মা ও মেয়েকে বিয়ে করে পুলিশ কর্তা কারাগারে

মা ও মেয়েকে বিয়ে করে এক লম্পট পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে। গতকাল ঢাকার দুই নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে কারাগারে পাঠানো অভিযুক্ত পুলিশ হচ্ছে এসআই মাহফুজুর রহমান। নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার কলাগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত রয়েছে সে। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানার শেখেরনগরে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের উত্তর চাষাঢ়ার তালাকপ্রাপ্ত বিলকিস বেগমকে এসআই মাহফুজুর রহমান পাঁচ বছর আগে বিয়ে করে। বিয়ের পর মাহফুজুর তার স্ত্রী বিলকিস বেগম এবং বিলকিসের প্রথম ঘরের মেয়ে হাবিবা খানম নূপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া থাকতেন। এ অবস্থায় মাহফুজুরের কুদৃষ্টি পড়ে সৎ মেয়ে কলেজছাত্রী নূপুরের ওপর। একদিন বেড়াতে যাওয়ার নাম করে নূপুরকে নিয়ে বের হয় মাহফুজুর। পরে তাকে ধর্ষণ করে। নূপুর বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেয় এবং ধর্ষক সৎ বাবা মাহফুজুরের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মামলা করে। ধৃত মাহফুজ এরপর নূপুরের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় শুরু করে এবং একপর্যায়ে নূপুরের মাকে তালাক দিয়ে গত বছরের ১ জানুয়ারি তাকে বিয়ে করে। নূপুরের মা বিলকিসও মাহফুজুরের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মামলা করে। গতকাল মাহফুজুর নূপুরের দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন চায়। নূপুর এ সময় আদালতে বলে, তার মাকে তালাক দিয়ে মাহফুজুর তাকে বিয়ে করেছে। তাই তার জামিনে আপত্তি নেই। এ সময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবীসহ সবাই এ ঘটনায় মাহফুজুরকে ধিক্কার জানায়। বিচারক নূর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর একজন পুলিশ কর্মকর্তার এ ধরনের লাম্পট্যে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, একটা কিনলে একটা ফ্রি পাওয়া যাবে ভেবেই ওই পুলিশ কর্মকর্তা প্রথমে নূপুরের মাকে বিয়ে করেছিলেন। এরপরই বিচারক মাহফুজুরকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

[ad#bottom]