সীমানায় চলে আসে। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও তারা নারায়ণগঞ্জের সীমানায় ঢোকে।

স্থানীয় ভূমি কার্যালয় সূত্র জানায়, কাঠপট্টি লঞ্চঘাটের কাছে তিলার্দি ও রিকাবীবাজার মৌজার যে স্থানে বালু তুলছে, সেখান থেকে বালু তোলার ইজারা দেয়নি জেলা প্রশাসন। তবে মেসার্স আবদুল হাই অ্যান্ড সন্স নামের প্রতিষ্ঠানকে এই স্থান থেকে কমপক্ষে দেড় কিলোমিটার দূরে তেলখিরা, ইমামচর ও কুমারিয়া মৌজায় বালুমহালে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক হচ্ছেন সদর উপজেলার সোলারচর গ্রামের মো. আবদুল হাই সরকার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মো. আবদুল হাই সরকারের সঙ্গে স্থানীয় মিরকাদিম এলাকার আরিফ মিজি, সাহাবুদ্দিন বদু ও নারায়ণগঞ্জের দেলোয়ার হোসেনসহ একটি প্রভাবশালী মহল জড়িত।

মো. আবদুল হাই সরকার বালু তোলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কাঠপট্টি ঘাটের কাছে বালু উত্তোলন করছে তাঁদেরই আরেকটি প্রতিষ্ঠান মৌমিতা ট্রেডার্স। তার জন্য হাইকোর্টের একটি আদেশ আছে। সেই আদেশবলে তাঁরা বালু তুলছেন। এর ইজারা নেওয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাছ থেকে।

সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবণী চাকমা জানান, ‘মেসার্স আবদুল হাই অ্যান্ড সন্সকে আমাদের সার্ভেয়ার গিয়ে তাদের মহালের সীমানা বুঝিয়ে দিয়েছে। কাঠপট্টি ঘাট থেকে সেই সীমানা হবে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে। আমাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে, তারা সীমানা থেকে অনেক দূরে কাঠপট্টি ঘাটের কাছে বালু তুলছে। আমি বিষয়টি সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

মৌমিতা ট্রেডার্সের নামে হাইকার্টের অনুমতি প্রসঙ্গে বলা হয়, এমন কোনো আদেশের কপি তাদের কাছে নেই। নারায়ণগঞ্জ নৌবন্দরের বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা) বাবু লাল বৈদ্য বলেন, ‘হাইকোর্টের কোনো আদেশের কপি মৌমিতা ট্রেডার্স তাঁদের কাছে দেয়নি। এ ছাড়া হাইকোর্ট তাদের বালু তোলার অনুমতি দিয়েছে কি না, তা আমরা জানি না।’

মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম জানান, ‘কাঠপট্টি ঘাটের কাছে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এ কারণে কাঠপট্টি ঘাটে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুতের টাওয়ার হুমকির মুখে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরাও শঙ্কিত। এ ব্যাপারে শিগগিরই ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করব।’

তানভীর হাসান – প্রথম আলো