তাক লাগাল ওরা ৯ জন

রাহমান মনি
রনক, চৈতী, রিফাত, রাজিব, খালেক, ইব্রাহীম, তাজরি এবং মুনতাসীর ওরা ৯ জন। সবাই সবেমাত্র কৈশোরে পা রেখেছে। হাই স্কুল স্টুডেন্ট। মুখে তাদের বুদ্ধিদীপ্ত শিশুসুলভ দুষ্টামির আভা, চোখে তাদের বিশ্ব জয়ের নেশা, বুকে তাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশপ্রেম এবং মনে তাদের রয়েছে দেশকে সার্বিকভাবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার দৃঢ়তা। ওরা সেটি পেরেছে এবং ভালোভাবে, একটু বেশিই পেরেছে। জাপানে একটি কথা প্রচলিত আছে ‘প্লাস আলফা’। অর্থাৎ দায়িত্বের অতিরিক্ত কিছু একটা। সেই কিছু একটাও বাংলাদেশি ৯ জন কিশোর-কিশোরী জাপানের মাটিতে উপস্থাপন করে বিশ্ব দরবারে তাক লাগিয়েছে।

ওরা এসেছিল জাপান সরকারের আমন্ত্রণে। জাপান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘FY2010 Japan-SAARC High School Student Exchange Program Forum’-এর অধীনে ‘জ্বালানি ও পরিবেশগত সমস্যায় জাপান এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের ফোরামে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানায়। তাদের আমন্ত্রণে সার্কভুক্ত প্রতিটি দেশ আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা প্রতিটি দেশ থেকে ৯ জন করে শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক, জাপান থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী ১ জন শিক্ষক এবং ৮ জন সমন্বয়কারী, ১ জন মডারেটর এই ফোরামে অংশ নেয়। গত ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা জাপান অবস্থান করে।

জাপানে অবস্থানকালীন তারা টোকিও শহর ভ্রমণ (Odaiba Area), Panasonic সেন্টার পরিদর্শন, Tokyo Rinkai Wind Power Generation Plant পরিদর্শন, জাপান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শন, টোকিও, কানাগাওয়া কেন এর বিভিন্ন হাইস্কুল পরিদর্শন, জাপানের ঐতিহাসিক স্থান হিরোশিমা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কিয়োতো পরিদর্শন করে। এগুলো করানো হয় জাপানি সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং জ্বালানি বিষয়ে সম্যক ধারণা দেয়ার জন্য।

৮ ডিসেম্বর সবগুলো দেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে জাপান প্রবেশ করে। ৯ ডিসেম্বর টোকিও প্রিন্স হোটেলে পরিচয় পর্ব এবং জাপান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Seiji Maehara (মাএহারা সেইজি) অতিথি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এবং প্রতিটি দেশের প্রতিনিধিদলের প্রতিনিধির বক্তব্য শোনেন। বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি রনক মেহেদি তন্ময়ের বক্তব্যে উপস্থিত সবাই অভিভূত হন। এক পর্যায়ে Seiji Maehara আসন ছেড়ে রনকের সঙ্গে করমর্দন করেন।

১১ ডিসেম্বর সকল শিক্ষার্থীর একদিনের জন্য হোস্ট ফ্যামিলির সঙ্গে সময় কাটাতে হয়। এই দিন তাদেরকে জাপানিজ পরিবার তাদের অতিথির ইচ্ছা অনুযায়ী বিভিন্ন আয়োজন করে। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই টোকিও ডিজনিল্যান্ড দেখার আগ্রহ প্রকাশ করলে তাদেরকে সেখানে নেয়া হয়। সন্ধ্যায় ফিরে হোস্ট ফ্যামিলির সঙ্গে রাত্রীযাপন করতে হয়। এটাও জাপানিজ সংস্কৃতি শিক্ষার একটি অংশ ছিল। পরের দিন সবাই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে টোকিও স্টেশনে দুপুর সাড়ে বারোটায় মিলিত হয়।

১২ ডিসেম্বর দুপুর ১টায় বুলেট ট্রেনে করে প্রাচীন রাজধানী, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কিয়োটোর উদ্দেশ্যে টোকিও ত্যাগ করে। কিয়োটো হোটেলে রাত্রীযাপন করে ১৩ ডিসেম্বর কিয়োটোর এবং জাপানের বিখ্যাত স্বর্ণমন্দিরসহ অন্যান্য বিখ্যাত মন্দির পরিদর্শন করে। দুপুরে লাঞ্চের পর বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরি কোম্পানি Kyocera Corporation পরিদর্শন করে। এই দিন সন্ধ্যায় তারা বুলেট ট্রেনে চড়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আনবিক বোমায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর হিরোশিমার উদ্দেশ্যে কিয়োটো ত্যাগ করে এবং হিরোশিমা হোটেলে রাত্রি যাপন করে।

১৪ ডিসেম্বর সারাদিন সার্কভুক্ত সব শিক্ষার্থী হিরোশিমায় কাটায়। এই দিন সকালে শিক্ষার্থীদের মিয়াজিমা দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। লঞ্চের পর হিরোশিমায় ফিরলে আণবিক বোমায় আহত এবং সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া একজন সেই দিনের ভয়াবহতার বর্ণনা দেন। বিকেলে হিরোশিমা পিচ মেমোরিয়াল পার্ক, জাদুঘর পরিদর্শন করে রাতে হোটেলে রাত্রিযাপন করে।

১৫ ডিসেম্বর হিরোশিমা থেকে টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরে পৌঁছে। দুপুরে লাঞ্চ সেরে Energy and Earth Exploratorium পরিদর্শন শেষে মূল ফোরাম অর্থাৎ The SAARC International Forum ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় শুরু হয়। এই দিন সার্কভুক্ত ৮টি দেশ প্রথমে তাদের স্ব স্ব দেশের প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করে। এই দিন বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেয় ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের রনক মেহেদি তন্ময় এবং হলিক্রস কলেজের নাজিয়া তাননিম চৈতী।

বিজয়ের মাসের এই দিনে অর্থাৎ বিজয় দিবসে নিজ দেশকে তুলে ধরায় প্রথমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া বীরদের প্রতি বিনম্র চিত্তে শ্রদ্ধা জানানো হয়। দলনেতা রনক মেহেদি তন্ময় বলেন, আজ আমরা আমাদের ঐতিহাসিক দিনে সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি, যেদিন পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে লাল সবুজের পতাকাটি চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে। এই দিনটি আমাদের বিজয়ের দিন। এই বিজয়ের জন্য আমাদের অসংখ্য ভাইবোন শহীদ হয়েছেন। অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে। আজ আমরা তাদের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। এই সময়ে বড় পর্দায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, স্মৃতিসৌধ এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য চিত্র প্রদর্শিত হয়।

রনকের বক্তব্যের পর নাজিয়া তান্নিম চৈতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থান, সমস্যা, মাথাপিছু ব্যবহার, সমাধানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ, প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ সুষ্ঠু ব্যবহার, বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং তার প্রভাবে বাংলাদেশে ভয়াবহ পরিণতির আশংকার কথা সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। বাংলাদেশিদের উপস্থাপনা, বাক্য গঠন, বাচনভঙ্গি এবং সময়োচিত প্রতিবেদনের জন্য প্রশংসিত হয়। অস্ট্রেলিয়ার উপস্থাপক সোপিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের Grage Chemcher এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানি উপস্থাপক Nobuyouki Takasugi (নোবুইয়ুকি তাকাসুগি) মন্তব্য করে বলেন, তোমাদের প্রেজেন্টেশন দেখে এবং শুনে মনেই হয়নি যে, আমরা হাইস্কুল পর্যায়ে কোনো শিক্ষার্থীদের প্রেজেন্টেশন দেখছি। মনে হয়েছে প্রফেশনাল কোনো এক্সপার্টদের কাছ থেকে শুনছি যারা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করে থাকে। কি করে পারলে? তোমাদের কাছে অনেক কিছু শেখার আছে। এর পর Grage অন্যান্য দেশগুলোকে বাংলাদেশের মতো করে উপস্থাপন করতে অনুরোধ করেন এবং শেষে বাংলাদেশের মতো হয়নি বলে মন্তব্য করেন। একমাত্র শ্রীলঙ্কাকে বাংলাদেশের কাছাকাছি হয়েছে বলে উপস্থাপকদ্বয় মন্তব্য করেন।

লাঞ্চের পর শিক্ষার্থীদের ৮টি গ্রুপে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি গ্রুপে প্রতিটি দেশের একজন বা দুইজন করে, জাপানি হাইস্কুল স্টুডেন্ট একজন এবং একজন জাপানি সমন্বয়কারী রাখা হয় এবং নিজ নিজ দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সার্বিক অবস্থা, পাওয়ার জেনারেশন সোর্স, এনার্জি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণমুক্ত করণীয় এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানি ও পরিবেশগত সমস্যা এই সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর নিজস্ব চিন্তায় পরিবেশ পরিবর্তন এবং জ্বালানি সমস্যা সমাধানে একশন প্ল্যান তৈরি করতে বলা হয়। পরিকল্পনা তৈরি করতে ১ ঘণ্টা এবং উপস্থাপন করতে ৫ মিনিট নির্দিষ্ট করে প্রতিটি গ্রুপে একজন গ্রুপ লিডার, একজন সাহায্যকারী, একজন সময়রক্ষক এবং বাকি সবাইকে সদস্য করে পরিকল্পনা করার জন্য গ্রুপকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ৮টি গ্রুপের মধ্যে ৪টি গ্রুপেই বাংলাদেশিরা লিডার নির্বাচিত হয় এবং ২টিতে সহ-লিডার নির্বাচিত হয়। সার্কভুক্ত দেশগুলোর সদস্যরা তো বটেই জাপানি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশিদের পরিকল্পনার কথা মনোমুগ্ধ হয়ে শুনতে দেখা যায়। SAARC-এর স্বপ্নদ্রষ্টা যে বাংলাদেশ ছিল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা তার প্রতি সম্মান রেখেছে যা না দেখলে লিখে বোঝানো সম্ভব নয়।
এদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এতে সব শিক্ষার্থী, হোস্ট ফ্যামিলির সদস্যবর্গ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, এনজিও প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত হয়ে সে দেশের প্রতিনিধিদের উৎসাহ দিতে দেখা গেলেও বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। সার্ক-জাপান হাই স্কুল স্টুডেন্ট সমন্বয়কারী Mr. Tanaka জানান, তোমাদের দূতাবাসকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। কেন এল না জানি না।

বিদায় সংবর্ধনার আনুষ্ঠানিকতা এবং নৈশ ভোজ শেষে প্রতিটি দেশের শিক্ষার্থীদের বিদায়ী প্রেজেন্টেশন উপহার দিতে বলা হয় এবং নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরার অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বক্তব্যের শুরুতে রনক মেহেদি তন্ময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য উপস্থিত সকলকে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের আহ্বান জানান। এই সময় উপস্থাপকগণ জাপানি ভাষায় বর্ণনা করলে উপস্থিত পাঁচ শতাধিক অতিথি এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পাকিস্তানি শিক্ষার্থী এবং দূতাবাস কর্মকর্তা নীরবতা পালন করে তাদের পূর্বসুরীদের প্রায়শ্চিত্ত করেন। এই সময় সবার মাথা অবনত ছিল।

সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আয়োজক, হোস্ট ফ্যামিলির সদস্যদের, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ স্বেচ্ছাসেবক বৃন্দ, সমন্বয়কারী, হোটেল কর্তৃপক্ষ, জাপান সরকার এবং আপামর প্রতিটি জাপানি নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে ‘আমি বাংলার গান গাই, আমি বাংলায় গান গাই’ গানটির অংশবিশেষ পরিবেশন করা হয়। বাংলাদেশিদের মার্জিত এবং দেশীয় সংস্কৃতির পোশাক উপস্থিত সকলকে আকৃষ্ট করে। এই সময় ছেলেরা সবুজ পাঞ্জাবির উপর লাল কোর্তা এবং মেয়েরা শাড়ি পরিধান করে। হোস্ট ফ্যামিলি এবং অন্য সকলেই বাংলাদেশিদের সঙ্গে ছবি তোলার আগ্রহ প্রকাশ করে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সবার বাহুতে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস লেখা লাল-সবুজের ফিতা ছিল। এখানে যারা এসেছিল তারা প্রত্যেকেই এ প্রজন্মের। মুক্তিযুদ্ধ ওরা কেউ দেখেনি। শুনেছে। টিনএজায় এই নয়টি গ্রহের (৯ জন) মুক্তিযুদ্ধ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখে ওদের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যায়।

হলিক্রস কলেজের ছাত্রী নাজিয়া তান্নিম চৈতি ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কলেজের ছাত্র রনক মেহেদি তন্ময় এ প্রতিবেদকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তাদের অনুভূতি ব্যাক্ত করেন। তারা বলেন, বিশ্ব দরবারে আমারা আমাদের দেশের সম্মান রাখতে পেরেছি। আমাদের প্রেজেন্টেশন প্রশংসিত হয়েছে এটাই আমাদের বড় পাওয়া।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পূর্ণ তালিকা
নাম কলেজ

১. রনক মেহেদি তন্ময় ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ
২. নাজিয়া তান্নিম চৈতী হলিক্রস কলেজ
৩. রিফাত বিন এম. রাহমান ঢাকা কলেজ
৪. জুশিতা রাহমান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ
৫. সাদিয়া ইসলাম ভিকারুননিসা কলেজ
৬. তাজরি জুয়েনা ভিকারুননিসা কলেজ
৭. খালেক রাজিব ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ
৮. ফারহান মুনতাসির যশোর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ
৯. মো. ইব্রাহিম মল্লিক নটর ডেম কলেজ
১০. আনোয়ারা আক্তার খাতুন (শিক্ষক) রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

rahmanmoni@gmail.com

[ad#bottom]