নতুন বিমানবন্দরের প্রয়োজন নেই

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগে বিস্মিত হয়েছি। এর কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। কেননা নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কোন উৎপাদন বাড়াবে না। তাছাড়া আমাদের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। ফলে নতুন আরও একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ বরং উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত করবে। আমাদের প্রয়োজন বিনিয়োগ যা উৎপাদন বাড়াবে। কৃষি, শিল্প, রেলওয়ে যোগাযোগকে উন্নত করা দরকার। আমাদের দেশের লোকদের জন্য নতুন বিমানবন্দর দরকার নেই। যেখানে বিমানবন্দর নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে তা বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত।

এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাভূমি, এর নিচে আছে পিট কয়লা। তা ভরাট করে রানওয়ে তৈরি করলে ৮০০ টনের বিমান ওঠানামা করলে দেবে যাবে। অন্যদিকে বিল ভরাট করতে পদ্মা থেকে বালি আনায় পদ্মার ভাঙন বাড়বে। এমনিতেই বর্ষায় এ বিল প্লাবিত হয়। আর তা ভরাটের ফলে চারপাশে প্লাবন ঘটবে। তাছাড়া বাংলাদেশের আইনে জলাভূমি ভরাট নিষিদ্ধ। সেখানে সরকার নিজেই আইন ভঙ্গ করছে। বৃহৎ এই জলাভূমি ভরাটের ফলে স্থানীয় বর্গাচাষি, তাঁতি, জেলে তাদের ভূমি হারাবে এবং কর্মসংস্থানের পরিবর্তে বেকারত্ব ও ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়বে। কারণ, বিমানবন্দরে এয়ার হোস্টেজ, পাইলট, ক্রু, কাস্টমস কর্মকর্তা এসব নেয়া হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কিছুই হবে না। উপরন্তু বিমানবন্দর ও স্যাটেলাইট শহর নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ফলে মানবিক বিপর্যয় ঘটবে। আমরা হারাবো হাজার বছরের ঐতিহ্যসমৃদ্ধ বিক্রমপুরকে। বলা হচ্ছে, খাদ্যঘাটতি মোকাবিলায় প্রতি ইঞ্চি উর্বর জমি চাষ করতে হবে। কিন্তু যেখানে উচ্চ ফলনশীল ইরি চাষ হয়, মাছ হয়, শাকসবজি হয়, শামুক পাওয়া যায়-তা ধ্বংসের চেষ্টা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত হয়তো বিমানবন্দর হবে না; জমি অধিগ্রহণের ফলে জমির দাম বাড়বে। সেটা ভূমিহীন বা বর্গাচাষি জেলে এদের ভাগ্যে জুটবে না। তারা বরং বসতবাড়ি হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব হবে। এছাড়া যে স্থানে বিমানবন্দর নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে তার কোন ফিজিবিলিটি স্টাডি হয়নি, কোন জরিপও হয়নি, লাভ-লোকসান কি দাঁড়াবে তারও কোন হিসাব হয়নি। ঢাকার অতি সন্নিকটে এই বিমানবন্দর নির্মাণের ফলে যানজট আরও বাড়বে। এটা একেবারেই অবাস্তব অমানবিক পরিকল্পনা। আশা করি, সরকার অপচয়মূলক এই ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বিরত থাকবে।

[ad#bottom]