মিরকাদিম প্রাথীদের প্রচারণায় মুখরিত : জনসংযোগ বৃদ্ধি

মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভা নির্বাচন প্রাথীদের প্রচারণায় এখন মুখরিত। প্রতীক পাওয়ার পর প্রার্থীদের জনসংযোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথীরা সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট প্রার্থনার করছেন। পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে ও মহলস্নায় প্রাথীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলছে প্রাথীদের পক্ষে মাইকিং। ৩০ হাজার ৪শ’ ৭০ জন ভোটারের মিরকাদিম পৌরসভার এই নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন ও ৯টি ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতার করছেন। ৯টি ওয়ার্ডে ৩৪ জন কাউন্সিলর ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছেন।

মেয়র পদে বর্তমান মেয়র ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হোসেন রেনু (দেয়াল ঘরি), চারদলীয় জোট সমর্থিত প্রাথী মিজানুর রহামন মিজান (তালা), আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ আব্দুস সালাম (দোয়াত কলম), শহিদুল ইসলাম শাহীন (টেলিফোন), হাফিজুলস্নাহ মন্টু মাস্টার (টেলিভিশন), ফারুক আহমেদ মোলস্নাহ (আনারস) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে হাজী আব্দুস সালামকে মনোনয়ন দেয়া হলেও স্থানীয় এমপি এম ইদ্রিস আলী পারিবারিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে হাফিজুলস্নাহ মন্টু মাস্টারকে। চারদলীয় জোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে মিজানুর রহমান মিজানকে। অপরদিকে বর্তমান মেয়র বিএনপি’র মোহাম্মদ হোসেন রেনু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উভয় দলেরই একাধিক প্রাথী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে দলীয় নেতা-কমীরা পড়েছে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। শহিদুল ইসলাম শাহীন ও ফারুক আহমেদ মোলস্নাহ স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এখানে বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ হোসেন রেনু এলাকায় এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়া ছাড়াও বিভিন্ন সমস্যায় পৌরবাসীর পাশে থাকায় তিনি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। জোট প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান গত দু’বছর ধরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তার বড় ভাই পৌর বিএনপি’র সভাপতি জসিম স্থানীয় নেতা-কমীদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এতে তিনিও আরো সুসংহত অবস্থানে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুস সালাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ দরিদ্র মানুষকে সহযোগিতা করে আসছেন। তিনি পৌর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। স্বতন্ত্র প্রাথী শহিদুলস্নাহ শাহীন নির্বাচন উপলক্ষে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক জনসংযোগ চালিয়ে আসছেন। তিনিও জয়ী হওয়ার জন্য এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক রাখার অঙ্গীকার করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ এমপি এম ইদ্রিস আলীর সমর্থিত প্রাথী হাফিজুলস্নাহ মন্টু মাস্টারও জনসংযোগ চালাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এবার নির্বাচনে পৌর মেয়র পদে বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ হোসেন রেনু, দলীয় জোট প্রাথী মিজানুর রহমান মিজান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদুল ইসলাম শাহীনের সঙ্গে ত্রিমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ প্রাথী হাজী আব্দুস সালাম ও হাফিজুলস্নাহ মন্টু মাস্টারও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন। অন্যদিকে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও নিজ নিজ পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

নির্বাচন অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান, ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রাথী ৩৪ জন হলেও মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর নামের একজন কাউন্সিলর প্রাথী হাইকোর্ট থেকে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার রায় এনেছেন। এতে কাউন্সিল প্রাথী ৩৫ জন হবে।

[ad#bottom]