প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ

প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে
মোহাম্মদ আলী
কেন হুমায়ুন আজাদ ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ লিখলেন? তিনি এ উপন্যাসে এমন কী লিখেছিলেন যে কারণে তাঁকে ‘মৌলবাদী-ছোবলে’ আক্রান্ত হতে হলো? লেখার জন্য লেখককে অনেক সময় কলম-যুদ্ধ ও বাক-যুদ্ধেও অবতীর্ণ হতে দেখা যায়, এমনকী হতে হয় নানা রকম নিগ্রহের শিকার।

একসময় সত্য প্রকাশের জন্য ব্রুনোকে আগুনে পুড়ে জীবন আত্মাহুতি দিতে হয়েছিল। তার অপরাধ ছিল তিনি বলেছিলেন, ‘পৃথিবী সূর্যের চারদিকে আবর্তিত হচ্ছে।’ এছাড়াও হাইফেসিয়াকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়, বিজ্ঞানী গ্যালিলিওকে চাইতে হয় ক্ষমা!

হালে সালমান রুশদির মাথার বিনিময়ে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। কবি দাউদ হায়দারকে বাংলাদেশ ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয়েছে সুদূর জার্মানিতে। লেখক তসলিমা নাসরীনকে দেশ ছেড়ে জার্মানি ও ভারতে হন্যে হয়ে আশ্রয় খুঁজতে হচ্ছে। বর্তমানে সময়ে হুমায়ুন আজাদ ছাড়া অন্য আর কোনো লেখককে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়নি অন্তত কোনো উপন্যাস লেখার জন্য।

অবশ্য সংগ্রামী কবি হওয়ার কারণে লাতিন আমেরিকার কবি লোরকাকে দিতে হয়েছিল জীবন। আর কবি নাজিম হিকমতকে দীর্ঘদিন কারাবরণ ভোগ করতে হয়েছিল_ এ কথাটি এখানে সবিশেষভাবে উল্লেখ না করলে নয়। আর এ বিষয়টি উল্লেখ করলাম এ কারণে যে, প্রতিক্রিয়াশীলতার ও প্রগতির দ্বন্দ্ব যেন অনন্তকালের! এ দ্বন্দ্বে কোনোদিনও মীমাংসা হবে কিনা আমরা তা জানি না_ এখনো নিশ্চিতও নই। আমরা এ বিতর্কে যাব না। তবে আমরা এটুকু বুঝি হুমায়ুন আজাদ ছিলেন প্রতিক্রিয়াশীলতার শত্রু, প্রগতির প্রাণপ্রতিম। তিনি প্রথাগত সমাজকে ভেঙে বিনির্মাণ করতে চেয়েছিলেন মানবকুলের বাসযোগ্য সুন্দর এক সমাজ। তাই তাঁকে লোরকা এবং নাজিম হিকমতের পথ বেছে নিতে হয়েছিল।

হুমায়ুন আজাদ কেন সস্তা জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেননি? এ প্রশ্নের উত্তর বোধ করি এমনটি হবে_ যেমন সব গাছের কাঠ দিয়ে ‘লাঙ্গল’ তৈরি করা যায় না, তেমনি সব ঔপন্যাসিক কী সব কিছু লিখতে পারেন? সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একটি ‘লালসালু’ লিখলেই যথেষ্ট হতো, কিন্তু হুমায়ূন আহমেদকে ডজন ডজন ‘অপন্যাস’ লিখতে হয়! অন্যদিকে হুমায়ুন আজাদের পক্ষেও ডজন ডজন ‘অপন্যাস’ লেখা সম্ভব হয়নি। তিনি যে কয়টি উপন্যাস লিখেছেন, তার মধ্যে ‘ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল’, ‘রাজনীতিবিদগণ’ ও ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
‘ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল’-এ তিনি প্রচলিত বিবাহ প্রথার বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিয়ে, কাবিন শব্দটি তার কাছে ঘিনঘিনে মনে হয়।’ তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করতেন আগামী একশ’ বছর পর উপমহাদেশে বিবাহ প্রথার বিলুপ্তি ঘটবে।

‘রাজনীতিবিদগণ’ উপন্যাসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থার চালচিত্র তুলে ধরেছেন দক্ষতার সঙ্গে। প্রগতিশীলতার নামে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিবিদরা কীভাবে প্রতারণা করছেন, মানুষকে শোষণ করছেন। ওই সব ভ- রাজনীতিবিদদের মুখোশ তিনি সাহসের সঙ্গে উন্মোচন করেছেন। তিনি ‘রাজনীতিবিদগণ’ উপন্যাসে সত্য বলার সাহস দেখিয়েছেন। এমনকী রাজনীতিবিদগণের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন, তারা কী ভ-ামি ও প্রতারণা করেন সাধারণ জনগণের সঙ্গে। এমন নির্মম অথচ নির্মোহ সত্য কজন লেখক বলার সাহস রাখেন?
‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাসটি একটি বিতর্কিত উপন্যাস। উপন্যাসটি কেবল মৌলবাদী ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর কাছেই বিতর্কিত নয়। এ উপন্যাসটি এ দেশের লেখক, সমালোচক ও পাঠক মহলে বিশেষভাবে বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। শুধু তাই নয়, উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি একটি মৌলবাদীচক্রের হাতে আক্রান্ত হন_ যার পরিণতিতে শেষপর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন। এই উপন্যাসটি সেই দিক দিয়ে সাহিত্যিক গুরুত্বের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক গুরুত্বও বহন করে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ, কীভাবে একটি দেশ ক্রমে ক্রমে মৌলবাদীদের বগলদাবা হচ্ছে। দেশটিকে কীভাবে তারা ‘পাকিস্তানে’ পরিণত করছে, তার একটি নিখুঁত বিবরণ তিনি তুলে ধরেছেন। এখানে তাঁর মহত্ত্ব তিনি বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের কাছে মেীলবাদীদের স্বরূপ তাঁর উপন্যাসের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

ঔপন্যাসিক হিসেবে সাধারণ জনগণের মনের কথাগুলো উপন্যাসে তুলে ধরেছেন, এটিই হুমায়ুন আজাদের কৃতিত্ব। কারণ একজন বড় লেখক, সময় ও মানুষের সমস্যা সবার আগে বুঝতে পারেন। হুমায়ুন আজাদও বাংলাদেশের মৌলবাদীদের উত্থানপর্ব দ্রুত উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। আর তিনি সাধারণ মানুষের অন্তরের বিন্দুতে এভাবেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

কেন ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ পড়ে মৌলবাদীদের গাত্রদাহ হলো? কী আছে ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাসটিতে? প্রথম থেকে দেখি : প্রচ্ছদের কালো রং ব্যবহারের মধ্য দিয়ে প্রথম ইঙ্গিত করা হয়েছে, বাংলাদেশ কীভাবে অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে! তিনি উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছেন ‘১৯৭১’-কে। এ ‘১৯৭১’ কেবল একটি সাল নয়, এ যেন কেবলমাত্র রক্তের অক্ষরে লেখা নয়। তিরিশ লক্ষ শহীদ যেন এক সঙ্গে বলছে, ‘আমরা সেই ‘৭১।’ মৌলবাদী ধর্মান্ধ অপশক্তিকে বলছে, ‘আমাদের মৃত্যু নেই, আমরা মৃত্যুহীন_ তোমরা যেমন ১৯৭১ সালে পরাজিত হয়েছ_ এবারও পরাজিত হবে।’

একজন কমিউনিস্ট, বামপন্থী সর্বহারার রাজনীতি পরিত্যাগ করে উগ্র সম্প্রদায়িক মৌলবাদী রাজনীতিতে দীক্ষা গ্রহণ করল। সে যেন এমন মোহে আচ্ছন্ন হলো তা ভাষায় প্রকাশ করা দুরূহ। সব কিছুর মধ্যে সে জিহাদ খুঁজতে লাগল। যেমন সে বলছে, ‘আমরা ইছলামি জিহাদে বিশ্বাস করি। সব মুসলমানের জন্য এটা ফরজ কাজ।’ এভাবে হুমায়ুন আজাদ শুরু করেছেন। এ যেন উপন্যাস নয়_ কিছুদিন আগেও বাংলাদেশ বাস্তবেই (১৭-এর পৃষ্ঠার পর)
সেইভাবে ওপরের দিকে পা দিয়ে_ মাথা নিচের দিক করে হাঁটতে শুরু করেছিল! স্বাধীনতার শত্রু, নরঘাতক পাষ-ের দল জাতীয় পতাকা উড়িয়ে গাড়ি হাকাতে শুরু করছিল। আমরা যেন নির্বিকার হয়ে গিয়েছিলাম। যেন দেশে কোনো মুক্তিযোদ্ধা ছিল না, ছিল না কোনো প্রতিবাদী মানুষ! কিন্তু হুমায়ুন আজাদ নীরব থাকতে পারেননি। তাই তিনি উপন্যাস নয়_ নরঘাতকদের জীবনচরিত লিখেছেন। উপন্যাসে তিনি বলেছেন, ‘ইছলাম হচ্ছে আল্লার, গণতন্ত্র সমাজতন্ত্র নামের খানকিবৃত্তি হচ্ছে কাফেরদের, নাছারাদের, ইহুদিদের, খ্রিস্টানদের; কাফেরদের ধ্বংস করা হচ্ছে রাহমানির রাহিম আল্লাতাল্লার অকাট্য নির্দেশ।’

একাত্তর সালে আমরা এদেশে বহু ধর্ষণের কাহিনী শুনেছি। সেই একই ঘটনার নতুনভাবে পুনরাবৃত্তি দেখতে পাই। উপন্যাসের এক জায়গায় বলা হয়েছে, মেয়েটির বাবা আর মা আমার পায়ে এসে পড়ে; বরে, ‘হুজুর, দশজন জিহাদি মাইয়াডার উপুর একলগে ঝাঁপাই পড়ছে।’ আমি বলি, ‘কীভাবে আপনারা খুশি হন?’

মেয়েটির মা বলে, ‘হুজুর, আমার মাইয়াডার মাত্র দশ বছর, অর অহনও রক্ত দেহা দেয় নাই, ও নাবালিকা, হুজুর।’

আমি বলি, রক্তের দরকার নেই, রক্ত আমরা অনেক দেখেছি।’ মেয়েটির মা পায়ে পড়ে বলে, ‘মাইয়াডা মইর‌্যা যাইব, হুজুর’। আমি বলি, ‘তাহলে জিহাদিরা কীভাবে উৎসব করবে?’

মেয়েটির মা বলে, ‘হুজুর, আমার মাইয়াডা কচি, আপনেরা একজন একজন কইর‌্যা যান, একলগে যাইয়েন না, হুজুর।’

এই কাহিনী বর্ণনার মধ্যে দিয়ে ঔপন্যাসিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর এক শ্রেণীর ধর্ম ব্যবসায়ী ও মৌলবাদী উৎপীড়কদের নির্যাতন-কাহিনীচিত্র তুলে ধরেছেন। যার বাস্তবতা এ সমাজে বিদ্যমান রয়েছে।

এ উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমান দীর্ঘদিন এক সঙ্গে বসবাস করে আসছে। বাংলাদেশের কোনো স্থানের নাম ‘আলীপুর’, কোনো জায়গায় নাম ‘রামনগর’। তাই বলে কী কোনো নাম সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি পাল্টে দেবে? তেমন একটি ঘটনার কথা উপন্যাস থেকে জানতে পারি।

‘আওয়াজ উঠতে থাকে ‘আল্লাহ আকবর’, আলি আলি জুলফিক্কার’, ‘নারায়ে তকবির’, ‘শ্যামসিদ্ধি হলো আলিগঞ্জ’, ‘শ্যামসিদ্ধির মঠ ধ্বংস হলো, ধ্বংস হলো’, ‘জামাঈ জিহাদে ইছলাম জিন্দাবাদ’, ‘মালাউন ও দালালদের কতল কর’, …।’

এই ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক তৎপরতা সমাজকে কোন অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে নিয়ে যেতে পারে, সেটা ঔপন্যাসিক হুমায়ুন আজাদ চিত্রিত করেছেন।

যেমন আমরা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালুতে দেখতে পাই মজিদ গ্রাম ছেড়ে মহব্বতনগরের একটি পরিত্যক্ত বাঁশঝাড়কে মোদাচ্ছের পীরের মাজার বলে বিশেষায়িত করে। সঙ্গে সঙ্গে গ্রামে প্রতাপশীল মাতব্বর খালেক ব্যাপারীকেও সঙ্গী করে ধর্ম ব্যবসার সূচনা করে।

লালসালু মজিদ ও নানা কাহিনীর জন্ম দেয় এমনভাবে :

‘রহীমার কাছে উত্তর না পেয়ে এলেমদার মানুষ মজিদ খোদাকে ডাকতে শুরু করে। একবার ছুটে দরজার কাছে যায়, সর্ষের উঠানে ছেয়ে যাওয়া শিলা দেখে, তারপর আবার দোয়া-দুরুদ পড়ে পায়চারি করে দ্রুত পদে।’ …
রহীমা হঠাৎ গা ঝাড়া দিয়ে সোজা হয়ে বসে। তারপর স্বামীর পাশে তাকিয়ে পরিষ্কার গলায় বলে,
_ধান দিয়া কী হইবো, মানুষের জান যদি না থাকে?’ …

শেষতক দেখা যায় : ‘…মেহেদি দেওয়া তার একটা পা কবরের গায়ের সঙ্গে লেগে আছে। পায়ের দুঃসাহস দেখে মজিদ মোটেও ক্রুদ্ধ হয় না। …তারপর তাকে পাঁজাকোল করে ভেতরে নিয়ে আসে। বিছানায় শুইয়ে দিতেই রহীমা স্পষ্ট কণ্ঠে প্রশ্ন করে, মরছে নাকি?

প্রশ্নটি এই রকম যে, মজিদের ইচ্ছে হয় একটা হুঙ্কার ছাড়ে। কিন্তু কেন কে জানে সে কোনো উত্তর দিতে পারে না? শেষে কেবল সংক্ষিপ্তভাবে বলে,

_না একটু থেমে আস্তে বলে, ওর ঘোর এখনো কাটে নাই। আছর ছাড়লে এই রকমটা হয়।’

‘লালসালু’ ভ- মজিদের মাজার কেন্দ্রিক ঘটনা অবলম্বনে রচিত উপন্যাস। আর ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ হতাশাগ্রস্ত বামপন্থী কর্মীর প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিতে যোগদান এবং সব কিছু ভেঙে জেহাদে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজে সাম্রাজ্য বিস্তার তার মূল লক্ষ্য। দুই উপন্যাসে ভিত্তি ও চরিত্র ভিন্ন। কিন্তু উভয় উপন্যাসের মিল এক জায়গায় সেটি হলো সমাজকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন ধর্ম ব্যবসায়ীরা। সাম্প্রদায়িকতার নামাবুলি গায়ে দিয়ে সাধারণ জনগণকে অন্ধ করে তোলা এবং বিপথে নিয়ে সামনে এগোবার পথ চিরতরে রুদ্ধ করে দেয়া। সমাজকে পেছনের দিকে, উল্টো পথে হাঁটাবার ব্যর্থ চেষ্টা। কিন্তু ইতিহাসের নিয়ম সমাজ স্বতঃসিদ্ধভাবে সব বাধাবিপত্তি পেরিয়ে সামনের দিকেই এগিয়ে যাবেই।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তো বটেই, হুমায়ুন আজাদ তার উপন্যাসে চরম হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্যে সবুজ বাংলাদেশে লাল সূর্যের হাতছানি দেখতে পেয়েছেন। আর সেই সত্যই একদিন এই শ্যামল-সবুজ প্রান্তরে প্রতিষ্ঠিত হবে। ধর্মান্ধ মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পরাজিত হবে, হুমায়ুন আজাদেরা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। জয় হবে হুমায়ুন আজাদের_ পরাজিত হবে প্রতিক্রিয়াশীলতার।

বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র। প্রক্রিয়ার অপশক্তি যতই মাথা তুলে দাঁড়ার চেষ্ট করুক না কেন, গোখরো সাপের মতো ফণা তুলে কামড় দেবার চেষ্টা করবে, এ দেশের সংগ্রামী-মুক্তিযোদ্ধারা, প্রগতিশীল শক্তি ও জনগণ তাদের পরাস্ত করবে এটাই ইতিহাসের সত্য।

[ad#bottom]