ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২০ কি.মি. এর মধ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ

রাহমান মনি
১১ মার্চ ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং সুনামির ফলে সৃষ্ট জাপানের ফুকুশিমা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিস্ফোরণের পর তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ফলে মানব স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে জাপান সরকার ফুকুশিমা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশের ২০ কিলোমিটার এলাকাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ‘নো গো জোন’ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। ক্ষমতাসীন সরকারের মুখপাত্র চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি য়ুকিও এদানো (Yukio Edano) ২১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

এদানো বলেন, আজকে জারি করা এ আদেশ ২২ এপ্রিল সূচনালগ্ন ১২.০০টা থেকে কার্যকর করা হবে। কারণ, ১১ মার্চ ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অন্যতম। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ক্ষতি হওয়ার পর এ প্রকল্প থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে এবং মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এখনো কিছু কিছু পরিবার অত্র এলাকায় বসবাস করায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। জাপান দুর্যোগ মোকাবিলা আইনের আওতায় এখন থেকে কেউ অত্র এলাকায় প্রবেশ করলে এক লাখ ইয়েন জরিমানা আদায় অথবা গ্রেফতারও হতে পারেন।

তবে, সরকার এলাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের প্রয়োজনীয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র সংগ্রহের জন্য সাময়িক কিছু সময়ের জন্য ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার কথাটিও ভাবছে। যারা কেন্দ্রের ৩ কিলোমিটার এলাকার বাইরে অবস্থান করতেন তাদের বেলায় এ সুযোগ দেয়া হতে পারে বলে এদানো জানান।

সেই সঙ্গে এদানো আরো জানান, সরকার নিষিদ্ধ এলাকা আরো সম্প্রসারিত করার চিন্তা করছেন। তবে তা পরিস্থিতি অবনতি হলে চিন্তা করা হবে। এ জন্য ২০ কি. মি. থেকে ৩০ কি. মি. এর মধ্যে যারা বসবাস করছেন তাদের অবশ্যই ঘরের ভেতর অবস্থান করতে হবে এবং সরকারি ঘোষণায় যেকোনো সময় অপসারণ হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। এ ঘোষণায় নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে আরো পাঁচটি মিউনিসিপ্যাল এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এদিকে য়ুকিও এদানোর ঘোষণার পর ২১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অর্থাৎ ২২ এপ্রিল সূচনালগ্ন থেকে জারিকৃত আদেশ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রবেশ পথে রাস্তায় চেক পয়েন্ট বসানো হয়েছে এবং সতর্কীকরণ পোস্ট বসানো (প্রবেশ নিষেধ সংকেত) হয়েছে। ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে নয়টি মেট্রোপলিটন এলাকার ৭৫টি প্রবেশ পথে এ সংকেত বসানো হয়েছে।

rahmanmoni@shaptahik.com