তাহসানের প্রত্যাবর্তন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেই পঞ্চম অ্যালবামের কাজ শুরু করেন তাহসান। অ্যালবামটি নিয়ে এবার বেশ যাচাই-বাছাই করেছেন তিনি। মাসখানেকের মধ্যেই জি সিরিজ থেকে বাজারে আসবে ‘প্রত্যাবর্তন’ নামের এ অ্যালবামটি। লিখেছেন পাভেল আহমেদ
শাহরিয়ার, পাপ্পু, তাম্মু আর তাহসান_তাঁরা চার বন্ধু। স্কুলজীবন থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতা। এখনো সবাই পাশাপাশি বাড়িতে থাকেন। এরই মধ্যে পাপ্পু ছাড়া সবাই বিয়ের মালা গলায় পরেছেন। তাঁর প্রতিদিনের রুটিন মোটরসাইকেল নিয়ে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ানো। বর্তমানে তাঁদের আড্ডার প্রধান বিষয় পাপ্পু, তাঁর বিয়ে এবং মোটরসাইকেল। প্রতিদিন নানা কাণ্ড ঘটে এ নিয়ে। তাহসান এবারের অ্যালবামে ‘দ্বিচক্রযান’ শিরোনামের একটি গান করেছেন পাপ্পুকে নিয়ে। বলেন, ‘বন্ধুটি এখনো বিয়ে করতে পারল না। মাঝেমধ্যে মনে হয় মোটরসাইকেলটাই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জিনিস। তাই গানটি লিখেছি। আমার ধারণা, গানটি সবার কাছেই ভালো লাগবে।’ তাহসানের শেষ একক ‘নেই’ প্রকাশ পায় ২০০৭ সালে। তার পরের বছর পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে গিয়েও গানকে ছেড়ে দেননি। বেশ কিছু জ্যাজ ঘরানার নতুন গান তৈরি করেন। ভেবেছিলেন দেশে ফিরে এ গানগুলো দিয়েই সাজাবেন নতুন অ্যালবাম। শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। ‘কিন্তু রেকর্ডিংয়ে যাওয়ার আগে পরিচিত মহল ও ভক্তরা আমার নিজস্ব ঘরানার গান করতে উৎসাহী করে। ভক্তদের কথা না শুনে পারলাম না। তাই যথারীতি আবারও নতুন গান তৈরিতে মন দিই।’ এবারের অ্যালবামের বেশির ভাগই প্রেমের। একটি সাইকোডেলিক ও একটি স্মুথ জ্যাজ ঘরানার গানও রাখা হয়েছে। অ্যালবামের নাম ‘প্রত্যাবর্তন’ কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তাহসান, ‘প্রথম প্রেমের অনুভূতিটা আসলে অনেক মজার। প্রায়ই আমার মনে হয়, ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে যদি নতুন করে প্রেম শুরু করতে পারতাম! এ চিন্তা থেকেই গানটি লেখা। গানের কথাগুলো এমন, ‘আমি আবার আরেকটাবার তোমার প্রেমে পড়তে চাই।’ গানটির গল্প প্রেমিকার কাছে প্রত্যাবর্তন নিয়ে। তা ছাড়া অনেক দিন পর অ্যালবাম নিয়ে শ্রোতার সামনে হাজির হচ্ছি। ‘প্রত্যাবর্তন’ নাম রাখার এটিও একটি কারণ। কিছুদিন আগেও ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট ছিল না তাহসানের। এখানেই বাধে বিপত্তিটা। তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছিল। সম্প্রতি এক ভক্ত তাঁকে বলেন, ‘আপনাকে ফেইসবুকে যে কথাটা বলেছি, সেটার তো কোনো উত্তর পেলাম না।’ কথা শুনে তাহসান তো অবাক! বলেন, ‘আমি তো ফেইসবুকই ব্যবহার করি না।’ সেদিন বাসায় ফিরে পরিকল্পনা করেন ফেইসবুক ব্যবহার করবেন। অ্যাকাউন্ট খোলার মাত্র কয় দিনেই তাঁর ফ্যান পেইজে ৫০ হাজারেরও বেশি ভক্ত যোগ দিয়েছেন। আর এখন বাসায় তাঁর অনেকটা সময়ই কাটে ফেইসবুকে ভক্তদের সঙ্গে কথা আদান-প্রদানে। বলেন, ‘এত দিন শুনে আসছিলাম ফেইসবুক নিয়ে বিপত্তির কথা। সেটা আমাকেও ছাড়েনি। নীলক্ষেতে মেলে নকল সিডি আর ফেইসবুকে নকল অ্যাাকাউন্ট। বেশ মজার ব্যাপার বটে! তবে এখন এটার সুফল পাচ্ছি।’ কিছুদিনের মধ্যেই ভক্তদের সুবিধার্থে তাহসান নিজের অ্যাকাউন্টে ‘প্রত্যাবর্তন’ অ্যালবামের একটি করে নতুন গান আপলোড করবেন। গানগুলো মুঠোফোন কম্পানির কলার টিউনে পাওয়া যাচ্ছে।

দেশ নিয়ে তাহসানের ভাবনাগুলো বেশ স্পষ্ট ও গোছানো। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনিয়মও তাঁকে ভাবায়। বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান যে বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে বাংলায় গান গাইতে পারছি। শুধু আমাদের দেশেই সিডিবন্দি গান মানুষ আগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশে প্রতিষ্ঠিত নায়ক-নায়িকাদের ঠোঁটে না যাওয়া পর্যন্ত গান হিট হওয়ার ঘটনা বিরল।’

সাম্প্রতিক অডিও শিল্পের বেশ নাজুক অবস্থা নিয়ে তাহসানের ভাষ্যটা এমন, ‘শ্রোতার মধ্যে গান শোনার প্রবণতা বেড়েছে অনেক বেশি। কিন্তু পাইরেসির কারণে অ্যালবাম বিক্রি হচ্ছে না। তার ওপর ১৫ বছর আগে একটা ক্যাসেট মিলত ৩৫ টাকায়। এত বছর পরে এসে একটি সিডির দাম মাত্র ৫০ টাকা। অন্যান্য জিনিসের ঊর্ধ্বর্গতির তুলনায় দাম বাড়েনি বললেই চলে। ফলে অডিও শিল্পকে পুরোপুরি অলাভজনক ব্যবসাই বলা চলে।’ হাজার নেতিবাচক জিনিসের ভিড়ে একটি ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন তাহসান। তা হলো গান। বলেন, ‘বেঁচে আছি গান গাইতে পারছি বলে। ভক্তরা আমার গান শুনতে চায়, এটা আমার কাছে আশীর্বাদস্বরূপ।’

[ad#bottom]