মুন্সীগঞ্জে মহাজোট কাগজেই

মামুনুর রশীদ খোকা: সরকারের চার বছরে রাজধানীর উপকণ্ঠ মুন্সীগঞ্জে শরিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের আসনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দূরত্ব বেড়েছে। এতে এ জেলায় মহাজোট আছে কি নেই এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মহাজোটের শরিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ পর্যন্ত হয় না আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির (এরশাদ) নেতাকর্মীরা আলাদা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাপা জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা পর্যন্ত করেছে। নির্বাচনের লক্ষ্যে জাপা সম্ভাব্য গণসংযোগও করছে এ জেলায়। এ ছাড়া জাসদ (ইনু), সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টিসহ মহাজোটের অন্যান্য শরিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নেই আওয়ামী লীগের।


কার্যত, মুন্সীগঞ্জ জেলার ছয় উপজেলাজুড়ে মহাজোট রয়েছে কেবল কাগজেই। বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, মহাজোটের শরিকদের কারও সঙ্গে কারও দেখাও হয় না। মহাজোটের কোনো বৈঠক পর্যন্ত হয় না মুন্সীগঞ্জে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা থেকে পাতি নেতার সঙ্গেও মহাজোটের শরিক দলের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ নেই। এমনকি দলীয় তিনটি আসনের আওয়ামী লীগের নির্বাচিত তিন সংসদ সদস্যের সঙ্গেও শরিকদের বিচ্ছিন্ন সম্পর্ক বিরাজমান। এদিকে বঙ্গবন্ধুর চিফ সিকিউরিটি গার্ড ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের ছেলে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ফয়সাল আহমেদ বিপ্লব মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমানও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মহাজোটের দুই শরিকের এ দুই প্রার্থীর কারণে ভোটের লড়াইয়ে মাঝখান দিয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র বাগিয়ে নেয় প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। শহর বিএনপির সভাপতি একেএম ইরাদত মানু মহাজোটের দুই শরিক প্রার্থীকে টেক্কা দিয়ে বিজয়ী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। সেই থেকে মহাজোটের শরিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীতল সম্পর্ক চলে আসছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকায় জেলার ছয় উপজেলার সর্বত্র শরিক দলের নেতাকর্মীরা সরকারের ভেতর-বাইরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। স্বল্প পরিসরে চলছে জাসদসহ শরিক দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মতৎপরতা।

এদিকে, গত বছরের শেষদিকে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম নিজেকে জাপার আগামী সংসদ সদস্য প্রার্থী পরিচয়ে জেলার শ্রীনগর ও সিরাজদীখান উপজেলাজুড়ে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। মুন্সীগঞ্জ-২ ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে গণসংযোগ চোখে না পড়লেও এ দুটি আসনেও জাপা দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। জাসদ (ইনু) নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে পাতি নেতারা পর্যন্ত চেনেনই না_ এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা।


শহর জাসদের সভাপতি মাসুদ অর্ণব বলেন, বামদের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দিলেও মুন্সীগঞ্জ জেলায় তাদের কখনও খোঁজখবর নিচ্ছেন না আওয়ামী লীগ নেতারা। শরিকদের সঙ্গে সম্পর্কের এমন বাজে অবস্থার কারণে মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ধরাশায়ী হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেছেন অনেকে। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফছার উদ্দিন ভূঁইয়া আফছু বলেন, ‘শরিক দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নেই মুন্সীগঞ্জে। এখানে শরিকদের মধ্যে বেশিরভাগ দলেরই নেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি। তারাই তো আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছেন না।’

শরিকদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার দরকার রয়েছে বলে মনে করেন আওয়ামী-মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সোহাগ। তিনি বলেন, দল যতই ছোট হোক, শরিক মানেই সে আমার বন্ধু। কাজেই বন্ধুর খবর বন্ধু নেবে, এটাই স্বাভাবিক।

সমকাল