রামপুরায় ‘বন্দুকযুদ্ধ’ যুবক নিহত

রাজধানীর রামপুরায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শ্যামল (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় গুলিতে আহত হয় অনিক (১৭) নামে এক কিশোর। পুলিশের ভাষ্যমতে, শুক্রবার রাত পৌনে ২টার দিকে রামপুরার মহানগর প্রজেক্ট বালুর মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ গুলিবিদ্ধ দু’জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্যামলের মৃত্যু হয়। অনিক একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ দাবি করছে, নিহত শ্যামল ও গুলিবিদ্ধ অনিক ছিনতাইকারী দলের অস্ত্রধারী সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে থানায় কয়েকটি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, ২ রাউন্ড গুলি ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে শ্যামল ও অনিকের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে গুলি করেছে। পুলিশের চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় তাদের গুলি করা হয়েছে। রামপুরা থানা পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুরে রামপুরার উলন রোডে রাবিয়া খাতুন নামে এক মহিলার কাছ থেকে ছিনতাইকারীরা নগদ টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। এ সময় পুলিশ হাসান নামে এক ছিনতাইকারীকে ধরে ফেললে অপর সদস্যরা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরে হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত বলে শ্যামল ও অনিকের নাম জানায়। পরে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যার পর পূর্ব রামপুরা থেকে তাদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।
থানার ওসি সায়েদুর রহমান সমকালকে বলেন, গ্রেফতারকৃত শ্যামল ও অনিককে তাদের কাছে থাকা অস্ত্রের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায়, মহানগর প্রজেক্টের বালুর মাঠে তাদের অপর সহযোগীদের কাছে অস্ত্র রয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ২টার দিকে ওই দু’জনকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযানে নামেন তারা। অভিযানের এক পর্যায়ে শ্যামল ও অনিককে নিয়ে বালুর মাঠ এলাকায় গেলে সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দু’জনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় শ্যামল ও অনিক হাতকড়া পরা অবস্থায় দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে অনিক ও শ্যামলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

অনিকের খালা রোকেয়া বেগম জানান, অনিক অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে পূর্ব রামপুরার মোল্লাবাড়িতে ভাড়া থেকে একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করত। শুক্রবার দুপুরে সে বাসা থেকে সালামবাগ জামে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে পুলিশ তাকে সেখান থেকে ধরে নিয়ে যায়। রাতে তাকে অজ্ঞাত নম্বরে ফোন করে বলা হয় অনিককে পুলিশ আটক করেছে। তাকে ছাড়িয়ে নিতে দেড় লাখ টাকা নিয়ে থানায় যেতে বলা হয়। রাত ৩টার দিকে তারা থানায় গেলে পুলিশ জানায়, অনিককে নিয়ে অভিযান চলছে। পরে গতকাল সকালে টেলিভিশনের খবরে তারা জানতে পারেন অনিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে পড়ে আছে।

নিহত শ্যামলের বড় ভাই খায়রুল জানায়, তার ভাই সাভারে একটি জুতার কারখানায় কাজ করে। শুক্রবার সে তার রামপুরার ভূঁইয়াপাড়ার বাসায় বেড়াতে এসেছিল। পুলিশের সোর্স মামুন তার ভাইকে ধরিয়ে দেয় দাবি করে তিনি বলেন, তার ভাইকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে জানিয়ে সোর্স মামুন টাকা নিয়ে থানায় যেতে বলে। কিন্তু সকালে তারা জানতে পারেন তার ভাইকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনিক সাংবাদিকদের জানায়, গভীর রাতে তাদের থানা থেকে গাড়িতে উঠানো হয়। পরে বালুর মাঠে নিয়ে দু’জনের মুখই কালো কাপড় বেঁধে ফেলা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তাদের পায়ে গুলি করা হয়।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সমকালকে বলেন, তিনি কারও কাছে কোনো টাকা চাননি। এসব অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা। পুলিশের নাম করে কেউ টাকা চেয়েছে কি-না তা তার জানা নেই বলে তিনি জানান। ওসি আরও জানান, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত শ্যামলের বিরুদ্ধে রামপুরা ও খিলগাঁও থানায় চাঁদাবাজি ও হত্যা মামলাসহ পাঁচটি ও অনিকের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে। গুলিবিদ্ধ অনিকের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে। তারা পূর্ব রামপুরায় ভাড়া থাকে। নিহত শ্যামলের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে ঢাকায় তার কোনো ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে ওসি জানান।

[ad#bottom]