অনেক চাপের পরও পদ্মা সেতু নির্মাণে দরপত্রের প্রস্তাবে বিশ্বব্যাংকের সম্মতি

পদ্মা সেতু নির্মাণে দরপত্রের প্রস্তাবে অবশেষে বিশ্বব্যাংক সম্মতি দিয়েছে। গত ৩০ মার্চ এ সম্মতি দিয়েছে বলে জনা গেছে। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এই সম্মতিপত্র বাংলাদেশে পাঠাবেন। ড. ইউনূসের অব্যাহতির বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পাশ্চাত্য কয়েকটি দেশ বিশ্বব্যাংক যাতে এ প্রস্তাবে সম্মতি না দেয়, এর জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল। এছাড়া লবিষ্ট নিয়োগ করেও বিরোধিতা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করে কয়েক হাজার অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছিল বিশ্বব্যাংকের কাছে। এসব অভিযোগ শুনে তা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এবং বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে অর্থমন্ত্রী, যোগাযোগমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসকে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে চলতি মাসের শেষের দিকে চূড়ান্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে। বিশ্বব্যাংকের সম্মতি পাওয়ায় এখন আর কোনো সমস্যা নেই। বাংলাদেশ সেতু বিভাগ এ বিষয়ে সব প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থ পাওয়া যাবে। সেটা দিয়েই নির্মাণ কাজ শুরু হবে। পরে পাওয়া যাবে জাইকার অর্থ।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা পর্যন্ত প্রস্তাবিত পদ্মা সেতুটি ৪ লেনবিশিষ্ট হবে। যার দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দ্বিতল এ সেতুর নিচের তলায় রেল চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা জোগান দেয়া হবে বৈদেশিক ঋণ থেকে। বাকি টাকা সরকারের। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রায় ৪ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকার ঋণ নিশ্চিত করেছে। ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) দেবে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। তাদের অর্থ দিয়ে সেতুর সংযোগ সড়ক তৈরি হবে। জাপানি সংস্থা জাইকা পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। এডিবি, জাইকা ও আইডিবি তাদের বোর্ডে এই ঋণসহায়তা অনুমোদন করেছে। ২০১৩ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

হুমায়ুন কবির খোকনঃ আমাদের সময়#০১-০৪-২০১১

[ad#bottom]