প্রার্থীদের জমজমাট প্রচার ॥ পোস্টারে ভাসছে মুন্সীগঞ্জ শহর

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে পৌর এলাকা। পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে বিভিন্ন পাড়া-মহলস্নাসহ পুরো পৌর এলাকা। প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যনত্ম জনসংযোগ করছেন। প্রার্থীদের পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরাও বসে নেই। তাঁরাও জন সংযোগ চালাচ্ছেন। এবার নির্বাচনে দলের লোকজনও কমর বেঁধে নেমেছে ।

বিভিন্ন স্থানে উঠান বৈঠক ও পথসভা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক প্রাথর্ীসদৃশ বড় আকারের প্রতীক তৈরি করে বিভিন্ন গুরম্নত্বপূর্ণ স্থানে টানিয়ে রেখেছেন। মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রাথর্ীদের মাইকিং চলছে সমগ্র পৌরসভায়। ৪১ হাজার ১শ’ ৪০ ভোটারের মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন। ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৬ প্রাথর্ী ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রাথর্ী হয়েছেন ১২ জন।

মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মহাজোট প্রাথর্ী ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বর্তমান মেয়র এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান (আনারস), জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের জ্যেষ্ঠ পুত্র কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য মোহাম্মদ ফয়সাল বিপস্নব (দেয়াল ঘড়ি) বিএনপির প্রাথর্ী শহর বিএনপির সভাপতি ইরাদত হোসেন মানু (দোয়াত কলম), ফখরম্নজ্জামান মিলস্নাদ (চশমা), মোঃ মোশারফ হোসেন (টেলিভিশন), মোঃ নুরম্নল ইসলাম (তালা) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এখানে মেয়র পদে ৬ প্রাথর্ী হলেও এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, ফয়সাল আহমেদ বিপস্নব ও একেএম ইরাদত মানুর সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াই হবে।

মোহাম্মদ ফয়সাল বিপস্নবের পক্ষে তার পিতা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও যুদ্ধকালীন ঢাকা বিভাগীয় বিএলএফ কমান্ডার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জনসংযোগে নেমেছেন। বিএনপির প্রাথর্ী ইরাদত মানুর পক্ষে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আব্দুল হাই জনসংযোগ চালাচ্ছেন। আর মহাজোট প্রাথর্ী মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমানের পক্ষে জনসংযোগ করছেন স্থানীয় এমপি এম ইদ্রিস আলী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মমতাজ বেগম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক মৃনাল কানত্মি দাস এবং সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ আনিসউজ্জামান। তাই এখানে ত্রিমুখী লাড়াই জমে উঠেছে।

এখানে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে এক পক্ষ এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমানের ও আরেক পক্ষ মোহাম্মদ ফয়সাল বিপস্নবের সমর্থনে অবস্থান নিয়েছে। এতে মহাজোট প্রাথর্ীর বাঙ্ েমহাজোটের সব ভোট জমা পড়ছে না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএনপি প্রাথর্ী অনেক পিছেয়ে থেকেও মূল লড়াইয়ে এখন। এদিকে ভোটাররা প্রাথর্ীদের যোগ্যতা নিয়েও ভাবছে। এলাকার উন্নয়নে ও পৌরবাসীর কল্যাণে সন্ত্রাস ও মাদককে ‘না’ বলার জন্য কোন প্রাথর্ী বেশি উপযোগী তা নিয়ে আলাপচারিতা হচ্ছে চায়ের স্টলসহ নানা লোকালয়ে। আবার সততা চরিত্রবান প্রাথর্ীর কথাও ভোটারদের মাথায় রয়েছে।

স্ব স্ব প্রাথর্ীর পক্ষে নেতাকমর্ীরা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে চষে বেড়াচ্ছেন পাড়া মহলস্নায়। ভোট পাওয়ার জন্য সকাল থেকে গভীর রাত পর্যনত্ম বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের কাছে ঘুরছেন প্রাথর্ীরাও। নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। সকল প্রার্থীই নির্বাচনে জয়ী হলে বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রম্নতি দিচ্ছেন ভোটারদের। ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রাথর্ী ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও বসে নেই। তাঁরা সকাল থেকে রাত পর্যনত্ম ব্যাপক জন সংযোগ চলাচ্ছেন। ৫নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন ফুটবল প্রতীক নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন হেঁটে। ২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রাথর্ী আতিকুর রহমান টিপু ক্যামেরা প্রতীক নিয়ে একই কৌশলে ভোট ভিক্ষা করে চলেছেন।

রাসত্মা-ঘাট ও চায়ের দোকানসহ সর্বত্রই চলছে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও হিসাব নিকাস কে হবে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার নতুন জনপ্রতিনিধি।

[ad#bottom]