লৌহজংয়ে ক্রেতার অভাবে আলু নিয়ে চাষীরা বিপাকে

আলুচাষের জন্য খ্যাত বিক্রমপুর তথা মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলা এবার আলুর মৌসুমে ফলন ভালো হলেও খুশি হতে পারছেন না আলুচাষীরা । এ বছর উপজেলার ৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। ১ লাখ ২১ হাজার ৮শ’ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হলেও গত বছরের তুলনায় হেক্টরপ্রতি ১.৪ মেট্রিক টন কম উৎপাদন হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩১ হাজার ১শ’ মেট্রিক টন ধরা হলেও টার্গেট পূরণ হয়নি নানা প্রতিকূলতার কারণে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী হাবিবুর রহমান।

বর্তমানে লৌহজংয়ের কৃষকরা ফলন বেশি কম নিয়ে ভাবছে না এখন মূল সমস্যা দাঁড়িয়েছে আলুর পোকার উপদ্রব, আলুর ন্যায্য মূল্য ও আলুর উঠানোর শ্রমিক (দিনমজুর) নিয়ে। উপজেলার খিদিরপাড়া গ্রামের আলুচাষী মোসলেম সিকদার জানান, তিনি এবার তিন কানি জমিতে আলুর চাষ করেছেন। ফলনকৃত এক-তৃতীয়াংশ আলু পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে। একই এলাকার আলুচাষী আল ইউসুফ হাসান জানান, এবার তিনি ২০ কানি জমিতে আলু চাষ করেছেন, আলু এবার কৃষকের গলার কাঁটা হয়েছে, ন্যায্যমূল্য নেই, আলু ওঠানোর শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। একজন শ্রমিককে তিন বেলা খাবার দিয়ে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা প্রতিদিন দিতে হচ্ছে যেখানে ১ মণ আলু বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৭০ টাকায় তাও বর্তমানে আলুর ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। কলিকাতা ভোগদিয়া গ্রামের মাসুম মৃধা জানান, এবার তিনি ৫ কানি জমিতে আলু চাষ করেছেন, ফলন বাম্পার হলেও ৩ দিন ধরে পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়েছে জমির অর্ধেকের বেশি আলু, যা বিক্রি করতে না পেরে জমির মাঝখানে স্তূপ করে রেখে দেয়া হয়েছে। হঠাৎ করে পোকার আক্রমণ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

দিনের শেষে

[ad#bottom]