আ’লীগের কিছু জেলা কমিটি ভেঙে দেয়া হতে পারে

আবদুল্লাহ আল মামুন: ফেব্র“য়ারিতে ভেঙে দেয়া হতে পারে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু জেলা কমিটি। ওই মাসের প্রথম সপ্তাহে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। সেখানে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে। পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা এবং নির্বাচনে ভরাডুবির শিকার জেলা ও নেতাদের তালিকা তৈরির কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বুধবার রাতে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন। এতে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি জানিয়েছেন বলে ওই নেতা যুগান্তরের কাছে স্বীকার করেছেন। মুন্সীগঞ্জ, ভোলা, মৌলভীবাজার, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, পাবনা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, খুলনা ও যশোর এখন পর্যন্ত তালিকায় রয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদকদের রিপোর্টের পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পরাজয়ের কারণ জানাতে এরই মধ্যে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এমপি, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল মনসুর আহমদ, কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমদ, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ এবং যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের কাছে কৈফিয়ত তলবের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমানকে শোকজ করা হয়েছে। জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচনে কাক্সিক্ষত ফলাফল না হওয়ায় আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা ভীষণ বিব্রত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপির ওপর ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে। আর এ ক্ষোভ তিনি প্রকাশ করেন বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে ফেরার পর দেশের মাটিতে পা দিয়েই। তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ। চিফ হুইপের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘কি হারু পার্টি’? দিলেন তো হারিয়ে। জবাবে আবদুস শহীদ কিছুটা আÍপক্ষ সমর্থনের সুরে নির্বাচনে অর্থের ছড়াছড়ির প্রসঙ্গ তোলেন। এতে প্রধানমন্ত্রী বিরক্ত হন এবং নিজেদের কোন্দলের কারণেই যে মৌলভীবাজারে দলীয় প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন তা চিফ হুইপকে স্মরণ করিয়ে দেন। তখন আর কোন কথা না বলে চুপ করে যান চিফ হুইপ। প্রত্যক্ষদর্শী আওয়ামী লীগের এক নেতা বৃহস্পতিবার যুগান্তরের কাছে প্রধানমন্ত্রী ও চিফ হুইপের কথোপকথনের বিষয়ে জানিয়ে বলেন, পৌর নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপির ওপর চটে আছেন। আগামীতে মন্ত্রিসভা রদবদলের সময় এ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে বলেও তিনি আশংকা করছেন।

আওয়ামী লীগের ওই নেতা আরও জানান, বুধবার দেশে ফিরে রাতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলেন। পৌর নির্বাচনে দলের পরাজয়ে কারা কারা দায়ী সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট রিপোর্টও চান তিনি। তার এ নির্দেশের পর দলীয় নেতাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি শক্তিশালী উইংও কাজ শুরু করেছে। ‘পৌর নির্বাচনে মূলত দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা ছাড়া আর কোন নেতাকেই মাঠে দেখা যায়নি। এত বড় একটি নির্বাচন নিয়েও ছিল না কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও টিমওয়ার্ক।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা যুগান্তরের কাছে এ অভিযোগ জানিয়ে বলেন, এ পরাজয়ের জন্য শুধু জেলার নেতারাই নয়, আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারাও অনেকাংশে দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের এমপিও একমত। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, অচিরেই ঘরের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যারা তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারছেন না তাদের সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে হবে। ওবায়দুল কাদের যুগান্তরকে বলেন, আমাদের ভুল, ত্র“টি ও ঘাটতি ছিল। তাই দলকে নতুন করে সাজাতে হবে। প্রয়োজনে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। কাউকে ফ্রি স্টাইল চালাতে দেয়া যাবে না।

[ad#bottom]