পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ পরিবারের

গজারিয়ার মমতাজ হত্যাকাণ্ড
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মমতাজ বেগম হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বের হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশের অসহযোগিতার কারণে মামলার তদন্তও থেমে আছে। গতকাল রবিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মমতাজের স্বামী প্রবাসী কামরুল হাসান চৌধুরী এ অভিযোগ করেন। নিহতের স্বামীসহ স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে কামরুল হাসান চৌধুরী জানান, স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ তাঁরা সবাই প্রবাসী। বাড়ি তৈরি ও অন্যান্য কাজের জন্য দুই বছর ধরে তিনি ও স্ত্রী মমতাজ বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। গত ২৪ মার্চ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার শিমুলিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে মমতাজ বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় ৫২ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ছয় লাখ টাকা লুট করে দুর্বৃত্তরা। পরে তিনি নিজে বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। কিন্তু পুলিশের অসহযোগিতার কারণে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে তারা এলাকায় আসে। হত্যাকাণ্ডের পর দুই সপ্তাহ পার হলেও এখন পর্যন্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাননি তাঁরা।
কামরুল হাসান চৌধুরী অভিযোগ করেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানকে সাহায্য করায় এবং মতলব থানাধীন বেলতলি ন্যাংটার মেলা উপলক্ষে বাজার লঞ্চঘাট ইজারা নিয়ে চেয়ারম্যানের ভাই খোকন চৌধুরীর সঙ্গে তাঁদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে খোকন বিভিন্ন সময় তাঁদের হুমকি দিতেন। অন্যদিকে তাঁদের গ্রামের বাড়ির সম্পত্তির কেয়ারটেকার আবদুল খালেককে চুরিসহ বিভিন্ন অপকর্মের কারণে বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রী মমতাজ বের করে দেন। তখন খালেক তাঁদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তাঁরা মিলেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে কামরুল হাসান দাবি করেন।

গজারিয়া থানার ওসি আরজু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে কালের কণ্ঠকে ফোনে জানান, তাঁরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। এই মামলার তদন্তকাজ চলছে। শিগগিরই তাঁরা প্রকৃত আসামিদের খুঁজে পাবেন বলে আশা করছেন।

[ad#bottom]