ঢাকা-মাওয়া-মুন্সীগঞ্জ মহাসড়কে অনিদিষ্টকালের বাস ধর্মঘট

বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসা না হওয়ায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ও ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে বাস চলাচল। সোমবার দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ঢাকার জয়কালি মন্দির এলাকায় অবস্থিত বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে উভয়পক্ষের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়। এতে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আসতে পারেননি নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। তবে তিনি বৈঠকে উপস্থিত উভয়পক্ষের নেতাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে দফায় দফায় দিকনির্দেশনা দেন। কিন্তু তারপরও কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিবদমান দু’টি পক্ষ।

ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতি নুরু মিয়া বৈঠক শেষে বাংলানিউজকে জানান, বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ও ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখার পূর্ব সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে।

তিনি জানান, বাস মালিক ও শ্রমিকদের দু’টি সংগঠন থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রী শাজাহান খান মুন্সীগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন নামে নতুন একটি সংগঠনের অনুমোদন দিয়েছেন। এ সংগঠনটি শুক্রবার বিকেল থেকে শ্রমিক কল্যাণের নামে চাঁদা আদায় শুরু করলে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও জানান, এর জের ধরে গত শনিবার শ্রমিকদের মারধর করে নুতন সংগঠনের শ্রমিকরা।

এরপরই আগের সংগঠন এক বৈঠকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবার সকাল থেকে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।


এদিকে, সোমবার বিরোধ মীমাংসার জন্য বৈঠক করা হয়। বৈঠকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো কথা বলেননি।

এছাড়া বৈঠকে বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকলেও নৌপরিবহন মন্ত্রীর অনুমোদন দেওয়া নতুন সংগঠন মুন্সীগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কেউ উপস্থিত ছিল না।

উল্লেখ্য, চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে শ্রমিক ইউনিয়নের পুরনো সংগঠন ২টির সঙ্গে নতুন সংগঠনের বিরোধের জের ধরে গত শনিবার থেকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের কয়েকটি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে সোমবার সকাল থেকে আবারও ওই মহাসড়কে চলাচলরত সব পরিবহনের লোকাল বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম