মুন্সীগঞ্জ: নির্বাচনী ক্যাম্পিং চলছে পুরোদমে

রাসেল মাহমুদ, মুন্সীগঞ্জ থেকে: মুন্সীগঞ্জে পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। প্রর্থীরা নির্বাচনী কার্যক্রমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ভোট প্রার্থনা করছেন ভোটারদের কাছে। তারা বিভিন্ন উঠান বৈঠক, পথসভা, পোস্টার, লিফলেট, মাইকিং, ছোট ছোট ওয়ার্কিং টিমের মাধ্যমে প্রচারণা চলাচ্ছেন এবং ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। বিভিন্নভাবে চালাচ্ছেন নির্বাচনী কার্যক্রম। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকেই দিন দিন বেড়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনী প্রচারণা। প্রার্থীদের প্রতিদিনই পাল্টাচ্ছে হিসাব নিকাশ।

আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে কোথাও কোথাও টাকার ছড়াছড়িও চলছে। যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছে তাদের দলে আনার জন্য চলছে প্রতিযোগিতা। এতে প্রত্যাহার করা অনেক প্রার্থী যাচ্ছেন দর কষাকষিতে। তবে মিছিল-মিটিং না থাকাতে অনেক বাড়তি ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে প্রার্থীরা খোশ আমেজে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন। তারা ভোটারদের কাছে বেশি সময় দিতে পারছেন। একাধিকবার ভোটারদের ঘরে ঘরে যেতে পারছেন প্রার্থীরা। তবে যারা নিজের প্রচার ও বিভিন্ন সুবিধা ভোগ আদায়ের জন্য নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন তাদের মাঠে খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। তাদের সন্ধ্যা হলে দেখা যায় বিভিন্ন চায়ের দোকানে। কিছু প্রার্থীর নির্বাচনে দাঁড়ানোটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ভোট কতটা পেল সেটা তাদের দেখার বিষয় নয়। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় তোড়জোড়ে চলছে নির্বাচনী কার্যক্রম। মেয়র পদে ১০ জন নির্বাচনে অংশ নিলেও ৪ প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।

বাকি প্রার্থীদের মধ্যে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের ছেলে ফয়সাল বিপ্লব, বর্তমান পৌর মেয়র এডভোকেট মুজিবুর রহমান ও বিএনপি প্রার্থী একে ইরাদত মানু নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ছেলে ফয়সাল বিপ্লবের জন্য মাঠে নেমেছেন সাবেক সাংসদ বঙ্গবন্ধুর প্রধান সিকিউরিটি অফিসার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। মুন্সীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিস নেমেছেন এডভোকেট মুজিবুর রহমানকে নিয়ে এবং জেলা বিএনপি আবদুল হাই মাঠে নেমেছেন একেএম ইরাদত মানুকে নিয়ে। তারা যার যার অবস্থান থেকে তোড়জোড় করে মাঠে নেমেছেন তাদের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য। তারা নিজেরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছেন। নির্বাচন নিয়ে এখনও কোন অপ্রীতিকর কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কাউন্সিলর প্রার্থীরাও যার যার এলাকায় পুরোদমে চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা।

এখানকার সাধারণ ভোটাররা মোটামুটি সচেতন বিধায় এখনও তারা কাউকে কথা দিচ্ছেন না, তারা নির্বাচনী মাঠ ও যোগ্য প্রার্থী সিলেকসনে পর্যবেক্ষণ করছেন। মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এডভোকেট মজিবুর রহমানকে সমর্থন দিলেও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের বেশির ভাগ নেতাকর্মী কাজ করছেন ফয়সাল বিপ্লবের জন্য। বিএনপি প্রার্থী একক হওয়ায় মানুর প্রচারণা চলছে ঝামেলামুক্ত ভাবে। এবারের নির্বাচনে মিছিল মিটিং না থাকায় অনেক ভোটারের পছন্দের প্রার্থীর জন্য প্রকাশ্য মাঠে আসতে হচ্ছে না তাই তারা নানা কৌশল অবলম্বন করে একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে আঁতাত করছেন। প্রার্থীরা দিনরাত এখন লবিং ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নতুন নির্বাচন আচরণবিধির কারণে মিছিল-মিটিং না থাকলেও নির্বাচনী আলোচনা আর উৎসবের কমতি নেই বাসাবাড়ি, হাটবাজার, ও চায়ের দোকানগুলোতে। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের হিসাব-নিকাশ নিয়ে এখন নির্বাচনী জ্বরে আক্রান্ত মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা। দুপুরের পর থেকেই প্রার্থী ও সমর্থকদের পদচারণা ও একাধিক প্রার্থীর মাইকিংয়ে পুরো শহর সরগরম হয়ে ওঠে। ধানারপুল চত্বর, কাচারীঘাট, লঞ্চঘাট, কাটাখালী বাজার, মুন্সীরহাটসহ পুরো পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টেই পুরোদমে চলছে নির্বাচনী আমেজ।

[ad#bottom]