জাপানে থেমে থেমে শক্তিশালী ভূমিকম্প, পরমাণু বিপর্যয়ের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

রাহমান মনি
১১ মার্চ ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ব্যাপক জানমালের ক্ষতির ঠিক এক মাস পর গত সোমবার (১১ এপ্রিল) বিধ্বস্ত জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারো শক্তিশালী ভূমিকম্প যা রিখটার স্কেলে ৭.১ (পরে সংশোধনী করে ৭.০) প্রচণ্ড আঘাত হানে। বিকেল ৫-১৬ মি. আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের ফলে ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৬ বছরের এক কিশোরী রয়েছে। সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা তুলে নেয়া হয়। রাত ৮-৪২ আবারো শক্তিশালী ভূমিকম্প প্রচণ্ড আঘাত হানে। ইবাবাকিতে। এর পর থেকে থেমে থেমে ৩ সিরিজ ভূমিকম্প হতে থাকে। আজ সকাল ৮.০৮-এ আবারো চিবা এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। উভয় ক্ষেত্রেই ৬.৩ মাত্রার কম্পন হয়। টোকিওতেও কম্পন অনুভূত হয়।

এমন সিরিজ ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে আণবিক শক্তি কমিশন দেশে পারমাণবিক বিপর্যয়ের সঙ্কেত সর্বোচ্চ পর্যায়ে অর্থাৎ ৭-এ উন্নীত করেছে। যা ইতিপূর্বে ৫-এ ছিল। সতর্ক সঙ্কেত ৭-এ উন্নীত করায় ১৯৮৬ সালে রাশিয়ার চেরনোবিলে সংঘটিত হয় যা এ যাবৎকালে বিশ্বের সর্বোচ্চ পারমাণবিক বিপর্যয় বলে চিহ্নিত তার সমপরিমাণ সতর্কতায় দাঁড়াল। ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের থ্রি মাইল আইল্যান্ড পারমাণবিক দুর্যোগের সময় ৫ মাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

জাপান নিউক্লিয়ার সেফটি এজেন্সির মুখপাত্র হিদেহিকো নিশিয়ামা সংবাদ সম্মেলনে জানান, সোমবারের ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন ধরে যায়। তবে প্রকৌশলীরা সঙ্গে সঙ্গে তা নেভাতে সক্ষম হন। তিনি আরো জানান, মার্চের দুর্ঘটনার পর একটু সময় নিয়ে এবং আন্তর্জাতিক নিউক্লিয়ার অ্যান্ড রেডিওলজিক্যাল ইভেন্ট স্কেল ব্যবহার করে সর্বোচ্চ সতর্কতা অর্থাৎ ৭ নির্ধারণ করা হলো। পরমাণু দুর্ঘটনার গুরুত্ব নির্দেশ করতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রস্তুত স্কেলটির ব্যাপ্তি ০ থেকে ৭ পর্যন্ত। ৭ মাত্রায় সতর্ক সঙ্কেতের অর্থ হলো পরমাণু কেন্দ্র থেকে ব্যাপক হারে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটা প্রাণীকুলের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এ দিকে টেপকো জানিয়েছে, তেজস্ক্রিয়তা নির্গমন বন্ধ করতে না পারলে এর ক্ষতির মাত্রা ও পরিমাণ চেরনোবিলকেও ছাড়িয়ে যাবে। কারণ জাপান চেরনোবিল এলাকা থেকে ঘনবসতিপূর্ণ এবং পরিবেশগত কারণে টেপকে দুর্যোগ এলাকার আরো বিস্তৃত এলাকায় লোক সরানোর পরামর্শ দেয়।

তবে জাপান নিউক্লিয়ার সেফটি এজেন্সি মনে করে ফুকুশিমার তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা চেরনোবিলের চেয়ে এখনো অনেক কম এবং এটা বাড়ার তেমন সম্ভাবনা না থাকলেও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এদিকে ফুকুশিমা অঞ্চলের শাকসবজি এবং দুধের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল তা তুলে নেয়া হয়েছে। জাপান ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার বিভাগ এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।

চাই সতর্কতা : দুর্যোগ মোকাবিলায় চাই সতর্কতা। প্যানিক নয়। জাপানের বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে সচেতনতাই পরিস্থিতি মোকাবিলার একমাত্র হাতিয়ার। টোকিও বা আশপাশ জেলাগুলোতে বসবাসরত প্রবাসীদের হা-হুতাশ হওয়ার কিছুই নেই। একটু সতর্কতা, প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস হাতের কাছে রাখুন, যে কোনো পরিস্থিতি যেন সামলে নিতে পারেন। এটা কেবল ভূমিকম্পের বেলায়। টোকিওতে তেজস্ক্রিয়তার কোনো সম্ভাবনা নেই। নিজে বিচলিত হবেন না, পরিবেশ প্যানিক করবেন না।

rahmanmoni@shaptahik.com

[ad#bottom]