নীমতলী গ্রামে বাদীর পরিবারকে উচ্ছেদ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার নীমতলী গ্রামের প্রভাবশালী এক লম্পট যুবকের নামে মামলা করায় যৌন নির্যাতনের শিকার এক স্কুলছাত্রীর পরিবার বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ৪ মাস ধরে পরিবারটি বাড়িছাড়া। পরিবারটি বর্তমানে পাশের গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

জানা গেছে, শ্রীনগর উপজেলার নিমতলী গ্রামের রুহুল আমীনের বখাটে ছেলে রাকিব খান (২২) প্রতিবেশী ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রীর (১৩) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে রাকিব বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার একপর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। রাকিবকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া হলে সে তাকে বিয়ে করবে না জানিয়ে ঢাকায় চলে যায়। ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে তার বাবা গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিচার চায়। রাকিবের বাবা রুহুল আমীন এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা সালিশ না মেনে উল্টো হুমকি দেয়। শেষে নিরুপায় হয়ে ছাত্রীর বাবা আদালতে মামলা করেন। পুলিশ ধর্ষক রাকিব ও তার বাবা রুহুল আমীনকে গ্রেপ্তার করে। জামিনে ছাড়া পেয়ে রাকিব ১০-১২ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ওই কিশোরী ছাত্রীর পরিবারকে ঘর বাড়ি ভেঙে ভিটে থেকে উচ্ছেদ করে দেয়। বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

ছাত্রীর বাবা জানান, আসামিরা প্রতিনিয়ত তাকে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। প্রাণ ভয়ে সে বাড়ি যেতে পারছেন না।

বীরতারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী শহিদুল্লাহ কামাল ঝিলু বলেন, রুহুল আমীন খুব ধূর্ত প্রকৃতির লোক এবং মামলাবাজ। সন্তানের বিচার না করে উল্টো হয়রানি করছে। তাদের বিচার হওয়া দরকার।

শ্রীনগর থানার ওসি সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, ভিটে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ঘটনা কেউ থানায় জানায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।