কমিউনিটির মুখোমুখি সার্ক হাইস্কুল স্টুডেন্ট প্রতিনিধি দল

সম্প্রতি জাপান সফর করে গেলো সার্কভুক্ত ৮ দেশের হাইস্কুল স্টুডেন্ট প্রতিনিধি দল। রওনক মেহেদি এবং নাজিয়া তান্নিম চৈতীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকেও ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জাপানে এসেছিলো। তাদের সংগে ছিলেন একজন শিক্ষক। তারা এসেছিলো ‘এফওয়াই ২০১০ জাপান-সার্ক হাইস্কুল স্টুডেন্টস এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ফোরাম’ এর অধীনে জ্বালানী ও পরিবেশগত সমস্যায় জাপান ও সার্কভুক্ত দেশগুলির হাইস্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের এক ফোরামে অংশগ্রহন করার জন্য।

জাপানে অবস্থানকালে তারা মুখোমুখি হয়েছিলেন কমিউনিটির প্রতিনিধির সাথে। প্রোগ্রামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের সাথে কথাপোকথনের সার সংক্ষেপ কমিউনিটির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোঃ

নাজিয়া তান্নিম চৈতী, হলিক্রস কলেজ, ঢাকা

কমিউনিটিঃ জাপানে স্বাগত। কেমন লাগলো?

চৈতীঃ ভালো লেগেছে। বাংলার নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় বড় হওয়া একজন বাঙালী মেয়ে হিসেবে জাপানের বর্তমান আবহাওয়া প্রতিকূল মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সত্যি বলতে জাপানের উষ্ণ অভ্যর্থনা, কাছে টেনে নেবার প্রবণতা, জাপানিদের ভালোবাসা, সর্বপরি নিজের দেশকে তুলে ধরার সুযোগ এই সব সার্বিক বিবেচনায় সব কিছুই অনুকূল মনে হয়েছে।

কমিউনিটিঃ জাপান থেকে কি কি শিখলে?

চৈতিঃ জাপান থেকে কি কি শিখলাম তা বলতে গেলে তো পুরো একটা মাসুদ রানার কিশোর থ্রিলার হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ, এইটুকু বলতে পারি যে তাত্বিক পড়ার বাইরেও যে একটা অনেক বড় জগত আছে এবং সেই জগতের জন্য আমাদেরও যে কিছু করণীয় আছে (যা কেবলই পুথিগত বিদ্যাতে সম্ভব নয়) এই বাস্তব শিক্ষাটা ভালোভাবেই পেয়েছি।

কমিউনিটিঃ এই শিক্ষা ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারবে কি?

চৈতীঃ সফল হবো না ব্যার্থ হবো জানিনা, তবে শিক্ষাগুলো জীবনের সাথে জড়িয়ে ফেলতে চাই। নিয়মিত পরিচর্যা করে সেই শিক্ষার মায়াবী সুবাস সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। যা নিজ এবং দেশের কাজে আসবে মনে করি।

কমিউনিটিঃ জাপানের সাথে তুলনা করলে একই স্তরের শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের কোন পার্থক্য আছে বলে কি মনে করো?

চৈতীঃ পার্থক্য অবশ্যই আছে। জাপানে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি। শিক্ষার উপকরনও আধুনিক। আবার এটাও সত্যি যে আমাদের দেশে প্রতিযোগিতা বেশি থাকায় জাপানের হাইস্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় আমাদের শিক্ষার্থীদের জানার পরিধি ব্যাপক। তবে সবচাইতে বড় পার্থক্য জাপানের শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা শেষে একজন সুনাগরিক হিসেবে বের হয়। আর আমরা কেমন যেন যান্ত্রিক হয়ে যাই। তাই আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে স্থিতিশীল করা দরকার এবং মানবিক দিকগুলোর চর্চা এবং প্রশিক্ষন আরো বেশি বেশি হওয়া দরকার। শিক্ষকদের আরো বন্ধুসুলভ হওয়া দরকার।

কমিউনিটিঃ জাপানের কোন জিনিসগুলো অনুসরন যোগ্য?

চৈতীঃ আমার দৃষ্টিতে সবচাইতে বেশি অনুসরন যোগ্য হলো ওদের নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতির প্রতি মমত্ববোধ এবং এর প্রয়োগ। অর্থাৎ নিজস্বতা। আরেকটি ব্যাপার হলো ছোট-বড়, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী সব বয়সের মানুষকে সমান দৃষ্টিতে দেখা এবং তাদের মতামতকে গুরুত্বদেয়া। ভুল করলে ক্ষমা চাওয়ার প্রবণতা। বড়রাও ভুল করলে ছোটদের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখেছি। এমন কি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যক্তিটিও অধঃস্তন যে কোন লোকের কাছেই নিজ ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং নিজ থেকে অভিবাদন জানায়। আমাদের দেশে যা কেবলি কল্পনা করা যায়।

কমিউনিটিঃ দেশের বাইরে গেলে নাকি দেশের প্রতি ভালবাসা বাড়ে, দেশকে প্রকৃত চেনা যায় -তুমিও কি তাই মনে করো?

চৈতীঃ অবশ্যই। যত আধুনিকতাই দেখি না কেন দেশকে মিস করছি গভীর ভাবে। যদিও আমাদের সাথে আরো ন’জন ছিলো তারপরও মূল ফোরামে একজন স্বদেশী সাংবাদিকের উপস্থিতি এবং সারাদিন আমাদের সাথে অবস্থান যে আমাদের কতটা উৎসাহ দিয়েছে এবং মনে সাহস জুগিয়েছে তা আমরা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবনা। প্রবাসে স্বদেশীকে বড় বেশী আপন মনে হয়। অনেক কাছের মনে হয়।

কমিউনিটিঃ ফোরামে তোমাদের প্রেজেন্টেশন সবচাইতে ভালো হয়েছে যা সবই প্রশংসা করেছে, এই ভালো করার পেছনে কি কাজ করেছে আর তোমার অনুভূতিটাই বা কি?

চৈতীঃ ফমার্মে মূল উপস্থাপনার দিনটি ছিল ১৬ই ডিসেম্বর অর্থাত আমাদের মহান বিজয় দিবস| এই দিনেই লাল-সবুজের পতাকাটি বাংলার আকাশে পতপত করে উড়ে জানান দিয়েছে সদ্য ভূমিষ্ঠ একটি দেশের কথা| বিদেশের মাটিতে আমরা সেই দিনের বিজয়ের কথা, বীরঙ্গনা মা-বোনদের এবং শহীদ ভাইদের শ্রদ্ধা জানানোর মোক্ষম সময়ের অনুভুতির কথা বারবার মনে হয়েছিল সেই সময়ে| নিজ দেশের সম্মান জানানোর সুযোগটিকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম এবং আমরা সেটি পেরেছি|

আমাদের অনুভূতি হলো বিশ্বের দরবারে আমরা দেশের সন্মান রাখতে পেরেছি আমাদের প্রেজেন্টেশন প্রশংসিত হয়েছে এটাই আমাদের বড় পাওয়া।

কমিউনিটিঃ কমিউনিটি এবং জাপান প্রবাসীদের পক্ষ থেকে তোমাদের ধন্যবাদ।

চৈতীঃ আমি এবং আমাদের পক্ষ থেকেও কমিউনিটি এবং সকল প্রবাসীদেরকে ধন্যবাদ।

[ad#bottom]