জনরোষের দায় সরকারকেই বহন করতে হবে : অবিলম্বে প্রকল্প বাতিলের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে আড়িয়ল বিল রক্ষা কমিটি
একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে বিক্রমপুর ছিল কার্যত মুক্তাঞ্চল। এ কারণে এটা ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল। এখানকার তরুণরা বুকের তাজা খুন ঢেলে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আজ স্বাধীনতা লাভের ৪০ বছর পর সেই এলাকার মানুষকে যদি উচ্ছেদের শিকার হতে হয়, তা কীভাবে মেনে নেয়া যায়? আমরা আমাদের এলাকায় জাতীয় পানিনীতি ও জাতীয় পানি আইনবিরোধী বিমানবন্দর এবং স্যাটেলাইট নগরী বানানোর পরিকল্পনা রুখে দিতে আজ ঐক্যবদ্ধ। আমরা আশা করি, সরকার তার পরিবেশবিরোধী ও অবাস্তব সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা দেবে।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে আড়িয়ল বিল রক্ষা কমিটির জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনে ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, পানিবিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. এনামুল হক, পরমাণুবিজ্ঞানী আমানুল্লাহ খানসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শুনান রক্ষা কমিটির ঢাকা ইউনিটের আহ্বায়ক ডা. ফখরুল ইসলাম চৌধুরী।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমরা আজ বিপন্ন। সরকার একটি অবৈজ্ঞানিক প্রকল্প নিয়ে আমাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে চাইছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে খাদ্যশস্যের ঘাটতির মধ্যে নিজস্ব বিমান সার্ভিসের উন্নয়ন না ঘটিয়ে একটি বিলাসবহুল বিমানবন্দর ও স্যাটেলাইট নগরী গড়ে তোলার কোনো যুক্তি নেই। অন্যদিকে জনপ্রতিনিধিরা আজ আমাদের রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেননি বলে বিপদে পড়েই আমরা এখানে ছুটে এসেছি। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। অথচ কীভাবে এ কর্মসংস্থান হবে, তা সরকার পরিষ্কার করে বলেনি। তিনি বলেন, আড়িয়ল বিল বর্ষায় পানি ধারণ না করলে ঢাকাসহ পুরো এলাকায় বন্যার প্রকোপ বাড়বে। অথচ জরিপ ছাড়াই সরকার এত বড় একটি প্রকল্প হাতে নিয়ে ফেলেছে। তাই এ পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

সম্মেলনে বসতবাড়ি অধিগ্রহণের সরকারি নোটিশ দেখিয়ে বলা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে জোর গলায় বলা হচ্ছে, কাউকে ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হবে না। অথচ আজ গণহারে ভিটেবাড়ি উচ্ছেদের নোটিশ জারি করা হচ্ছে। তারা বলেন, আড়িয়ল বিলে ৮ হাজার একর খাস জমি রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। অথচ এখানে ৮০০ একর জমিও খাস নেই। থাকলে তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত।

সম্মেলনে মাঠজরিপের তথ্য দিয়ে দাবি করা হয়, দেশের এ দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল থেকে এলাকাবাসী বছরে ধান, রবিশস্য, মাছ, শামুক, গবাদিপশুর ঘাস থেকে বছরে এক হাজার কোটি টাকার বেশি আয় করে। অন্যদিকে প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবিকা এ বিলের ওপর নির্ভর করে।

সম্মেলনে বলা হয়, বর্ষা মৌসুমে এ বিল অতিরিক্ত পানি ধারণের আধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ কারণে বিলটি বিক্রমপুর, নবাবগঞ্জ ও দোহারকে অনেকাংশে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করে। এখানে বিমানবন্দর ও স্যাটেলাইট নগরী তৈরি হলে ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ আরও বাড়বে। বাড়বে বেকারত্ব। সবচেয়ে বড় কথা হলো, জলাধারে বিমানবন্দর আনা হলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।

সম্মেলনে দাবি করা হয়, দ্রব্যমূল্য কমানো, কর্মসংস্থান বাড়ানো, খাদ্যের নিশ্চয়তা বিধান, বিদ্যুত্ সমস্যা লাঘব, ঢাকা শহরের যানজট কমানোসহ সরকারের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো এড়িয়ে আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বানানোর পরিকল্পনা বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

সম্মেলনে বলা হয়, পিট কয়লার গভীর স্তর থাকায় আড়িয়ল বিল মোটেও বিমানবন্দর বানানোর উপযোগী নয়। অন্যদিকে আড়িয়ল বিলের মতো একটি খাদ্যভাণ্ডারকে ভরাট করে বিমানবন্দর বানানোর পরিকল্পনা শুধু আত্মঘাতীই নয়, এটা দেশকে মঙ্গার ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেবে।

রক্ষা কমিটির নেতারা বলেছেন, অবিশ্বাস্য দ্রুততার সঙ্গে বিমানবন্দর নির্মাণের কাজটি শেষ করতে চাইছে সরকার। কারণ যে দেশের প্রকল্প গ্রহণে সমীক্ষা প্রস্তাব প্রণয়ন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন ও একনেক হয়ে প্রকল্প পাস হতেই কয়েক বছর লেগে যায়, সেখানে এত বিশাল প্রকল্প হাতে নেয়ার আগে প্রয়োজনীয় কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই সরকার ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তারা বলেন, ‘জান দেব তবু জমি দেব না’—মন্ত্রে আজ পুরো এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ। এখানে প্রতিদিনই হাজার হাজার লোক সমাবেশ করছে। এ প্রকল্প বাতিলের আওয়াজ তুলছে। আমরা আশা করছি, সরকার গণদাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এ উদ্ভট প্রকল্প থেকে সরে আসবে। অন্যথায় জনতার আন্দোলন জনরোষে রূপ নিলে তার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক শাজাহান বাদল, সদস্য সচিব সাইদুর রহমান সাইদ, নাসিরুল আলম পলাশ, আলম দেওয়ান, হায়দার খান, জিয়াউর রহমান জিয়ন, বাড়ৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন মাস্টার, হাঁসাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মৃধাসহ প্রকল্প এলাকার হাজার হাজার মানুষ।

আমার দেশ

——————————————————-

আড়িয়াল বিল রক্ষায় সাংবাদিক সম্মেলনে সন্তোষজনক বক্তব্য নেই

আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দরের বিরোধীতায় সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটি নামের একটি সংগঠনের নেতারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর প্রদানে ব্যর্থ হয়েছেন। এসময় আয়োজকদের সাথে আসা ক্যাডাররা সাংবাদিকদের সঙ্গেও অসৌজন্য আচরন করে।

ক্যাডার বেষ্টিত হয়েই মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসকাবে সংবাদ সম্মেলন করে আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটি।

এতে লিখিত বক্তব্য দেন আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটির ঢাকা মহানগরের আহবায়ক ডা. ফখরুল ইসলাম চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যর পর সাংবাদিকরা খাস জমির উপর বিমান বন্দর নির্মাণ করলে কি সমস্য জানতে চাইলে আয়োজকরা সঠিক কোন উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকরা আবারও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে সাংবাদিক সম্মেলনে আসা আয়োজকদের সাঙ্গপাঙ্গরা তাদের দিকে তেড়ে আসেন।

এসময় আয়োজকরা সাংবাদিকদের সরকারের ‘দালাল’ বলে উল্লেখ করলে। এর প্রতিবাদে সাংবাদিকরা সংবাদ সম্মেলন বর্জন করে বেরিয়ে যান। পরে আয়োজকরা ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলে পুনরায় সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা আড়িয়াল বিল থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন মাধ্যমে ৮৭৮ কোটি টাকা আয় হয় বলে দাবি করেন।

তারা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরকে আরো সম্প্রসারন, আধুনিকায়ন ও পুরাতন বিমান বন্দরকে আভ্যন্তরীন বিমান বন্দও হিসেবে চালু করার উপযোগী করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

আয়োজক কমিটি আড়িয়াল বিলে কোনভাবেই বিমানবন্দর নির্মাণ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন।

কমিটির নেতারা ছাড়াও কয়েকজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক ও পেশাজীবী এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
————————————————-

আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ আত্মঘাতী

আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটির নেতারা বলেছেন, সরকারপ্রধানকে ভুল বুঝিয়ে সম্পূর্ণ অবাস্তব, অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিকভাবে আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আড়িয়াল বিলকে শস্যভাণ্ডার হিসেবে আখ্যায়িত করে কমিটির নেতারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে প্রস্তাবিত এ বিমানবন্দর নির্মাণ হলে আড়িয়াল বিলের প্রায় ১০ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লাখ লাখ মানুষ উচ্ছেদ হবে। ভূমিহীন হবে ওই এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলো। স্যাটেলাইট শহর নির্মাণ হলেও গরিব মানুষ সেখানে ঠাঁই পাবেন না। এ কারণে বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ আÍঘাতী উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বাতিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ড. ফয়জুর রহমান আল সিদ্দিকী, ইঞ্জিনিয়ার আমানুল ইসলাম চৌধুরী, প্রকৌশলী মোঃ ইনামুল হক, আড়িয়াল বিল রক্ষা ঢাকা কমিটির আহ্বায়ক ডা. ফকরুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য সচিব সাইদুর রহমান সাইদ, আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটির (স্থানীয়) আহ্বায়ক শাজাহান বাদল প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে রক্ষা কমিটির নেতারা দাবি করেন, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর, সিরাজদিখান, বিক্রমপুর, ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ থানার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে আড়িয়াল বিলের অবস্থান।

এখানকার কৃষি জমির পরিমাণ ২০ হাজার একরেরও বেশি। আড়িয়াল বিলে প্রতি বছর কৃষি, রবিশস্য, মৎস্যসম্পদ থেকে আয় হয় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। কমবেশি ১০ লাখেরও বেশি লোক এ বিলের সঙ্গে নানাভাবে জড়িত। এ বিলের চারপাশে অসংখ্য গ্রাম এবং জনবসতি রয়েছে। কিন্তু সরকার প্রাক-সমীক্ষা না করেই আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর করার অবাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তারা আরও বলেন, আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর এবং এর চারপাশে স্যাটেলাইট শহর স্থাপন করা হলেও এর ভয়ংকর ও বিরূপ প্রভাব পড়বে পুরো দেশের ওপর। বিপর্যয় ডেকে আনবে পরিবেশের ওপর। মানুষ বাস্তুভিটা হারাবে। বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়বে। নষ্ট হবে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। দেশে খাদ্য নিয়ে শংকা দেখা দিলেও আড়িয়াল বিলের মতো একটি উর্বর ফসলি জমিকে ধ্বংস করে বিমানবন্দর ও স্যাটেলাইট শহর নির্মাণের পরিকল্পনাকে আÍঘাতী বলে দাবি করেন বিল রক্ষা কমিটির নেতারা। তারা আরও বলেন, এ বিলের মাটি বিমানবন্দর করার উপযোগীও নয়। কারণ এখানকার পিটমাটি রানওয়ে নির্মাণের উপযোগী নয়। করলে সেটি দেবে যাবে। দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উল্লেখ করে তারা বলেন, এই মুহূর্তে দেশে আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করার যৌক্তিকতা নেই।

তারপরও সরকার আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করতে চাইলে সেটি আড়িয়াল বিলে নির্মাণ না করে অন্য কোথাও করতে পারে। জাতীয় পানি নীতি ও পানি আইন অনুযায়ী আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর করার কোন সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন বিল রক্ষা কমিটির নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, যেখানে জনপ্রতিনিধিরা এরকম একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে সংসদ সদস্যরা আড়িয়াল বিলের জনগণকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে নেতারা বলেন, বিমানবন্দর করার নামে সরকার নিজেই ভূমিদস্যুর ভূমিকায় নেমেছে। তারা বলেন, বিমানবন্দর হলে এখানে জমির দাম বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং ভূমিদস্যুরা গ্রাস করতে মরিয়া হয়ে উঠবে। প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপের নামে এখানকার জমি অধিগ্রহণ করে শেষ পর্যন্ত তুলে দেয়া হবে ভূমিদস্যুদের হাতে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, বিমানবন্দরের নামে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এটা কোন বিল না, এটা একটা হাওর। একটা প্রাকৃতিক সম্পদ। এটাকে রক্ষা করতে হবে। আমাদের বিমানবন্দর লাগবে না।

যুগান্তর
————————————————

আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর হলে ১০ লাখ ভূমিহীন লোক বেকার হবে
বিল রক্ষা কমিটির দাবি

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ধারণক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার না করে আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটি। এটিকে বিলাসবহুল প্রকল্প হিসেবে আখ্যায়িত করে কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দ্রব্যমূল্য কমানো, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ও যানজট কমানোসহ সরকারের অনেক অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম রয়েছে। অথচ এসব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা আদৌ সমীচীন নয়। আড়িয়াল বিলের লাখ লাখ মানুষকে উচ্ছেদ করে অপ্রয়োজনীয়, অমানবিক ও অবৈজ্ঞানিক উপায়ে এখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা হলে তাদের ভূমিহীন ও বেকারত্বের দিকে ঠেলে দেয়া হবে। নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির নেতৃবৃন্দ এ হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটি ঢাকার আহ্বায়ক ডা. ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্যসচিব সাইদুর রহমান সাইদ ও রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক শাজাহান বাদল সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আমানউল্লাহ চৌধুরী, ড. এনামুল হক, ড. ফয়জুল আলম সিদ্দিকী, ইকবাল চেয়ারম্যান ও মোশারফ চেয়ারম্যান প্রমুখ উপস্খিত ছিলেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আড়িয়াল বিলে হাজার হাজার একর খাস জমি আছে­ এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়া হচ্ছে। যা আদৌ সঠিক নয়। প্রস্তাবিত এলাকায় কোনো খাস জমি নেই। প্রস্তাবিত ২৫ হাজার একর জমিতে বিমানবন্দর ও স্যাটেলাইট শহর স্খাপিত হলে পরিবেশের ওপর ভয়ঙ্কর বিরূপ প্রভাব পড়বে­ যা জাতির জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও ঢাকার নবাবগঞ্জ-দোহারের গর্ব ও অহঙ্কার আড়িয়াল বিল ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা বলেন, আড়িয়াল বিল থেকে বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার আয় বìধ হয়ে যাবে। ক্ষুদ্র জমির মালিকরা ভূমিহীন দিনমজুরে পরিণত হবে। বাড়বে বেকার সমস্যা। এতে ঢাকা শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ বাড়বে। সেই সাথে বাড়বে যানজটও। প্রতি বছর বিলে বিভিন্ন প্রকার কাজ যেমন­ ধান চাষ, মৎস্য আহরণ ও সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহকারী আড়িয়াল বিলের আশপাশের গ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দশ লাখ লোক বেকার হয়ে যাবে। এতে বিপন্ন হবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। কারণ সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলার প্রতীক রবিশস্য, তরিতরকারী, মাছে ভরপুর ও অসংখ্য প্রজাতির পাখির অনেকটা অভয় বিচরণ ক্ষেত্র এই আড়িয়াল বিল। এটি ভরাট করা হলে বর্ষা মওসুমের বাড়তি পানির কারণে আড়িয়াল বিলের চারপাশ তথা মুন্সীগঞ্জের অন্যান্য উপজেলা ও ঢাকার নবাবগঞ্জ, দোহারে প্রবল বন্যা দেখা দেবে। আড়িয়াল বিলের জমি অধিগ্রহণের ফলে স্খানীয় জমির মালিক ও কৃষিজীবী শ্রমিকসহ প্রায় ১০ লাখ মানুষ নি:স্ব ও বেকার হয়ে পড়বেন।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আড়িয়াল বিলে সম্পূর্ণ অমানবিক, বেআইনি, অবৈজ্ঞানিক ও অপ্রয়োজনীয় এ বিমানবন্দর স্খাপন বìধ করার দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় জনতার আন্দোলন জনরোষে রূপ নিলে তার দায়দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আগামী শুক্রবার শ্র্রীনগরের শ্রীধরপুর গ্রামের সমাবেশ থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

নয়া দিগন্ত
————————————–

[ad#bottom]

One Response

Write a Comment»
  1. There is no alternatibe of air port that is gonna estabilished in munshigonj.so for the development of munshijonj we should help government .It’s a chance so don’t loss it in the name of idiot bad politics.
    from—–london.
    good luck munshigong.