লিবিয়া প্রসঙ্গে মুন্নী সাহা

< ![CDATA[মুন্নী সাহা আমাদের ইলেকট্রনিক তথা টেলিভিশন মিডিয়ার প্রথম সারির সাংবাদিক। চৌকস ও নির্ভীক সাংবাদিকতা তাকে দিয়েছে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা। সংবাদ সংগ্রহের জন্য সম্প্রতি তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত লিবিয়া গিয়েছেন, পরম আন্তরিকতায় পাশে দাঁড়িয়েছেন হত বিহ্বল বিপদগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশীদের। আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছে তার লিবিয়া মিশন। লিবিয়া প্রসঙ্গ নিয়ে মুন্নী সাহা কথা বলেছেন কাজী হাসান এর সঙ্গে :

কাজী হাসান : এটিএন নিউজের হয়ে আপনি লিবিয়ার দুর্যোগময় পরিস্থিতি, প্রবাসী বাংলাদেশীদের ওপর নিউজ কাভারেজ করেছেন। এই উদ্যোগটা কখন কোন ভাবনা থেকে আপনারা নিলেন?
মুন্নী সাহা : এটিএন নিউজের লিবিয়া কাভারেজ করার উদ্যোগটা মূলতঃ আমাদে টিভি চ্যানেলের সিইও মিশুক মুনীর স্যারের। কাজের ক্ষেত্রে স্যারের সাথে আমার কম্বিনেশনটা সুন্দর। এজন্য আমি লাকি। আমার রিপোর্র্টিংকে কেউ যদি ভালো অর্থে একটু ডিফরেন্ট মনে করেন, বা ভিন্ন মাত্রার মনে করেন-এ বিষয়টি আমাকে ভাবতে শিখিয়েছেন স্যার। স্যারের কাছেই আমার এ ধরনের রিপোর্টিংয়ের হাতেখড়ি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী। তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন। একুশে টেলিভিশনে আমি তার অধীনে কাজ করেছি। এটিএন নিউজে এখন তিনি আমার সরাসরি বস। তিনি আপাদমস্তক একজন সাংবাদিক। মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিক। তিনি নিজেও তাই মনে করেন। লিবিয়া ইস্যুটা যখন একটু ম্যাচিওরড হচ্ছে, আমি তখন দেখি তিনি ডেস্কে কাজ করছেন। অথচ ডেস্ককে আমরা অপেক্ষাকৃত দুর্বল জায়গা মনে করি। সেই ডেস্ককে বসে আমাদের চীফ এডিটর এপি, রয়টার এর ক্লিপ ডাউনলোড করছেন আর যে ভয়েজ ওভার করবেন তার জন্য চুজ করে দিচ্ছেন, স্ক্রিপ্ট লিখে দিচ্ছেন। এটা একজন জয়েন্ট এডিটরের কাজ। সেই কাজটাই আমাদের সিইও স্যার খুব আন্তরিকতার সঙ্গে করছেন। উনি চাচ্ছিলেন ওই নিউজটাকে আমরা আরও একটু ভালোভাবে হাইলাইট করি। ন্যাচারালি আমার বস যখন কাজে নামেন, আমিও নামি। আমি তো আর বসে থাকতে পারি না। আমি ওনার সঙ্গে একটু হাত বাড়াই। বিদেশী নিউজ ডাউনলোড করে আমরা একটু বেশি ইনপুট দিই। অন্য সময়েও আমরা এভাবেই কাজ করি। তো লিবিয়া ইস্যু নিয়ে কাজ করতে করতে আমি স্যারকে বলছিলাম, স্যার, আমাদের বোধ হয় এটা কাভার করা উচিত। কারণ লিবিয়াতে অনেক বাংলাদেশী আছেন। এই যুদ্ধ যদি আরও ব্যাপক আকারে শুরু হয়, তখন এরা এফেকটেড হবেন। যুদ্ধটা তো আমাদের কাছে বড় ইস্যু না। আমাদের ইস্যু আমাদের বাংলাদেশ, আমাদের দেশের মানুষ। তখন স্যার বললেন, হ্যাঁ, উই শুড গো দেয়ার। আমাদের যাওয়া দরকার।

তখন মিশর ও তিউনিসিয়া সীমান্তে বাংলাদেশীদের যাওয়া শুরু হয়েছে কেবল। আমাদের সিইও স্যার কানাডার পাসপোর্টধারী। তার জন্য ভিসা পাওয়া সহজ। তিনি একই সাথে জার্নালিস্ট ও ক্যামেরাম্যান। আমি তাকে চলে যেতে বললাম। ওখানে আমাদের এটিএন নিউজের কোনও প্রতিনিধি আছে। এটা অনেক ভাল জিনিস হবে। সংবাদের যে গতিশীলতা, ফাস্টনেস তা আমাদের নিউজ চ্যানেলে আমরা প্রচার করবো। সিদ্ধান্ত হলো তিনি প্রথম গ্রিসে যাবেন। আর ভিসা হলে আমি তিউনিসিয়া বা মিশর যেখানেই যাই উনি এসে আমার সাথে মিট করবেন-এই পরিকল্পনা করে আমাদের চেয়ারম্যানের অনুমোদন পেতে মাত্র দুই মিনিট সময় লেগেছে। আমাদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান স্যার খুবই সংবেদনশীল ব্যক্তি। মানবিক বিষয়ের প্রতি তার আগ্রহ সবসময় বেশি। আমাদের পরিকল্পনা শুনে বললেন, তাড়াতাড়ি যান, না হলে তো সব শেষ হয়ে যাবে!

যে রাতে সিইও স্যারের সাথে আমি কথা বললাম তার পর দিনই আমি মিশর এ্যাম্বাসিতে ভিসার জন্য এ্যাপ্লাই করি। ওরা ওই দিনই আমাকে হাতে হাতে ভিসা দেয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু নানা জটিলতা দেখিয়ে তিনদিন আটকে রাখে। ওদিকে মিশুক মুনীর স্যার গ্রিসে পৌঁছলেন। তার পাঠানো ফুটেজ দিয়ে আমি তিনদিন ডেস্ক রিপোর্ট করলাম। এরপর আমার ভিসা হওয়ার পর আমি গেলাম মিশরে।

৭ তারিখে সন্ধ্যায় আমি মিশরের সাললুম বর্ডারে পৌঁছি। ৮/৯ ঘণ্টা গাড়িতে ছিলাম। ওখানে গিয়ে আমি খুবই মারমুখী অবস্থার মধ্যে পড়ি। একুশে টেলিভিশন, এটিএন বাংলায় আমি কাজ করেছি। যে কারণে অনেকেই আমাকে চেনে। আমার প্রতি এক ধরনের দাবী বা প্রত্যাশা আছে ওদের। আমাকে দেখে ওরা ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, এতদিন পরে কেনো আসলেন? আমরা কত কষ্টের মধ্যে আছি! আমাদের ফেরার কোনও ব্যবস্থা নাই? আমরা কখন দেশে ফিরবো? তখন আইওএ’র মাত্র প্রথম ফ্লাইটটি দেশে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তখন তারা যারা দেশে ফিরবে তাদের নাম এন্ট্রি করছিল। তখন সেখানে হাজার ছ’য়েকের মতো বাংলাদেশী ছিল। ওদের মারমুখী হওয়ার বিষয়টিকে আমি নেগেটিভভাবে দেখিনি? আমি ভেবেছি একটা অস্থিতিশীল, অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে তারা আছেন। তাদের প্রত্যাশা থাকতেই পারে যে, দেশ থেকে সরকার বা গণমাধ্যম তাদের বিষয়টিকে ভালভাবে দেখবে। আমাদের ভিসা সমস্যার কারণে দেরী হওয়াটা তো ওনারা বুঝবেন না। সরকার হয়তো পরিস্থিতিটা অনুধাবন করতে পারেনি, যে কারণে তাদের লোক পাঠাতে দেরী হয়েছে। তাই বলে তো আমি হুট করে রিপোর্ট করতে পারি না, ‘এদের পাশে কেউ নেই, সরকার দেশে বসে তামাশা দেখছে।’ বাস্তবতাটা বুঝে রিপোর্টিং করতে হবে। আর দ্বিতীয় কথা হলো বাংলাদেশ থেকে অনেক রিপোর্টারই সেখানে গেছেন। তাদের সাথে তো এরকম আচরণ ওরা করেনি। আমার সাথে যা করেছে সেটা তাদের প্রত্যাশা বা দাবির জায়গা থেকে, কাছের মানুষ ভাবে বলে করেছে। অনেকে কান্নাকাটিও করেছেন। আমি তাদের সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। আমার তো তখন ক্যামেরাম্যান ছিল না। এই ভিড়ের মধ্যে, অন্ধকারের মধ্যে আমাকে যে একটু এসিস্ট করবে কেউ বা আমাকে কেউ একজন গাইড করে একটু ভিতরে নিয়ে যাবে সে রকম কেউ ছিলনা। তো এই বাংলাদেশীরাই চিত্কার করছে। তাদের মধ্যে থেকে পাঁচজন সামনে এলেন, ওনারা হাত ধরে সার্কেল তৈরি করে বললেন, আপা আসেন, এই ফাঁকা জায়গায় দাঁড়ান। একজন একটা টুল এনে দিলেন। আমি তাতে উঠে দাঁড়ালাম। সবাই আমাকে দেখতে চায়। আমাকে দেখার পর তাদের রাগ ক্ষোভ কিছুটা ঠাণ্ডা হলো। তারপর আমি কিছুক্ষণ কথা বললাম এবং এরপরে আমি আমার কাজ শুরু করলাম। ক্যামেরা ওপেন করলাম। আমরা জানি কোন পরিস্থিতে আমরা কি করবো। রিপোর্টার হিসেবে এই ধরনের পরিস্থিতি দেখতে ও সামাল দিতে আমরা অভ্যস্ত। মিশরে তখন ফর্মাল কোনও সরকার নেই, গণতান্ত্রিক কোনও সরকার নেই। ৪/৫ জনের একটি মিলিটারি কাউন্সিল তখন সরকার চালাচ্ছে। তাদের পোর্টফোলিও কেউ জানে না। তাদের ফোন নম্বর জানে না। তারপরও যে বাংলাদেশ থেকে সরকার যোগাযোগ করে সানলুম বর্ডারে এটলিস্ট ৫/৬ হাজার লোককে যে আশ্রয় নেয়ার পারমিশন নিয়েছে সেটাও একটা বড় কাজ হয়েছে। অন দ্যা স্পট রিয়েলিটিটা কেউ যদি না বোঝেন তাহলে তো হবে না। এ নিয়ে রাজনীতি করতে চাইলে করাই যায়। কিন্তু রিয়েলিটিটা বুঝতে হবে যে, আমি মুন্নী সাহাও বিপদে পড়তে পারতাম। আমাকে নিগোশিয়েট করে আনার জন্য হয় তথ্য মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনও মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার দরকার আছে। কিন্তু যেখানে একটি দেশের সরকার নেই। ৪/৫ জনের পরিবর্তনশীল একটি বডি দেশ চালাচ্ছে তাদের কার সাথে যোগাযোগ করবে? এটা বুঝে একটি দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে রিপোর্টিং করা উচিত। আমি প্রথম সেখানে বাংলাদেশ সরকারের দু’জন কর্মকর্তাকে পেয়েছি। ৪/৫ দিন পর ৮ জনকে দেখেছি। তো আমাদের রিপোর্টারদের দেখে ওরা এক ধরনের আশ্বস্ত হয়েছে।

সাললুম চরমভাবপন্ন একটি জায়গা। দিনের বেলা গরম আর রাতের বেলা প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। আমরা বলি না যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা আবহাওয়া পরিবর্তীত হয়ে যাচ্ছে। মিশরের মতো একটি শুষ্ক জায়গায় বৃষ্টি হচ্ছে। সেখানে সেই প্রতিকূল পরিবেশে এতোগুলি মানুষ গাদাগাদি করে নিজেদের কম্বল বা গরম কাপড় শেয়ার করে থাকছিল। আমি অনেকের ইন্টারভিউ নিয়েছি। আমার ফোন থেকে অনেকেই দেশে কথা বলেছেন স্বজন-পরিজনদের সাথে। ওদের সাক্ষাত্কার বা ছবি দেখে দেশে থাকা পরিবারের, দেশবাসী অন্তত মনে করেছে তাদের পাশে এসে সরকার ও গণমাধ্যম দাঁড়িয়েছে।

কাজী হাসান : আপনার কি মনে হয় আপনার উপস্থিতির কারণে বাংলদেশীদের দেশে ফেরার বিষয়টি তরান্বিত হয়েছে?
মুন্নী সাহা : এটা দাবী করাটা অহংকার মতো শোনায়। আমরা না গেলে বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে উদ্যোগটা তরান্বিত হতো না আমি তা মনে করি না। কিন্তু যারা আটকে ছিলেন ওখানে তাদের রাগ, ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত করতে আমরা ভূমিকা রেখেছি আর কি! আমাদের ওপর রাগটা দেখানো তার মানে সরকারের ওপর তা গিয়ে পড়েনি। আমি জানি যে বিষয়টি সরকার খুব গুরুত্বের সাথেই নিয়েছিল। দেশ থেকে যাওয়ার আগে আমি পররাষ্ট্র সচিবের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। ওখানে যিনি এ্যাম্বাসেডর আছেন তার সাথে ফোনে কথা বলেছিলাম। একটা মানসিক চাপ তাদের মধ্যে হয়তো ছিল যে, এটিএন নিউজ চলে এলো, আমরা কেনো অন দ্যা স্পট নেই? কিন্তু আমরা না গেলে ওনারা যে যেতেন না তা না।

কাজী হাসান : এরপর আপনি কোথায় গেলেন?
মুন্নী সাহা : এক সময় মিশুক মুনীর স্যার গ্রিস থেকে সানলুম চলে এলেন। রিপোর্টিং একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। সাললুম কভার করাই যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। তিন চার দিন আমি একা ছিলাম। আমি নিজেই ক্যামেরাম্যান, নিজেই রিপোর্ট করছি, নিজেই ফুটেজ পাঠাচ্ছি। ওয়ানম্যান শো আর কি! যখন আমরা চেষ্টা করছিলাম। আমরা ভাবলাম বেনগাজীতে যাওয়া যায় কি না। সেখানে যাওয়ার সাহস আমি পেয়েছি আমাদের সিইও স্যার সঙ্গে ছিলেন বলে। না হলে হয় তো আমি একা এতো দূর যেতাম না। এটার উদ্দেশ্য যুদ্ধ দেখতে যাওয়া না। এটিএন নিউজ থেকে আমার ফোন নম্বর নিয়ে অনেকেই আমার সাথে ফোনে যোগাযোগ করছিলেন। রাস্তার কি অবস্থা, তারা কিভাবে সাললুম বর্ডারে পৌঁছবেন ইত্যাদি জেনে নিচ্ছিলেন। আমি তো বলতে পারবো না বেনগাজীর রাস্তা কি রকম। সেখানে বাংলাদেশী আরও ৫০ হাজার এর মতো। অনেকেই আসতে চাচ্ছেন। কিভাবে আসবেন? নানা প্রশ্ন। আমি না জেনে তো ওই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি না। এ কারণে বেনগাজী আমার আগ্রহের বিষয় ছিল। স্যারও আমার ফোন রিসিভ করা, কথা বলা খেয়াল করছিলেন। স্যার বললেন, আমাদের বোধ হয় একটু চেষ্টা করা দরকার কতদূর যাওয়া যায়। অন্য বিদেশী সাংবাদিকরা আশেপাশে ছিলেন। ফ্রান্স আরব দেশের অনেকেসহ আমরা মোটেলের মতো একটা জায়গায় ছিলাম। প্রতিদিন সকাল বেলা এদের সাথে একটু আধটু কথা হতো। অনেকে হয়তো লিবিয়ার কিছু অংশে ঢুকে আবার ফেরত চলে এসেছে। দু’জন ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিকের সাথে আমার কথা হলো ওরা সেখানে যাচ্ছে। কিভাবে যাচ্ছে, পারমিশন কি লাগে না লাগে, কোত্থেকে লাগে সেটাও শুনলাম। সিদ্ধান্ত হলো বেনগাজী যেতে পারলে এক রাত থেকে চলে আসবো। আমরা তো জানি বর্ডারের অবস্থা। এক দেশের একটি গেট। তারপর একটু নো ম্যানস ল্যান্ড। ওটুকু হেঁটে পার হলে অন্য দেশের আরেকটি গেট। আমি যখন সাললুম গেট পার হলাম নো ম্যানস ল্যান্ড দিয়ে তখন অন্য রকম এক অনুভূতি আমার। আমি বার বার ফোনটা দেখছিলাম। ফোনের নেটওয়ার্ক আছে কিনা! মনের মধ্যে একটা ভয়ও কাজ করছিল নেটওয়ার্ক আউট মানে আমি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম সবার থেকে, আমার পরিচিতদের কাছে। এটিএন নিউজের কাছে খবর নেই আমি কোন জায়গায় যাচ্ছি। হয়তো আমি মিশুক স্যারের সাথে। আমার যা হবে মিশুক স্যারেরও তাই হবে। ওনাকে মেরে ফেললে আমাকেও মেরে ফেলবে। তো ছোট একটা ট্যাক্সি দাঁড়ানো। একজন বৃদ্ধ লোক জিজ্ঞেস করলেন যাবো কিনা। ইংরেজি তেমন ভাল বলে না। স্যার আমাকে একটু ইজি করার জন্য বললেন, এই বুড়োটা বোধ হয় তোমাকে পছন্দ করেছে। চলো যাই। ওই গাড়িতে উঠলাম। স্যার ড্রাইভারকে বললেন, আমরা দেখবো কোন পর্যন্ত যাওয়া যায়। উনি আমাদের পছন্দ করলেন। স্যার ক্যামেরাম্যান, আবার রিপোর্টার, আমিও রিপোর্টার। বয়স্ক লোকটি আবার কিছুটা ফাদারলি এটিচুডের, ঠিক ড্রাইভারের মতো আচরণ করছেন না। বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে, যতদূর যাওয়া যায় আমি তোমাদের নিয়ে যাবো। আমার বর্ডার ক্রস করলাম। আমাদের পাসপোর্ট এন্ট্রি হলো। তারপর গাড়ি থেকে যেখানে নামলাম সেখানে অনেক জটলা। বুঝে গেলাম আমরা লিবিয়ার মধ্যে ঢুকে গেছি এবং পরিস্থিতিটা একদম আলাদা। হয়তো দশ গজের ব্যবধান। দুটো গেটের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটু কেমন যেনো থম থমে। সবাই যেনো বিদ্রোহী। সেই জটলার মধ্যে বুড়ো ড্রাইভার ঢুকে কথা বলে একটা লোককে ডেকে নিয়ে আসলো। লোকটি একটু উত্তেজিত টাইপের। সে কথা শুনে বললো, ঠিক আছে আমি তোমাদের নিয়ে যাচ্ছি তুবলুক পর্যন্ত। আমরা আরেকটা গাড়িতে উঠলাম। তখন খেয়াল করলাম আমরা নেওয়ার্কের বাইরে। আমরা তখন আউট সব ট্রেস। নিউজ রুমের কেউ জানে না আমরা কোথায়। আমার কাছে ২টি লিবিয়ান সিমকার্ড ছিল। সিমকার্ড অন করলাম। রিফিল করলাম। তারপর আমাদের অবস্থান নিউজ রুমকে জানালাম। যতটুকু যাচ্ছি, যেখানে গিয়ে পৌঁছাচ্ছি বার বার তা নিউজ র]

]>

One Response

Write a Comment»
  1. Sabas Munni Sabas / Rokonuzzaman khan dada bhai er adorsho kormi tumi/tomake lal salam,tumi sanniddho peyechile Safi bhaier/munshigonjer gorbo tumi / /Tomar e Anju Da