তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পক্ষে মত এটর্নি জেনারেলেরও

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর পক্ষে মত দিয়েছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে অভিমত তুলে ধরে আরো বলেন, অনির্বাচিত লোক গণতন্ত্রের চর্চা করলে গণতন্ত্রের স্পিরিট নষ্ট হবে, এটা ঠিক নয়। আজ বুধবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের সভাপতিত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আজ নবম দিনের মতো এ শুনানি গ্রহণ করেন।

এটর্নি জেনারেল বলেন, জাতির একটি সন্ধিক্ষণে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী আনা হয়। বিতর্কমুক্ত একটি ভোটার তালিকা তৈরি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাদের প্রজাতন্ত্রের ধারাবাহকতাকে নষ্ট করছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। যায তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ বলে মন্তব্য করছে, আমি তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করি। তিনি বলেন, আমাদের ঐতিহাসিক প্রয়োজনেই এটা করা জরুরি ছিল। কাজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা খারাপ নয়। তবে কিছু লোকের কারণে এটা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির রদবদল করতে হলে তা সংসদ করবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে বিচার বিভাগ দূরে রাখার বিষয়ে কোন কোন আইনজ্ঞের পরামর্শের বিরোধিতা করে এটর্নি জেনারেল বলেন, প্রধান বিচারপতি অবসর গ্রহণের পরই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকেন। এটা কোন বাধ্যতামূলক বিষয় নয়। কেউ যদি জাতির কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আছে কিনা_ তা নিয়ে সংশয়ে থাকেন, তাহলে তিনি চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ প্রসঙ্গে এটর্নি জেনারেল ভারতের নজির তুলে ধরে বলেন, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতেই সেখানে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেন নাই।

তিনি অনির্বাচিতদের রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে কারো কারো বিরোধিতার প্রেক্ষিতে বলেন, সংবিধানেই মন্ত্রিসভায় এক-দশমাংশ অনির্বাচিত রাখার বিধান আছে। তাছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য তিন মাসের জন্য ক্ষমতায় আসে। নির্বাচন শেষে তারা বিজয়ীদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে চলে যান। এ প্রসঙ্গে এটর্নি জেনারেল রাশিয়া, শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়ার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নজির তুলে ধরে আরো বলেন, আমাদের দেশে রাষ্ট্রপতিও একজন নির্বাচিত ব্যক্তি। কাজেই রাষ্ট্রপতি দেশ পরিচালনা করলে সেটি অগণতান্ত্রিক হবে, এ ধরনের বক্তব্য সঠিক নয়।

গত ১ মার্চ এ মামলার শুনানি শুরু হয়। এর মধ্যে ড.কামাল হোসেন, বিচারপতি টি এইচ খান, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ড. এম জহির, ব্যারিস্টার এম আমির-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসি এমিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়। ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ অন্যরা হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন। এ প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনী সংবিধানসম্মত। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে মূল রিট আবেদনকারী এম সলিমউল্লাহ মারা যাওয়ায় আপিলটি বর্তমানে মো. আব্দুল মান্নান খান বনাম বাংলাদেশ সরকার নামে কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

[ad#bottom]