চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামীকাল একনেকে উঠছে পদ্মা বহুমুখী সেতু

আরিফুর রহমান: ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়কের জাজিরায় পদ্মা নদীর ওপর সোয়া ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা বহুমুখী সেতুটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামীকাল (মঙ্গলবার) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে। সেতুটি নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকারি অর্থায়নে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি এবং প্রকল্প সাহায্যে ১৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা খরচ হবে। এর আগে ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে প্রথম অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। ওইসময় জিওবি অর্থায়নে ৩ হাজার ২৮১ কোটি এবং প্রকল্প সাহায্যে ৬ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সেতু নির্মাণের কাজ তদারকি করবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ১২৫ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, নদী শাসন ১৪ কিলোমিটার, টোল প্লাজা সার্ভিস ১২ কিলোমিটার নির্মিত হবে। সেতুর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি, ডিজাইন পরিবর্তন, ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি, পরামর্শকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটি সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সূত্র জানায়, পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন (জাইকা) এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ‘জাইকা স্টাডি টিম’ কর্তৃক সমীক্ষা হয়। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের জন্য বিবেচিত হয়। সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক ১৫০ কোটি ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৬০ কোটি ডলার, জাপান ৪০ কোটি ডলার ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ৪০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে ৪ দফা ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুর নির্মাণে ব্যয় হবে ১৯০ কোটি ডলার। এরপর একইবছরের আগস্টে সেতু নির্মাণে ২০০ কোটি ডলার ব্যয় ধরা হয়। ডিসেম্বরে আরেক দফা বাড়িয়ে বলা হয়, ২৪০ কোটি ডলার। গতবছর বলা হয়েছিল ২৬০ কোটি ডলারের কথা। বর্তমানে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯০ কোটি ডলার।

[ad#bottom]