পদ্মা সেতু: বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বসবে সরকার

পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য একশ ২০ কোটি ডলার ঋণের অর্থ ছাড় পেতে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সরকারের আলোচনা শুরু হবে বৃহস্পতিবার। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসার কথা। সফরে তারা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বৈঠকে পদ্মা সেতু প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় এ প্রকল্পে ২০১৩ সালের মধ্যে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইআরডি’র নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা আগামী শনিবারের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা শেষ করতে চাই। ফেব্র”য়ারিতে বিশ্ব ব্যাংকের বোর্ড মিটিংয়ে এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।”

তিনি জানান, দুশ ৯০ কোটি টাকা ব্যয় ধরে সেতুর মূল নির্মাণ কাজ আগামী অর্থবছরে শুরু হতে পারে। তবে জমি অধিগ্রহণসহ অন্য কাজগুলো পুরোদমে চলছে।

“ঋণচুক্তি সই হওয়ার আগে পুরনো তারিখে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই প্রকল্পে সরকার ৬০ কোটি ডলার ব্যয় করতে পারবে। বাকিটা ঋণের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে,” বলেন তিনি।

সেতুর নকশায় কোনো ধরনের পরিবর্তনের কারণে খরচ বেড়ে গেলে বিশ্বব্যাংক আরো ৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ বাড়ানোরও প্রতিশ্র”তি দিয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা প্রকল্পের মেয়াদেই বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩০ কোটি ডলার ঋণের বিষয়ে আলোচনা করব।”

প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক যথাক্রমে ৬১ কোটি ৫০ লাখ ও ১৪ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্র”তি দিয়েছে।

দ্বিপাক্ষিকভাবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় দাতা দেশ জাপান এক্ষেত্রে ৪০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্র”তি দিয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংক ৪০ বছর মেয়াদে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে বাংলাদেশকে এ ঋণ দেবে। যার রেয়াতি মেয়াদ হচ্ছে ১০ বছর।

প্রস্তাবিত সড়ক ও রেল সেতুটির নির্মাণে সরকার ঠিকাদারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হয়েছে।

শেখ শাহরিয়ার জামান

[ad#bottom]