অবশেষে ড. ফখরুদ্দীনের হদিস মিলেছে

অবশেষে ১/১১ পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদের হদিস মিলেছে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের পোটোম্যাক শহরে অবস্থান করছেন। ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা সেখানে গিয়ে তাকে সংসদীয় উপ-কমিটিকে সাক্ষ্য দানের জন্য পাঠানো চিঠি পৌঁছে দিয়েছেন। তবে এই চিঠিটি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেননি। সংসদ সচিবালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র শীর্ষ নিউজ ডটকমকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি এম জে এইচ জাভেদ সাবেক এই প্রধান উপদেষ্টার মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ১০৮৮, ব্রিক ইয়ার্ড, পোটোম্যাকের ঠিকানায় সরাসরি গিয়ে ওই চিঠি পৌঁছে দেন। এ সময় ফখরুদ্দীন আহমদ চিঠিটি হাতে নিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করতে রাজি হননি। এ কারণে পরবর্তীতে দুতাবাসের পক্ষ থেকে তার ই-মেইলেও ওই চিঠি পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মঙ্গলবার বিকেলে শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ফখরুদ্দীন আহমদকে সরাসরি চিঠি পৌঁছানো হয়েছে। যতদূর জানতে পেরেছি প্রথমে তিনি এই চিঠি নিতে রাজি হননি। পরে সেটি নিলেও তা আনুষ্ঠানিক ভাবে রিসিভ (গ্রহণ) করেননি। এ কারণে পরে তার ই-মেইলও চিঠিটি দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, সাবেক এই সরকার প্রধানের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাওয়া যেতে পারে।

এর আগে সংসদীয় কমিটিতে সাক্ষ্য প্রদান সংক্রান্ত ওই চিঠি ফখরুদ্দীনের মুন্সিগঞ্জ ও ঢাকার ঠিকানায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়। চিঠিটি পৌঁছানোর জন্য ওই দুই জেলার প্রশাসনের উপর দায়িত্ব দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরই প্রেক্ষিতে মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসন ফখরুদ্দীনের বাড়িতে কাউকে না পেয়ে ৭ জন সাক্ষীর সামনে বাড়ির দরজায় চিঠিটি ঝুলিয়ে দিয়ে আসেন। এদিকে- ঢাকা জেলা প্রশাসনও তার ঢাকাস্থ ঠিকানায় কাউকে পায়নি। এরই প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় তাকে সরাসরি চিঠি পৌঁছানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। এর আগে ফখরুদ্দিন আহমদ ছাড়াও সাবেক সেনা প্রধান মইন উ আহমেদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এই উপ কমিটির ৫ম বৈঠকে হাজির হতে বলা হয়। তাদের হাজিরা নিশ্চিত করতে গত ২৯ মার্চ সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর পৃথক দুটি চিঠি পাঠানো হয়। সংসদ সচিবালয়ের কমিটি শাখা-৭ এর সিনিয়র সহকারী সচিব শাহ মাহমুদ সিদ্দিক স্বাক্ষরিত ওই চিঠি দু’টিতে ফখরুদ্দীন আহমদ ও মইন উ আহমেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মূলত সেনা সমর্থিত ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খেলার মাঠের ঘটনাকে কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও সেনা সদস্যের মধ্যে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় সাক্ষ্য দিতে তাদের ডাকা হয়েছে। ওই সহিংসতার ঘটনা তদন্তে গঠিত এই উপ-কমিটির ৪র্থ বৈঠকে ফখরুদ্দিন আহমদ ও মইন উ আহমেদকে তলবের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর কমিটির আহবায়ক জানিয়েছিলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক চিফ অব জেনারেল স্টাফ সিনা ইবনে জামালী ও তৎকালীন ডিজিএফআই’র কর্নেল ছামস বা বর্তমান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছামসুল আলম খানের দেয়া সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাদের তলবের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই মইন উ আহমেদের ‘আন-অফিসিয়াল’ (অনানুষ্ঠানিক) আলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এই উপ-কমিটি। একই সাথে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগের জন্য বলেছে তারা। গত ৭ এপ্রিল শীর্ষ নিউজ ডটকমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাবেক এই সেনা প্রধান সংসদীয় উপ-কমিটির সদস্যদের সাথে ভিডিও চ্যাটিংয়ের (ভিডিও আলাপ) প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু কমিটি তাও নাকচ করে দিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এ নিয়ে আলাপকালে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সেনা সদর দফতরের মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে কাউকে আমন্ত্রণ জানানোর পর তিনি যদি আসতে না পারেন; তবে তা সাধারণত ৭ দিন আগেই জানিয়ে দেয়া হয়। আর উপ-কমিটির ওই বৈঠকের আর মাত্র ৬ দিন বাকী। কিন্তু মইন ইউ আহমেদের ব্যাপারে সেনা সদর দফতর সংসদ সচিবালয়কে এখনো কিছু জানায়নি। এ কারণে তিনি (মইন) কমিটির বৈঠকে আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে- ফখরুদ্দীন ও মইন সংসদীয় উপ-কমিটির বৈঠকে হাজির না হলে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, এখনই এ ব্যাপারে কিছু বলা ঠিক হবে না। পরবর্তীতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৮ এপ্রিল সকাল ১১টায় সংসদ ভবনের ৪র্থ তলার ২নং স্থায়ী কমিটি কক্ষে উপ-কমিটির ওই ৫ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত বছরের ১৯ আগস্ট এই কমিটি গঠন করা হয়।

শরীফ খিয়াম
—————————————————-

যুক্তরাষ্ট্রে ফখরুদ্দীনকে সংসদীয় উপ-কমিটির চিঠি পৌঁছে দিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের পোটোম্যাক শহরে অবস্থান করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় উপ-কমিটির বৈঠকে হাজির হয়ে তাকে সাক্ষ্য দেয়ার বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের পাঠানো চিঠি তার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা। তবে ড. ফখরুদ্দীন চিঠিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে।

উপ-কমিটির আহ্বায়ক রাশেদ খান মেনন জানান, ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি এম জে এইচ জাভেদ মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ১০৮৮, ব্লিক ইয়ার্ড, পোটোম্যাক শহরে ড. ফখরুদ্দীনের বাসায় গিয়ে চিঠিটি পৌঁছে দেন। মেনন বলেন, যতটুকু জানি তিনি প্রথমে চিঠিটি নিতেই রাজি হননি। পরে হাতে নিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেননি। পরে দূতাবাস থেকে ফখরুদ্দীনের ই-মেইলে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, ড. ফখরুদ্দীনকে উপ-কমিটির চিঠি পৌঁছে দেয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দায়িত্ব দিয়েছিল ঢাকা জেলা ও মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে। মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ড. ফখরুদ্দীনের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে সাত জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে চিঠিটি তার বাড়ির দরজায় ঝুলিয়ে দিয়ে আসে। অন্যদিকে ঢাকা জেলা প্রশাসনও তার খোঁজ পায়নি। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ড. ফখরুদ্দীনকে যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের আগষ্টে জরুরি অবস্থার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল খেলার মাঠকে কেন্দ্র করে সংঘঠিত সেনা-ছাত্র-শিক্ষক সংঘর্ষের বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার জন্য উপ-কমিটির আগামী ১৮ এপ্রিল সংসদ ভবনে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে ফখরুদ্দীন ও মইনকে হাজির হতে বলা হয়েছে। ফখরুদ্দীনের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংসদ সচিবালয়ের কমিটি শাখা-৭ এর সিনিয়র সহকারী সচিব শাহ মাহমুদ সিদ্দিক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গত ২৯ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব বরাবরে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, মইনকে হাজির করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর।

উপ-কমিটির আহ্বায়ক মেনন এরইমধ্যে জানিয়েছেন, জেনারেল (অব.) মইন তার একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন উপ-কমিটির এক কর্মকর্তার কাছে। মইন পরোক্ষভাবে প্রস্তাব দিয়েছেন যে- তিনি টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য দিতে চান। তবে উপ-কমিটি তাকে লিখিত বক্তব্য দিতে বলেছে। জেনারেল মইন এ-ও প্রস্তাব দিয়েছেন, তিনি উপ-কমিটির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে বসতে চান। মেনন জানান, মইনের এই বিকল্প প্রস্তাবও নাকচ করা হয়েছে। উপ-কমিটি জানিয়ে দিয়েছে, মইনকে বৈঠকে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবেই বসতে হবে। পরে মইনের প্রতিনিধি উপ-কমিটিকে জানান, তিনি তার (মইন) সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তিতে আবার উপ-কমিটিকে অবহিত করবেন।

মেনন বলেন, আমরা ধারণা করছি- মইন সাহেব হয়তো লিখিত বক্তব্য পাঠাবেন। যদি পাঠিয়ে থাকেন তাহলে তা নিয়ে আমরা ১৮ এপ্রিলের বৈঠকে আলোচনা করবো। উপ-কমিটির সদস্যদের সবার মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। উল্লেখ্য, জেনারেল মইনও বর্তমানে দেশের বাইরে।

শামছুদ্দীন আহমেদ: আমাদের সময়
———————————————-

[ad#bottom]