টানটান উত্তেজনার মধ্যে ঢাকা বিভাগে নির্বাচন আজ

পৌরসভা নির্বাচন ২০১১
ঢাকা বিভাগের ৬৩টি পৌরসভার ভোট আজ। ইতোমধ্যে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা চলবে ভোট গ্রহণ। এসব পৌরসভায় বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। প্রার্থীরা প্রহর গুনছেন নির্বাচন অনুষ্ঠান ও ফলাফলের অপেক্ষায়। ঝুঁকিপূর্ণ পৌরসভাগুলোর ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে সাভারসহ ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভাগুলোতে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টহল শুরু করেছে। পাশাপাশি সতর্ক অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঢাকা বিভাগে সেনাবাহিনী ও বিজিবি শুক্রবার থেকে টহল শুরু করেছে। নির্বাচনের পরের দিন পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন তারা এসব পৌরসভায় অবস্থান করবে। ঢাকা বিভাগের ৬৩ পৌরসভায় ৯৭৭টি কেন্দ্রের পাঁচ হাজার ৮৯৬টি ভোটকক্ষে ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৪২৮ জন ভোটার তাদের ভোটারাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এদিকে শনিবার মধ্যরাত থেকে ঢাকা বিভাগের পৌরসভাগুলোর নির্বাচনী প্রচার বন্ধ হয়েছে। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ৩২ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত প্রচারকাজ বন্ধ থাকবে। ১৬ জানুয়ারি মধ্যরাত (রাত ১২টা) থেকে ঢাকা ভোটের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত (রাত ১২টা) নির্বাচনী এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব, বেবিট্যাক্সি/অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, জিপ, কার, পিকআপ, বাস, টেম্পো, লঞ্চ, ইঞ্জিন-বোট ও স্পিডবোট চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব ধরনের নির্বাচনী সামগ্রী সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। ভোটের আগের দিন সব সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রহরায় পৌছবে। এসব কেন্দ্রে পুলিশ, ব্যাটালিয়ন আনসার ও অঙ্গীভূত আনসার নিয়োজিত থাকছে।

পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই)/সার্জেন্ট/এএসআই/হাবিলদারের নেতৃত্বে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন হচ্ছে। সাধারণ কেন্দ্রে অস্ত্রধারী পাঁচজন পুলিশসহ ১৯ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে অস্ত্রধারী ছয়জনসহ ২০ জন পুলিশ নিয়োজিত থাকবে।

টাঙ্গাইল, কালীহাতি, মির্জাপুর, সখিপুর, মধুপুর, ধনবাড়ী, গোপালপুর, ভূঞাপুর, ঘাটাইল, ময়মনসিংহ, ফুলপুর, মুক্তাগাছা, ত্রিশাল, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল, ভালুকা, গফরগাঁও, রাজবাড়ী, গোয়ালন্দ, পাংশা, সাভার, ধামরাই, শেরপুর, নকলা, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, নরসিংদী, মনোহরদী, সোনারগাঁও, তারাব, গোপালগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া, কালিয়াকৈর, জামালপুর, সরিষাবাড়ী, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা, নেত্রকোনা, মোহনগঞ্জ, দুর্গাপুর, কেন্দুয়া, মুন্সীগঞ্জ, শিবচর, কালকিনি, ফরিদপুর (সদর), নগরকান্দা, বোয়ালমারী, কিশোরগঞ্জ, কটিয়াদী, ভৈরব, কলিয়ারচর, বাজিতপুর, হোসেনপুর, করিমগঞ্জ, সিংগাইর ও মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম পৌরসভায় আজ ভোটযুদ্ধে নামছেন প্রার্থীরা।

উলি্লখিত পৌরসভাগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইল, কালীহাতি, ময়মনসিংহ, সাভার, ধামরাই, মাধবদী, মনোহরদী, কালিয়াকৈর, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, শেরপুর (সদর) ও টাঙ্গাইলের মধুপুরে সেনাবাহিনী থাকছে। এ ছাড়া বিজিবি থাকছে কিশোগঞ্জের করিমগঞ্জ পৌরসভায়।

এদিকে নতুন করে আরও পাঁচ পৌরসভায় সেনা ও বিজিবি মেতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব আবদুল বাতেন জানান, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী, মধুপুর ও কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভায় সেনা এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি ও হোমনায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। টাঙ্গাইলের কালীহাতি পৌরসভায় ইতোমধ্যে মোতায়েন করা এক প্লাটুন সেনাসদস্য তিন ভাগ হয়ে ধনবাড়ী ও মধুপুর পৌরসভায় এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মোতায়েন করা সদস্যরা দুই ভাগ হয়ে লাকসাম পৌরসভায় টহল দেবেন। আর কুমিল্লার দুই পৌরসভায় মোতায়েন থাকবে এক প্লাটুন করে বিজিবি সদস্য। নতুন করে সেনা ও বিজিবি মোতায়েনের কারণ জানতে চাইলে কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচনের আগমুহূর্তে এ পৌরসভাগুলোতে অনাকাঙ্খিত ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণেই কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

[ad#bottom]