সংসদীয় উপকমিটিতে ফখরুদ্দীন-মইনকে আবারো তলবের সিদ্ধান্ত

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় উপ-কমিটি আবারও তলবের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপকমিটির সপ্তম বৈঠকে হাজির হয়ে বক্তব্য রাখতে তাদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৫ জুন ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে উপকমিটির বৈঠক শেষে কমিটির আহ্বায়ক রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘তারা চিঠিতে ওই সময়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তবে আমরা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতসহ সব কিছু তাদের মুখ থেকে শুনতে চাই।’

পুনরায় ডাকেও সাড়া না দিলে কী করা হবে- এসমন প্রশ্নের জবাবে মেনন বলেন, ‘আমরা মনে করি, নির্বাচিত সংসদের কাছে তাদের হাজির হওয়া উচিত। যদি তা না হয় তবে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’

মেনন জানান, সংঘর্ষের সময় আহত ছাত্রদের বক্তব্য আগামী ১৯ মে শুনবে সংসদীয় উপকমিটি।

২০০৭ এর আগস্ট মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলার মাঠে সেনা সদস্য ও ছাত্রদের সংঘর্ষের পর সারাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার জন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষকসহ অনেক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। শতশত শিক্ষার্থী সেনা সদস্যের নির্যাতনের শিকার হন।

সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে গত বছরের আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় উপ-কমিটি গঠন করা হয়। পরে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৫ নং উপ-কমিটির চতুর্থ বৈঠকে ফখরুদ্দীন আহমদ এবং সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদকে তলবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ২৯ মার্চ ফখরুদ্দীনকে সংসদীয় উপ-কমিটিতে হাজির হওয়ার চিঠি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে এবং মইন উ আহমেদের চিঠি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাধ্যমে দেওয়া হয়।

সোমবার তাদের কমিটিতে হাজির হওযার কথা ছিলো।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত দুজনই চিঠির মাধ্যমে কমিটির সামনে হাজির হওয়ার অপরাগতা প্রকাশ করেন। চিঠিতে ফখরুদ্দীন আহমেদ ওই সময়কার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন উপ কমিটিকে দেখার অনুরোধ করেছেন। তবে ওই প্রতিবেদন পূর্ণাঙ্গ নয় বলে মনে করে উপ কমিটি।

উপ কমিটিতে হাজির হতে অপারগতা প্রকাশ করলে কমিটির ৫ জুন নতুন তারিখ ঠিক করে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

[ad#bottom]