গণতান্ত্রিক আন্দোলন

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
বাংলা ভাষা কতটা প্রচলিত হচ্ছে তার নিরিখে বিচার করলেই বোঝা যাবে গণতন্ত্রের দিকে আমরা কতটা এগিয়েছি, কিংবা এগোইনি। শিক্ষা মোটেই সর্বজনীন হয়নি এবং শিক্ষিতরাও বাংলা ভাষা চর্চায় যে অত্যন্ত অধিক আগ্রহ দেখাচ্ছেন তা নয়। বীর এখন তিনিই যিনি ইংরেজি ভালো জানেন। না, উর্দুর পক্ষে এখন কেউ বলবে না; কিন্তু বাংলার পক্ষে আন্তরিকভাবে বলবেন এমন মানুষও কম। কেননা আন্তরিকভাবে বলার অর্থই হলো সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বলা, সেই কাজ সোজা নয়। পুঁজিবাদ ও মৌলবাদ একইসঙ্গে তৎপর এখানে। এদেশে একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং গড়ার পরেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া_ স্বাধীনতা, মৈত্রী ও সাম্যের লক্ষ্যে এটা সহজ কাজ নয়।

তবে এটাই আমাদের মুক্তির পথ।সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী গণতন্ত্রের বাজার এখন খুবই ভালো। তার চাহিদা চতুর্দিকে। কিন্তু হট্টগোল যতোই হোক প্রশ্ন তো থাকেই যে গণতন্ত্র জিনিসটা কী। বাজারের অনেকে বলছেন গণতন্ত্র হচ্ছে সমাজতন্ত্রের উল্টো বস্তু। বলছেন সমাজতন্ত্রই হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রধান শত্রু। আগেও বলতেন, এখন বলেন বেশি করে। কথাটা অবশ্যই মিথ্যা, সত্য বরঞ্চ রয়েছে বিপরীত মেরুতে। সত্য হলো, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র একই পথের যাত্রী, উভয়েই সাম্য চায়, সমাজতন্ত্র আরো কিছুদূর যেতে চায়, সাম্য নিশ্চিত করে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে।

গণতন্ত্রের মূল বিষয়টা যে সাম্য এটা শুনলে বাজারীরা তা বটেই, আপাত গণতন্ত্রীদের অনেকেও ক্ষেপে ওঠেন। হয়তো মনে করে স্ফীত যে তার মাংস বেড়ে নেয়ার কথা বলা হচ্ছে, মেধাবী যে তার বুকের ওপর বন্দুক ঠেকানোর উস্কানি তৈরি হচ্ছে। আসলে তা নয়। গণতন্ত্র চায় অধিকার ও সুযোগের সাম্য, সবাই স্ফীত না হোক সবাইকে সে অন্তত স্বাস্থ্যবান হওয়ার অধিকার দিতে আগ্রহী; মেধাবী কে কতোটা হবে পরে দেখা যাবে, গণতন্ত্র বলবে সবারই সুযোগ থাকা চাই আপন আপন মেধা বিকাশের। এ গণতান্ত্রিক সাম্যের প্রয়োজনে একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দরকার হয়।


খুব মোটা ও সাধারণ করে বলতে গেলে বলা যাবে, গণতন্ত্র এক ধরনের সরকার বটে, রাষ্ট্র অবশ্যই, সমাজও নিঃসন্দেহে, কিন্তু সবাইকে ছাড়িয়ে গণতন্ত্র হচ্ছে একটি সংস্কৃতি, যা না থাকলে সরকার টিকবে না, রাষ্ট্র পরিণত হবে পীড়নের যন্ত্রে, সমাজ হয়ে দাঁড়াবে অগণতান্ত্রিক। আজকের দিনে এ সত্যও কেউ অস্বীকার করবেন না যে, সংস্কৃতি সভ্যতার চেয়েও বাস্তবিক। সভ্যতা আছে কি নেই তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা চলতে পারে, সভ্যতার ধারণাটাকেই কিংবদন্তি বলা সম্ভব, কিন্তু সংস্কৃতি যে অনস্বীকার্য সেটা না মেনে উপায় নেই। আসলে সভ্যতার যে অংশ মানুষের অন্তর্গত স্বভাবে পরিণত হয় সেটাই হচ্ছে মানুষের সংস্কৃতি। সংস্কৃতি প্রত্নতাত্তি্বক নয়, জীবন্ত। তা না হয় বুঝলাম কিন্তু গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিটা কী? এ সংস্কৃতি চরিত্রগতভাবেই সামন্তবাদবিরোধী।

গণতন্ত্র মানুষকে ব্যক্তি হিসেবে স্বীকার করে আর সামন্তবাদ করে বিপরীত কাজ, ব্যক্তিকে সে ব্যক্তিত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে দেয় না, চেপে ধরে। তাকে সে আটকে রাখে একটি স্থবির অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও অন্ধকারাচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক পরিম-লের সংক্ষিপ্ত কারাগারে। অন্ধ আনুগত্য, গাঢ় কুসংস্কার ও অতিগভীর অদৃষ্টবাদের অন্তর্ঘাতে কাবু করে ফেলে ভেতরে থেকে। সামন্তবাদের এ ব্যবস্থায় অধিপতিরাও স্থূল ও দাম্ভিক হয়, বুর্জোয়াদের মতো চটপটে হতে পারে না। এ পশ্চাৎপদ সামন্তবাদকে ভেঙেই আধুনিক বিশ্বে গণতান্ত্রিক বোধের অভ্যুদয়। ওই পুঁজিবাদ ব্যক্তিকে ব্যক্তিত্বের বোধ দিতে চেয়েছে এবং ব্যক্তির মধ্যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার উন্মেষ ঘটিয়েছে। অধিপতিদের মধ্যে ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতার যে ধারণা ছিল তাতেও চিড় ধরিয়ে দিয়েছে সে। বাধ্য করেছে সীমিত ক্ষেত্রে হলেও ভোটের অধিকার দিতে। কিছুটা হলেও মালিককে আপস করতে হয়েছে শ্রমিকের সঙ্গে। ফরাসি বিপ্লব গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারেই স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রীর আওয়াজ তুলেছিল দু’শ বছর আগে।

কিন্তু সাম্য দিতে পারেনি, তাই প্রকৃতঅর্থে গণতন্ত্রও দেয়নি। আকাঙ্ক্ষা জাগিয়েছে, পূরণ করেনি। কেননা সব মানুষকে সে সমাজ অধিকার ও সুযোগ দিতে পারেনি। নির্বাচন দিয়েছে, ক্ষমতা দেয়নি, বংশের জোরের জায়গায় টাকার জোর একটা অগ্রগতি বটে, তবে এও অভিজাতদেরই শাসন আমলে। তফাৎ এই যে, এই নতুন অভিজাতেরা বুর্জোয়া, আধুনিক ও চটপটে। পুঁজিবাদ এখন সাম্রাজ্যবাদের রূপ নিয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন প্রমাণ করলো সাম্রাজ্যবাদ কতোটা শক্তিশালী। তার অস্ত্রবল আছে, অর্থবল তো রয়েছেই, আরো আছে পুঁজিবাদী ধ্যান ও ধারণার অন্তর্ঘাতী শক্তি প্রয়োগে সূক্ষ্ম ও গভীর দক্ষতা। ভাষা আন্দোলন আমাদের প্রথম গণতান্ত্রিক আন্দোলন। এবং তার এই চরিত্র গ্রহণের প্রধান কারণ সে ছিল সামন্তবাদবিরোধী। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল একটি আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে।

লক্ষ্য ছিল ওই রাষ্ট্রকে স্থায়ী করার উদ্দেশ্যে দেশের অভ্যন্তরে একটি সামন্ততান্ত্রিক সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা; এ জন্য তার অধিপতিরা ধর্মকে খুব শক্ত করে অাঁকড়ে ধরেছিল। নিজেরা মোটেই ধার্মিক ছিল না, সাহেব-সুবোই ছিল একেকজন, কিন্তু জনগণকে সামন্তবাদের কারাগারে বন্দি রাখার অভিপ্রায়ে তারা বলেছিল, পাকিস্তান হবে ইসলামী রাষ্ট্র। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষেও তাদের যুক্তি ওই একটাই, উর্দু বাংলার তুলনায় অধিক ইসলামী; নইলে উর্দু পাকিস্তানের অধিকাংশ নাগরিকের ভাষাও ছিল না এবং বাংলার তুলনায় উন্নতও ছিল না। বাংলাকে তারা বলতো পৌত্তলিক ভাষা। বাংলা বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা নয়, তাদের মাতৃভাষা উর্দু এ সাংস্কৃতিক প্রচারণা পাকিস্তান হওয়ার আগেই শুরু করা হয়েছিল, পাকিস্তান হওয়ার পর জানা হলো যে বাংলার যোগ্যতা নেই পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হওয়ার। একমাত্র হওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না, অন্যতমও নয়। আরবি হরফে বাংলা লেখার যে চেষ্টা হয়েছিল সেটাও বাংলাকে উর্দুর দ্বিতীয় স্তরে পরিণত করার ইচ্ছা থেকেই উদ্ভূত ছিল।

ভাষা আন্দোলন সরাসরি আঘাত করলো সামন্ত সংস্কৃতিকে জোরদার করার ওই রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের গোড়াতে। ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের জায়গায় সে নিয়ে এলো ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে। সন্দেহ নেই যে, এ অত্যন্ত বড় ব্যাপার। এর তাৎপর্য প্রথমে স্পষ্ট হয়নি। ধীরে ধীরে, বর্ষে বর্ষে উজ্জ্বল হয়েছে। সামন্তবাদী সংস্কৃতির বিস্তৃত জটাজালকে ছিন্ন করে সে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলো ব্যক্তির পক্ষে ব্যক্তি হিসেবে বিকশিত হওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার। তার ভাষার অধিকার। কিন্তু কেবল সামন্তবাদবিরোধী নয়, ছিল সে সাম্রাজ্যবাদবিরোধীও। এ যুগে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চরিত্র সেটাই; একইসঙ্গে তাকে সামন্তবাদবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী হতে হয়, কোনোটিকে বাদ দিলে চলে না। সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে পুঁজিবাদের উন্নত স্তর। পুঁজির স্বার্থে সে দেশ দখল করে এবং নিজের দেশে যেমন উপনিবেশে গিয়ে সেই তুলনায় অনেক বেশি নির্মমরূপে অগণতান্ত্রিক হয়ে পড়ে।

গণতান্ত্রিক অধিকার স্বীকার করে না, জনগণকে পশ্চাৎপদ রাখার ইচ্ছায় সামন্তবাদকে উৎসাহ ও উস্কানি দেয়। পুঁজিবাদের শিরোমণি আমেরিকায় নিগ্রো অধিবাসীদের বিশেষ বিশেষ এলাকাগুলোয় যেমন দেখা যায় চতুর্দিকে উগ্র দারিদ্র্য, কিন্তু তারই ভেতরে ধর্ম ও মাদক বিক্রয়কারীরা বেশ সচ্ছল, তেমনি উপনিবেশেও অবাধে চলে ওই দুইয়ের সরবরাহ_ ধর্মের ও মাদকদ্রব্যের।এ মাদক কেবল ড্রাগস নয়। পুঁজিবাদী আদর্শও বটে। সামন্তবাদ ও পুঁজিবাদ হাত ধরাধরি করে চলে। প্রভু ও ভৃত্য। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সাম্রাজ্যবাদ চরিত্রগতভাবেই গণতন্ত্রবিরোধী। যে কারণে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো শুরু থেকেই ছিল তার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু। পুঁজিবাদের দুর্বৃত্ত হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করেছিল। সুবিধা করতে পারেনি। কিন্তু পুঁজিবাদী আক্রমণের পরিমাণ বা তীব্রতা কোনোটাই কমেনি।

শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে। অস্ত্রবলে পারেনি, অর্থনৈতিক অবরোধও সফল হয়নি, শেষে পারলো সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও অন্তর্ঘাতের কারণে। আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করেছে আদিম ভোগের। সেই আদিমতার কাছে স্বাধীনতা ও মৈত্রী পরাজিত হয়েছে এবং অসাম্য চলে এসেছে। সাম্রাজ্যবাদ এখন অনেক শক্তি রাখে, সে সামন্তবাদকেও পুষ্ট করছে দেশে দেশে। পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদ অনেক জায়গায়ই সহাবস্থান করছে এখন, ড্রাগসের পাশে ধর্মের মতো। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বলছি কোন বিবেচনায়? বলছি এ কারণে যে, পাকিস্তান আদতেই ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক বেসামরিক আমলাতন্ত্রশাসিত একটি রাষ্ট্র। পূর্ববঙ্গকে সে একটি উপনিবেশ করে রাখতে চেয়েছিল। আবরণটা ছিল ধর্মীয়; তথা সামন্তবাদী; কিন্তু অভিসন্ধিটা ছিল পুঁজিবাদী, তথা সাম্রাজ্যবাদী। উর্দুর প্রতিষ্ঠা সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠারই একটি স্তম্ভ ছিল বই কি, অন্য সবকিছুর আগে। যে সাম্রাজ্যবাদের অধীনে পাকিস্তান একটি তাঁবেদার শক্তি ছিল তার সমর্থন ছিল পেছনে। পাকিস্তানি স্বৈরশাসকরা মার্কিন সমর্থনের ওপর ভর করেই টিকে থাকতো। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ভাষা আন্দোলন যখন ক্রমাগত প্রবল হয়ে একাত্তরে এসে মুক্তিযুদ্ধের রূ

প নিল তখন সাম্রাজ্যবাদের চেহারাটা আর লুকানো থাকেনি, ইয়াহিয়ার বীভৎস মুখাবয়বের মতোই খোলামেলা হয়ে পড়েছে। এটা খুব স্বাভাবিক ছিল যে, পাকিস্তান আমেরিকার সাহায্য ও সমর্থন পাবে এবং বাইরে সামন্তবাদী কিন্তু ভেতরে পুঁজিবাদী মুসলিম দেশগুলোর মদদ লাভেও ব্যর্থ হবে না। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, সামন্তবাদবিরোধী বাঙালি সেদিন নিহত হয়েছে সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষায় উন্মত্ত পাকিস্তানি ও তাদের স্থানীয় দোসর সামন্তবাদের মুখপাত্র রাজাকার আল-বদরের হাতে। তাৎপর্যপূর্ণ এটাও যে, ‘স্বাধীন’ পাকিস্তানে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল শুরুতেই এবং ভাষা আন্দোলনসহ যে কোনো আন্দোলনকেই সেদিনকার শাসকরা বলতো কমিউনিস্টদের ষড়যন্ত্র মাত্র। ওই শাসকরা নির্বাচন দেয়নি এবং সমাজতন্ত্রীদের সুযোগ দেয়নি কাজ করার। একই ঘটনা আসলে_ এপিঠ, ওপিঠ। এই যে সামন্তবাদবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন মানুষ করলো এ নিশ্চয়ই পুঁজিবাদের খপ্পরে পড়ার আগ্রহে নয়।

অথচ তাই পড়েছি আমরা। পাকিস্তানি শাসকদের হটিয়ে দেয়ার অর্থ দাঁড়িয়েছিল ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যবর্তী পুরোহিতদের হটিয়ে দেয়া। এখন আমরা সরাসরি বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের অধীনে চলে গেছি, মাঝখানের পুরোহিতরা নেই, যারা নিজেরা ঈশ্বরের মতোই আচরণ করতো। আমাদের এখনকার শাসকরা আমেরিকার সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগের সুযোগ পেয়ে গেছেন_ তা তারা সরকারেই থাকুন, কি সরকারের বাইরেই থাকুন। বাংলাভাষা কতোটা প্রচলিত হচ্ছে তার নিরিখে বিচার করলেই বোঝা যাবে গণতন্ত্রের দিকে আমরা কতোটা এগিয়েছি, কিংবা এগোইনি। শিক্ষা মোটেই সর্বজনীন হয়নি এবং শিক্ষিতরাও বাংলা ভাষা চর্চায় যে অত্যন্ত অধিক আগ্রহ দেখাচ্ছেন তা নয়। বীর এখন তিনিই যিনি ইংরেজি ভালো জানেন। না, উর্দুর পক্ষে এখন কেউ বলবে না; কিন্তু বাংলার পক্ষে আন্তরিকভাবে বলবেন এমন মানুষও কম। কেননা আন্তরিকভাবে বলার অর্থই হলো সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বলা, সেই কাজ সোজা নয়। পুঁজিবাদ ও মৌলবাদ একইসঙ্গে তৎপর এখানে। এদেশে একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং গড়ার পরেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া_ স্বাধীনতা, মৈত্রী ও সাম্যের লক্ষ্যে এটা সহজ কাজ নয়। তবে এটাই আমাদের মুক্তির পথ।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী: সাহিত্যিক, অধ্যাপক ও বুদ্ধিজীবী

যায় যায় দিন