মাওয়া-গুলিস্তান রুটে যান চলাচল বন্ধ

পরিবহন শ্রমিকদের কল্যাণের নামে বাসপ্রতি ৩০ টাকা করে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে মাওয়া-গুলিস্তান সড়কে শনিবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে পদ্মা পাড়ি দিয়ে আসা ফেরি, লঞ্চ, ট্রলার ও সিবোটে আসা যাত্রীসহ দক্ষিণবঙ্গের হাজারো যাত্রীকে শনিবার সকাল থেকেই মাওয়া ও গুলিস্তান পয়েন্টে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নিরুপায় এসব যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাওয়া ঘাটে দীর্ঘ লাইনে আটকে থাকতে হয়েছে।

একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তারা মাওয়া-যাত্রাবাড়ী রুটে চলাচল করছেন। এ সুযোগে একশ্রেণীর লোকাল পরিবহন বাড়তি ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্ল্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আগের দিন শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক কমিটি (রেজি. নং-৩০২৫) মাওয়া চৌরাস্তায় গাঙচিল পরিবহন থেকে বাসপ্রতি চাঁদা আদায় শুরু করলে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক কমিটি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-বি-৪৯৪) সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় উভয় সংগঠনের শ্রমিকদের মধ্যে মাওয়া ও বালিগাঁও স্ট্যান্ডে মারধরের ঘটনা ঘটলে মুন্সীগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক কমিটির শ্রমিক মনির ও খোকন আহত হয়। চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকে মাওয়া ও ঢাকার গুলিস্তান বাসস্ট্যান্ড থেকে ৮-৯টি পরিবহনের শত শত বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সমর্থিত বাস মালিকরা। এছাড়া শনিবার দুপুরে একই সংগঠনের আনন্দ পরিবহনের এক বাসশ্রমিককে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


মুন্সীগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম জানান, বৈধভাবেই জেলা পরিবহন বাস মালিক-শ্রমিক সমিতি ও গাঙচিল পরবিহনের নেতৃবৃন্দের কাছে লিখিতভাবে শ্রমিক কল্যাণের টাকা চাওয়া হয়। চাঁদা দেয়ার ব্যাপারে লিখিতভাবে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের সময় বেঁধে দেয়া হলেও তারা শ্রমিকদের কল্যাণের চাঁদা না দিয়ে আমাদের শ্রমিকদের মারধর করে।

অপরদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন আঞ্চলিক শাখার সভাপতি বকুল খান জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহাসড়কে দক্ষিণবঙ্গের পরিবহন থেকে চাঁদা তোলার এখতিয়ার তাদের নেই। তারা আন্তঃজেলার সড়কগুলোতে এ টাকা তুলতে পারবে। মাওয়া নৌফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খন্দকার খালিদ হোসেন জানান, ওই দুটি পরিবহন সংগঠনের বিরোধকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে মাওয়া ও ঢাকার গুলিস্তান বাসস্ট্যান্ড থেকে পরিবহনের বেশকিছু বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরমধ্যে ভিআইপি, আনন্দ ও গাঙচিল ঢাকার গুলিস্তান যাচ্ছে না।

এদিকে সকাল থেকে সড়কে বিআরটিসি ও প্রচেষ্টাসহ অন্যান্য নামে দুটি পরিবহনের বাসগুলো চলাচল করলেও ইলিশ, গাংচিল, গুনগুন, গোধূলী, আনন্দ, গ্রেট বিক্রমপুর ভিআইপিসহ আরো কয়েকটি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দক্ষিণবঙ্গের হাজারো যাত্রীকে শনিবার সকাল থেকেই মাওয়া ও গুলিস্তান পয়েন্টে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জাস্ট নিউজ