নিখোঁজদের খোঁজে এবার উদ্ধারকারী দল

রাহমান মনি
১১ মার্চ জাপান ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামি এবং পরবর্তীতে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র সৃষ্ট দুর্যোগে ব্যাপক জানমালের ক্ষতির কথা ইতোমধ্যে সবাই জানি। ভূমিকম্প এবং সুনামি ও পরবর্তী আফটার শকজনিত কারণে পুলিশ এজেন্সির সর্বশেষ হিসাব মতে (২৬ এপ্রিল ২০১১, সকাল ১১.৩০) ১৪,৪১৬ জন মৃত এবং ১১,৭০৯ জন নিখোঁজ রয়েছে। মৃতদের মধ্যে ভূমিকম্প এলাকা মিয়াগিতে ৮৭০২ জন, ইওয়াতেতে ৪১৯৭ জন এবং ফুকুশিমা অঞ্চলে ১৪৫৪ জন রয়েছে। বাকিরা অন্য অঞ্চলের। এদের সবাই ভূমিকম্প এবং সুনামির কারণে মৃত্যুবরণ করে। ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিস্ফোরণে তেজস্ক্রিয়তাজনিত কারণে এই পর্যন্ত কোনো মৃত শনাক্ত হয়নি বলে জাপান সরকার সাংবাদিক সম্মেলনে নিশ্চিত করেছে।

নিখোঁজদের মৃত বলে ধারণা করে তাদের মৃতদেহ অনুসন্ধান এবং উদ্ধারের লক্ষ্যে জাপান সেলফ ডিফেন্স ফোর্স (JSDF বা জিয়েতাই) এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধারকারী দল ২৫ এপ্রিল সোমবার থেকে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। এটা তৃতীয়বারের মতো অভিযান। ইতঃপূর্বে এই মাসেই আরো ২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৯০টি বিমান, ৫০টি নৌজাহাজ ব্যবহার করে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ২৫ হাজার সদস্য অংশ নেয়। এছাড়াও জাপান পুলিশ এবং জাপান কোস্টগার্ডও এই অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নেবে। অভিযান দুই দিন চলবে।

এবারই প্রথমবারের মতো ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যেও অনুসন্ধান চালানো হবে। যা পূর্বের অভিযানগুলোতে তেজস্ক্রিয়তাজনিত কারণে বাদ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশের ২০ কি. মি. এলাকাকে সংরক্ষিত ঘোষণা করে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ এবং জরিমানার ঘোষণা দিয়ে এক আদেশ জারি করা হয় ২১ এপ্রিল। ২২ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর করা হয়।

এই তল্লাশি অভিযানে মৃতদেহ সন্ধানের পাশাপাশি মৃত গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীর মৃতদেহ অনুসন্ধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই সঙ্গে মুমূর্ষু গবাদিপশু এ অন্যান্য প্রাণীকুলকে যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর ব্যবস্থা করার জন্য এলাকাগুলোতে পশু ডাক্তার প্রেরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এলাকার খামারগুলোতে অনেক গবাদিপশু এবং শূকর আটকানো অবস্থায় মারা যায়। কিছু কিছু গবাদিপশু এখনো পরিত্যক্ত হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তাদের মধ্যে কিছু কিছু মৃত্যু যন্ত্রণায় ধুঁকছে। যেসব গবাদিপশু এলাকাগুলোতে জীবিত আছে তাদের কাজে লাগানো কিংবা জবাই করে ভক্ষণ করার কোনো সম্ভাবনাই নেই মানবস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে। কাজেই যন্ত্রণাহীন মৃত্যুই তাদের জন্য বেছে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

১১,৭০৯ জন নিখোঁজ ছাড়াও ২৫০০টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ১,৩০,০০০ লোক আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সকলেই সুনামিতে ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র সবই হারিয়েছেন। তাদের পুনর্বাসনের কাজ চলছে। কেউ কেউ নিজ ব্যবস্থায় কর্মসংস্থান বের করে আশ্রয় কেন্দ্র হতে চলে যাচ্ছে।

rahmanmoni@shaptahik.com

[ad#bottom]