চাঁদা দাবি: পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ!

মিথুন মাহফুজ: বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুর ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চাঁদাবাজির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই শতাধিক শ্রমিক প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন পদ্মা সেতুর মূল দাতা বিশ্বব্যাংকের মিডিয়া টিম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করছিল।

জানা যায়, মোটা অংকের চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ২৮ জানুয়ারি বিকালে স্থানীয় একটি বাহিনী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর মোহাম্মদ খান অ্যান্ড সন্সকে ভয়ভীতি দেখালে প্রতিষ্ঠানের মালিক তার শ্রমিকদের প্রকল্প এলাকা থেকে উঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। গতকাল দুপুরে ঢাকা থেকে বিশ্বব্যাংকের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড কম্যুনিকেশনের একটি মিডিয়া টিম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে প্রকল্প এলাকা শ্রমিক শূন্য দেখতে পান। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে কাজ বন্ধের কারণ জানতে পারেন। চাঁদাবাজির ঘটনায় টিমের প্রধান আরনে হোউল অসন্তোষ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের মিডিয়া টিম প্রথমবারের মতো গতকাল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে।

এর আগে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ ইউনিয়নে পদ্মা সেতুর ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর মোহাম্মদ খান অ্যান্ড সন্সের কাছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী সাব-কন্ট্রাক্ট দাবি করে। এতে অপারগতা প্রকাশ করলে পরবর্তীতে তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসীরা।

এদিকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এ অবকাঠামো নির্মাণ কাজের শুরুতেই এ ধরনের ঘটনা দাতাদের কাছে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন। জানা যায়, এ প্রকল্প নির্মাণে সহায়তা করতে দাতারা যেসব শর্ত দিয়েছে তার মধ্যে নির্বিঘে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে যাতে কাজ করা যায় সে নিশ্চয়তা ছিল। কাজ নির্বিঘ রাখতে যা দরকার তার সবটুকুই সরকার করবে এমন নিশ্চয়তাও ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবারের ঘটনায় প্রথমবারের মতো হোঁচট খেল সরকার।

এ বিষয়ে প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, কাজ বন্ধ হওয়ার কথা আমার জানা নেই। তবে শ্রমিকদের মাঝে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানান।

[ad#bottom]