মিরকাদিম পৌরসভার সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার নির্দেশ

মুন্সীগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভার গোপালনগরের সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ অন্তবর্তীকালীন এই আদেশ দেয়।

শশুরের সম্পত্তি দাবি করে মীরকাদিম পৌরসভার মেয়র (শহিদুর ইসলাম শাহিন) এবং তার লোকজন গত ১ ডিসেম্বর গোপালনগরের ৩৫ বছরের বাসস্থান থেকে ১৮টি লংখ্যালঘু পরিবারকে উচ্ছেদ করে। এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সুনীল চন্দ্র দে’র দায়ের করা রিটে আদালত এই আদেশ দেয়।

রিটে অভিযোগ করা হয়, উচ্ছেদকালে লংখ্যালঘু পরিবারের সহায়-সম্পত্তি লুট এবং হামলা করা হয়। পরে ক্ষতিগ্রহস্তরা মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।

স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক, মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলেছে উচ্চ আদালত।

একইসঙ্গে ওই এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার রক্ষার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।

৪ সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদেরকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

দৈনিক যায়যায়দিনে গত ৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়। ‘মুন্সীগঞ্জে পালবাড়ীর দখল নিয়ে তোলপাড়’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মীরকাদিমে ১ ডিসেম্বর সারাদিন কয়েক কোটি টাকার পালবাড়ীর দখল নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সেখানকার সংখ্যালঘু ১৮টি পরিবারকে উচ্ছেদ, ভাংচুর, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করার মধ্য দিয়ে কোটি কোটি টাকা মূল্যের পালবাড়ির দখল নেয় স্থানীয় মেয়রের লোকজন।

এ সময় ২০ সংখ্যালঘু আহত হন। সেখানে দ্বিতল ২টি সুরম্য অট্টালিকাও রয়েছে। ১০৪ শতক সম্পত্তি জুড়ে এ বাড়িতে সংখ্যালঘু ১৮টি পরিবার ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করে আসছিল।


‘পরিবারগুলোর দাবি, প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট ও কয়েক লাখ টাকার আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। এ সময় বাড়িটির মালিকানা দাবিদার শামসুর রহমানের ঘরের ভেতর আসবাবপত্র ও মূল্যবান কাগজপত্রে অগ্নিসংযোগ করা হয়। নুকুল পাল, উত্তম সাহা, কালাই পাল জানান, তারা স্থানীয় সারওয়ার উদ্দিন ও শামসুর রহমানের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ১৮টি পরিবার বাড়িটিতে বসবাস করে আসছেন।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বন্ধু সারওয়ার ও শামসুর রহমান এ বাড়ি কিনেছেন বলে ভাড়াটেরা জানেন। তবে তারা শুনে আসছেন যে, কয়েক কোটি টাকার এ বাড়ির মালিক দাবি করছেন মীরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহীদুল ইসলাম শাহীনের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শ্বশুর বশিরউদ্দিন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে হাইকোর্টে পর্যন্ত মামলা-মোকদ্দমা চলছে।

আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন, মো. সুজা আল ফারুক। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেসুর রহমান শুনানি করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর