শিল্পের বর্জ্য আর কেমিক্যালে তৈরি গ্যাসে চলছে গাড়ি

লৌহজংয়ের কুমারভোগ গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে বাসচালক মো. সেলিম (৫৫) দীর্ঘদিনের চেষ্টায় শিল্পের বর্জ্য আর রাসায়নিক কেমিক্যাল দিয়ে এক ধরনের গ্যাস উদ্ভাবন করেছেন। এ গ্যাস দিয়ে সিএনজিচালিত গাড়ি, রান্নার চুলা ও ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করা যায়। প্রয়োজনীয় অর্থ, পৃষ্ঠপোষকতা আর কারিগরি সহায়তার অভাবে কোনো স্টেশন তৈরি করতে না পারায় এ গ্যাস ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সেলিম তাঁর উদ্ভাবিত গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে জ্বালানি মন্ত্রণালয় তথা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেছেন।

বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারে বর্তমান সিএনজির চেয়ে এ গ্যাসের খরচ অনেক কম পড়বে বলে দাবি করেন সেলিম। তবে জ্বালানি বা ওয়েল্ডিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হলে খরচ আরো কমে আসবে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, গাড়ি চালানোর জন্য যে গ্যাস উৎপাদন করা হয়, তাতে বর্জ্যের সঙ্গে দুটি রাসায়নিক কেমিক্যাল ব্যবহার করতে হয়। আর জ্বালানি বা ওয়েল্ডিংয়ের জন্য তৈরি গ্যাসে একটি কেমিক্যাল ব্যবহার করায় খরচ পড়ে কম। সেলিমের বাড়িতে গেলে তিনি একটি পুরনো গ্যাস সিলিন্ডারে শিল্পের বর্জ্য (ছাই) ও দুটি রাসায়নিক কেমিক্যাল দিয়ে গ্যাস তৈরি করে দেখান। তাঁর উদ্ভাবিত গ্যাস থেকে সিলিন্ডারের মাথায় পাইপ লাগিয়ে এর মাথায় আগুন জ্বালিয়ে দেখান তিনি। অন্যদিকে একটি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারে লোহার পাইপ ও মিটার বসিয়ে তাতে নিজ ফর্মুলায় গ্যাস উৎপাদন করেন সেলিম। এরপর সেটি নিয়ে তাঁর ছেলের সিএনজিচালিত অটোরিকশার গ্যাসলাইন খুলে তাতে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারে নিজের উৎপাদিত গ্যাস একটি পাইপের মাধ্যমে সংযোগ দিয়ে অটোরিকশাটি স্টার্ট দেন। এতে অটোরিকশাটি দিব্যি চলতে থাকে। এ ব্যাপারে লৌহজং ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম ইসমাইল জানান, সেলিমের উদ্ভাবিত গ্যাস দিয়ে গাড়ি চালানো, রান্নাসহ ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করা সম্ভব। রাসায়নিক কেমিক্যাল ও শিল্পের বর্জ্য বা ছাই মিশ্রণের ফলে সেখানে এক ধরনের হাইড্রোকার্বন বা জৈব গ্যাস তৈরি হয়, যা দিয়ে গাড়ি চালানো সম্ভব।