শ্রীনগরে আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটি ও সচেতন নাগরিক সমাজ মুখোমুখি

শ্রীনগরে আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বঙ্গবন্ধু সিটি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে ‘আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটি’ ও সরকার সমর্থিত ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে এখন মুখোমুখি। আড়িয়াল বিল রক্ষায় এখানকার লক্ষাধিক দরিদ্র অধিবাসী এখন একাট্টা হয়ে আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটি গঠন করে আন্দোলনে নেমেছেন। অপরদিকে আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবিতে সরকার সমর্থিত সচেতন নাগরিক সমাজও পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। আড়িয়াল বিলের লক্ষাধিক দরিদ্র অধিবাসীর কেউ মৎস্য শিকারি, কেউ কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তারা তাদের বসতভিটা ও জমি রক্ষায় জীবন পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী গ্রামের আড়িয়াল বিলে সরেজমিন ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের সবার কথা হচ্ছে বিমানবন্দর করা হলে এখানে দেশ-বিদেশের বড় বড় লোক বিমানে উড়ে যাবে। কিন্তু আড়িয়াল বিলের লাখো মানুষের ভাগ্যের কি হবে। তারা কোথায় পাবে কর্মসংস্থান, কোথায় পাবে জমি, মাছ-ধান। তাই আড়িয়াল বিলের অধিবাসীরা বিমানবন্দর নির্মাণের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছেন। ২৭ ডিসেম্বর সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ত্রিশ হাজার বিক্ষুব্ধ নারী-পুরুষ ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়কে জমায়েত হয়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এ সময় তারা লাঠিসোটা, ব্যানার, ফেস্টুন ও মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে শ্রীনগর উপজেলার উমপাড়া থেকে সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। অপরদিকে বিমানবন্দর নির্মাণের পক্ষে সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে ৪ জানুয়ারি ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ১৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি ও শ্রীনগরের ছনবাড়ীতে এক পথসভা করা হয়। এতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুপ্তা ইয়াছমিন এমিলী ও মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল মান্নান খান বলেন, এখানে বিমানবন্দর নির্মাণে কোন ধরনের ষড়যন্ত্র ও বাধা প্রদান করা হলে আমরা বুকের রক্ত দেব তবুও এখানে বিমানবন্দর নির্মাণ করে ছাড়ব। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ বলেন, আড়িয়াল বিলকে কেন্দ করে যাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হতো তাদের জন্য কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা হবে। এখানে বিমানবন্দর হলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং এ এলাকা হবে স্বর্ণতুল্য। ওইদিন বিকালেই বিল রক্ষা কমিটি বাড়ৈখালী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে পাল্টা সমাবেশ করে ৯ জানুয়ারি আলমপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশের ঘোষণা দেন।

আড়িয়াল বিলবাসী জানায়, তারা এখানকার ১০টি গ্রামের মধ্যে প্রতিটি গ্রাম থেকে ১০ জন করে লোক নিয়ে আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটি বানিয়েছেন। যে করেই হোক জীবনের চেয়ে মূল্যবান এ বিল রক্ষা করবেন তারা। আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটির আহবায়ক শাহজাহান বাদল জানান, পরিকল্পনা প্রত্যাহার করা না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণ জান দেবে তো জমি দেবে না। অন্যদিকে বিমানবন্দর নির্মাণের পক্ষে জেলার শ্রীনগরে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ নামের একটি সংগঠন করা হয়েছে। ওই সংগঠনের আহবায়ক ও শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অবৈধ দখলদার ও ভূমিদস্যুরা আড়িয়াল বিলবাসীকে আন্দোলনে নামিয়েছে। বিমানবন্দর হলে দখলদারদের টাকা-কড়ি কামানো থেমে যাবে বলে তারা আড়িয়াল বিল রক্ষার নামে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করছে।

[ad#bottom]