পদ্মা সেতুতে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতি দেখতে রাজি না বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণে কোনো রকম দুর্নীতি দেখতে রাজি নয় প্রধান আর্থিক সহায়তাকারী বিশ্বব্যাংক। ঢাকা সফররত বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনগোজি ওকোনজো ইউয়েলা বুধবার সকালে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। বাংলাদেশের বৃহত্তম এই সেতু নির্মাণ ব্যয় ২৯০ কোটি ইউএস ডলারের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলার ঋণ দিতে রাজি হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই ঋণ চুক্তি সম্পাদন হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ইস্যু প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘এই প্রকল্পের মান নিশ্চিত করা, ক্রয় প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং বাস্তবায়ন কাজ দুর্নীতিমুক্ত একই তিনটি বিষয়কে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’

স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত ভাবে পদ্মা সেতু নির্মাণ হওয়ার দাবি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ঋণ হিসেবে আমাদের দেওয়া অর্থ আসলে এদেশের জনগণেরই টাকা।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাংকের ইতিহাসে একক প্রকল্প হিসেবে কোনো দেশে দেওয়া বৃহৎ ঋণ।’

‘এ সেতুর মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩ কোটি মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন হবে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্বব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়াগুলো যথাযথভাবে ধাপে ধাপে শেষ হলে নির্ধারিত সময়েই এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া উচিত।’

প্রসঙ্গত, বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই এ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারি এ সরকারের মেয়াদ শেষ হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাংক ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশকে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে। এরমধ্যে পদ্মা সেতুর জন্য ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।’

বাংলাদেশে ‘ব্যাস্টিক অর্থনীতি’র অবস্থা ভালো মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে অর্থমন্ত্রীকে কিছু বিষয়ে আমি পরামর্শ ও মত দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘তবে সারাবিশ্বেই খাদ্যপণ্যেল দাম বেড়ে যাওয়ার বাংলাদেশকেও সতর্ক থাকতে হবে।’

বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী সাংবাকিদের বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণের ঋণ চুক্তি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৃহস্পতিবার স্বাক্ষর হবে।’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে তারা স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি মুক্ত করার কথা বলেছে। আমরাও তাদের বলেছি, স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি হবে না।’

বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঙ্গলবার ঢাকা আসেন।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম