উল্টো দিকে বাঁকানো ঠোঁটের পাখি খোয়াজ

khoazআলম শাইন
এরা দক্ষিণ-পূর্ব সাইবেরিয়া, উত্তর-পূর্ব চীন, পূর্ব-দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দা। আমাদের দেশে পরিযায়ী হয়ে আসে কনকনে শীতে। তবে আমাদের দেশে এসে এরা সবখানে বিচরণ করে না। বিচরণ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মোহনাতে। আমাদের দেশে এই পাখি প্রথম নজরে আসে ১৯৮২ সালে। হাতিয়ার পশ্চিমে ঢালচর এলাকায়। নিরীহ প্রকৃতির এ পাখি বেশ দৃষ্টিনন্দনও বটে। এরা বেশিরভাগ সময় একাকী শিকারে বের হলেও মাঝে-মধ্যে দলবদ্ধভাবেও শিকারে নামে। জলচর এ পাখি সাধারণত হাঁটু সমান পানিতে নেমে শিকার ধরে। পানিতে ভেসে বা সাঁতার কেটে খাবার খোঁজে না। শিকার ধরার কৌশল বেশ চমত্কার। ঠোঁটটা পানিতে ডুবিয়ে ডানদিকে পানি সরিয়ে শিকার ধরে। এদের ঠোঁটটিও দেখার মতো। জলচর পাখিদের মধ্যে এরাই একমাত্র পাখি, যাদের ঠোঁট সরু এবং সূচালো। ডাকে ‘ক্লু-ইট-ক্লি-ইউ’ সুরে।

এ পাখির বাংলা নাম: ‘খোয়াজ’, ইংরেজিতে বলে ‘পায়েড এ্যাভোসেট’, বৈজ্ঞানিক নাম Recurvirostra avosetta. ‘ঢেঙ্গা’ নামেও এরা পরিচিত।
khoaz
লম্বায় ৩৫-৪০ সেন্টিমিটার। পা ২৩-২৫ সেন্টিমিটার। এদের লম্বা ঠোঁটটি সরু, সূচালো এবং উপরের দিকে বাঁকানো। গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত কালো। এদের মাথা, ঘাড় কালো। বলা যায় দেহের পুরাটাই সাদা-কালো পালকে আবৃত। গলা থেকে লেজের তলা পর্যন্ত ধবধবে সাদা। সাদা পিঠের দুই পাশে দুইটি কালো পট্টি। লম্বা পা ধূসরাভ-নীল। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। আকারে স্ত্রী পাখি খানিকটা খাটো। এদের প্রধান খাবার জলজ পোকামাকড়, কেঁচো ইত্যাদি। প্রজনন সময় এপ্রিল থেকে আগস্টের মাঝামাঝি। জলাশয়ের কাছাকাটি খোলা জায়গায় সামান্য খড়কুটা দিয়ে বাসা বানিয়ে ৩-৪টি ডিম পাড়ে। স্ত্রী-পুরুষ উভয়ে মিলে ডিমে তা দেয়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৩-২৫ দিন। শাবক বাসা ছাড়ে ৩৫-৪২ দিনের মধ্যে। প্রজনন সক্ষম হতে সময় লাগে ২-৩ বছর।


ইত্তেফাক