পদ্মা সেতু প্রকল্পে স্বচ্ছতা চায় বিশ্বব্যাংক

পদ্মা বহুমুখি সেতুর নির্মাণব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি আলাদা স্বাধীন পর্যবেক্ষণ দল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে সরকার। ২৯০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় সাপেক্ষ এ সেতুর নির্মাণে বিশ্বব্যাংক একাই দিচ্ছে ১২০ কোটি ডলার। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে ৩০ কোটি ডলার জোগান দেওয়ারও প্রতিশ্র”তি পাওয়া গেছে সংস্থাটির কাছ থেকে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বচ্ছতা বিষয়ক পর্যবেক্ষণ দলের প্রয়োজন বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের অভিমত তুলে ধরেন সংস্থাটির বাংলাদেশ-প্রধান অ্যালেন গোল্ডস্টেইন।

তিনি বলেন, “এই প্রকল্পের বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। আমরা সরকারকে এ বিষয়টি জানিয়েছি। এ ক্ষেত্রে একজন প্রকল্প সমন্বয়ক থাকা উচিত যিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে যাবতীয় বিষয় অবহিত করবেন।”

সরকারের ওপর বিশ্বব্যাংকের আস্থা আছে- এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এটি একটি বিশাল ব্যয়সাপেক্ষ প্রকল্প। সেক্ষেত্রে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকল্পকে যেকোনো বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।”

বাংলাদেশের জন্য এ সেতুর সফল বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে গোল্ডস্টেইন বলেন, “বিশ্ব ব্যাংক চায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ মান বজায় রাখা হোক।”

বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে অর্থনীতি সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আরাস্তু খান বলেন, “তদারকির জন্য আলাদা কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি খুবই ভালো। সব পর্যায়েই স্বচ্ছতা রাখার বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।”

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “দরপত্রসহ বিভিন্ন বিষয়কে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতো নামকরা স্বাধীন-নিরপেক্ষ বেসরকারি সংস্থাকে ডাকার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে।”

আরাস্তু খান জানান, এ সেতু চালু হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমে আসবে, সেই সঙ্গে মংলা বন্দর লাভবান হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন করে।

[ad#bottom]