ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে “কিজুনা”কে পুনরুজ্জীবিত এবং জাপানকে উন্মুক্ত করার কথা বল্লেন কান

রাহমান মনি
জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ড ইকনমিক ফোরামে জাপানের সমাজকে আরো উন্মুক্ত এবং কিজুনাকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে দাভোসে এসে বক্তৃতা দিতে পারাটা এক বিরাট সম্মানের বিষয়। এর কারন যে শুধুমাত্র এখানে বিশ্বনেতৃবৃন্দ রয়েছেন তা নয়। দাভোস ঐতিহ্যগত ভাবে কোন বিষয় সমাজের দূর্বলতম ব্যক্তির দৃষ্টিকোন থেকে দেখে থাকে এবং নাগরিকদের জ্ঞানকে কাজে লাগায়।

কান বলেন, পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করার পর আমি পেটেন্ট এটার্নি হিসেবে তৃনমূল পর্যায়ে কাজ করেছি। এই অবস্থাতেই রাজনীতিতে প্রবেশ করি। ৩০ বছর কাজ করার পর আমি দলের প্রেসিডেন্ট হয়েছি। আজকের এই ফোরামে অংশনিতে পারাটা আমার জন্য খুবই আবেগের বিষয়।

তিনি আরো বলেন, ডায়েট সেশন শুরু হবার পরও আমি এই সম্মেলনে এসেছি কারন এ বছর সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হয়েছে “নতুন বাস্তবতার অংশীদারত্ব” যা আমার নিজের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বিংশ শতাব্দীর শেষ অর্ধে এসে জাপান বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নিজেকে খুলে দেয়। তবে একাবিংশ শতাব্দীতে এখন অনেক জাপানি তরুণ-তরুণীদের দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্মুখী।

“তাই আমরা মনে করি এরকম একটি পরিবেশ থেকে জনগনের মন ও অর্থনীতিকে বের করে আনতে হবে” কান বলেন। জাপানে এজন্য “কিজুনা” বা আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের উপর গুরুত্ব দিতে চান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কান উল্লেখ করেন গত শতাব্দীতে জাপান দু’বার বিশ্ববাসীর কাছে তার অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করেছিলো। এর মাধ্যমে জাপানের দরজা বিশ্বঅর্থনীতির জন্য খুলে যায়। জাপানের সমাজ এ সময় বিদেশী ধ্যানধারনা ও সংস্কৃতিকে বরণ করে নেয়। এটকে ‘দেশের ভেতর থেকেই দেশকে খুলে দেয়া’ বলা যেতে পারে বলে কান বলেন।

কান বলেন, জাপানকে তৃতীয় দফা খুলে দেবার ধারনার পেছনে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। এরমধ্যে একটি হলো অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব। মুক্ত অর্থনীতিই বিশ্বের সমৃদ্ধি আনতে পারে বলে কান মনে করেন। তিনি বলেন জাপানের অর্থনীতি বিশ্বের অন্যতম মুক্ত অর্থনীতি।

কান বলেন, আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের উন্মুক্ত ভবিষ্যত তৈরি করতে পারাটা। আমরা কিজুনাকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে জাপান ও বিশ্বের দেশগুলোর সাথে বৃহত্তর বিশ্ব গড়ে তুলতে চাই।

কমিউনিটি রিপোর্ট

[ad#bottom]