রক্ত দিয়ে হলেও আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে: আবদুল মান্নান খান

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান বলেছেন, বুকের রক্ত দিয়ে হলেও আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর তৈরি করা হবে। এ বিমানবন্দরের মাধ্যমে এ এলাকার মাটিকে পরিণত করা হবে হীরকখণ্ডে।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বিমানবন্দর নির্মাণের পক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন শেষে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের চৌরাস্তায় এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। শ্রীনগর উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ এলাকার একজন মানুষ জীবিত থাকতেও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণকাজে কেউ বাধা দিতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘এখানকার ৯৯ ভাগ মানুষ বিমানবন্দর নির্মাণের পক্ষে থাকলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এ বিমানবন্দর নির্মাণের বিরোধিতা করছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চায় না, বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায় তারাই এ বিমানবন্দর নির্মাণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’

আবদুল মান্নান খান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার-আলবদর ও এদের সহযোগিতাকারী বিএনপি আড়িয়াল বিলে কুণ্ড রাজার হাজার হাজার একর সম্পত্তি কাগজপত্র ছাড়া অবৈধভাবে দীর্ঘদিন থেকে ভোগ দখল করে আসছে। এখন সেই সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে এ মহলটি বিমানবন্দর নির্মাণে বিরোধিতা করছে।’

প্রতিমন্ত্রী প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এ আড়িয়াল বিলেই নির্মিত হবে।’

এ এলাকায় বিমানবন্দর নির্মাণের সুবিধাসমূহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে বিমানবন্দর হলে গ্যাস বিদ্যুতের সুবিধা বাড়বে। বিমানবন্দরের পাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলা হবে। শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। আইটি ভিলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে, হবে পর্যটন কেন্দ্র। এগুলোর মাধ্যমে এ বিমানবন্দকে ঘিরে দেশের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হবে আড়িয়াল বিল।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের জন্য জমি নির্ধারণের কাজ শেষ পর্যায়ে। যতো দ্রুত সম্ভব এর নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’

মানববন্ধন ও সমাবেশে জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষণ, সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদসহ আওয়ালীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দুপাশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে হাজার হাজার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপন সংক্রান্ত বিশষেজ্ঞ কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাদের প্রতিবদেন উপস্থাপন করে। সে অনুযায়ী আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর ও সিটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মানববন্ধনে হাজারো মানুষ

আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর নির্মাণের দাবীতে মঙ্গলবার ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে মানববন্ধন ও র‌্যালিতে যোগ দেয় হাজারো মানুষ। শ্রীনগরের পুরনো ফেরিঘাট থেকে কুচিয়ামোড়া পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিশাল এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা,নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও এলাকার হাজার হাজার নারী পুরুষ অংশ নেয়। বিমান বন্দরের পে বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যাসার ফেস্টুন ও প্যাকার্ড শোভা পায় এতে।

গণপূর্তমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান ছাড়াও জাতীয় সংসদের হুইপ অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, সুকুমার রঞ্জন ঘোষ এমপি এতে অংশ নেন।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর এক টা পর্যন্ত চলে এই কর্মসূচী।

মানববন্ধণে ‘এয়ারপোর্ট বিক্রমপুরের আর্শিবাদ’, ‘বিক্রমপুরবাসী একজোট আড়িয়ালবিলে এয়ারপোর্ট’, ‘বিক্রমপুরবাসীর প্রাণের দাবী আয়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু বিমান বন্দর চাই’, ‘এয়ারপোর্ট চাই. এয়ার পোর্ট চাই’, ‘আড়িয়াল বিলে বিমান বন্দর করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ’ এমন নানা স্লোগান লেখা ফেস্টুন শোভা পায়।

আড়িয়াল বিলের ২৫ হাজার একর জমিতে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এতে একটি পক্ষ এর বিপে অবস্থান নিয়ে বিগত কয়েক দিন বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছিল।

“ এই কর্মসূচীতে এই অঞ্চলের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর স্বঃতস্ফূর্ত অংশ গ্রহন বিমানবন্দরের পক্ষেই যে এই অঞ্চলের মানুষ সেটিই প্রমান হয়েছে। ”এমন উক্তি করে অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এমপি বলেন এখানে এই বিমান বন্দর হচ্ছে এটি এই অঞ্চলের মানুষের সৌভাগ্য। বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে এখানে নদী, সড়ক, রেল ও আকাশ পথে আধুনিক যোগাযোগের এক নতুন দ্বার উন্মোচন হবে বলেও মত দেন তিনি।

রিয়াজ রায়হান, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
——————————–

৩০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে : গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী
আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দরের দাবিতে দীর্ঘ মানববন্ধন

অমিতোষ পাল, মুন্সীগঞ্জ থেকে ফিরে

অবিলম্বে আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ মানববন্ধন করেছে। ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেয়। সিরাজদিখানের ধলেশ্বরী সেতু পয়েন্ট থেকে মাওয়া ঘাট পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়ায় তারা। বিমানবন্দরের দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। মুন্সীগঞ্জ, দোহার, শ্রীনগর, নবাবগঞ্জের স্থানীয় সচেতন নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ব্যানারেও বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসূচিতে যোগ দেয়। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এখানে ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

মানববন্ধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গতকাল খুব সকালে পূর্ত প্রতিমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে সিরাজদিখান যান। ধলেশ্বরী সেতু পয়েন্টে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে ধীরে ধীরে তিনি মাওয়া পৌঁছান। এ সময় জনগণ এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দ্রুত বিমানবন্দরের কাজ শুরু করার দাবি জানায়। তাদের অনুরোধে প্রতিমন্ত্রী ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের তিনটি পয়েন্টে পথসভায় ভাষণ দেন। এ সময় অবিলম্বে বিমানবন্দরের কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণ আজ এলাকাবাসীর গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে, এখানে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে। নিজের ভালো পাগলেও বোঝে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিমানবন্দরের দাবিতে ছেলে-বুড়ো-নারী-পুরুষ সকাল থেকেই মানববন্ধন কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছে। তারা বলেছে, বছরের অর্ধেক সময় এই এলাকার জমি পানির নিচে পড়ে থাকে। নিচু এলাকা হওয়ার কারণে এত দিন এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আমরা চাই এখানে বিমানবন্দর নির্মিত হবে। মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন আসবে।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাবেক ছাত্রনেতা সুরুজ আলম বলেন, বিমানবন্দর নির্মিত হলে এলাকার চেহারা পাল্টে যাবে। সেই সঙ্গে একটি পরিকল্পিত শহর ও আবাসিক এলাকাও গড়ে উঠবে। মুন্সীগঞ্জ, দোহার ও নবাবগঞ্জের মানুষ এ রকম বড় কিছু পাওয়ার আশায় এত দিন বসেছিল।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সিরাজদিখান থানার কেয়াইন ইউনিয়নের নিমতলী গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বলেন, কিছু লোক বিমানবন্দর নির্মাণের বিরোধিতা করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। কারণ তারা বিলের খাসজমি অবৈধভাবে ভোগদখল করছে। বিমানবন্দর নির্মাণ করা হলে তাদের অবৈধ দখলদারিত্ব থাকবে না। এ জন্যই তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

নবাবগঞ্জের গালিমপুর গ্রামের বাসিন্দা নূর আলম বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের কিছু লোক এলাকার উন্নয়নকাজে বাধা দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। কিন্তু এখানে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলে এলাকাবাসীর মর্যাদা বাড়বে। এলাকার জমির দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাবে ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এখান থেকে দেশের সব এলাকার সঙ্গে উন্নত সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। রাজধানী ঢাকার পর মুন্সীগঞ্জকেই চিনবে দেশের মানুষ।

সিরাজদিখানের ফুলহাট গ্রামের বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন, এ দেশে একটি ভালো কাজ শুরু হলেও সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সরকারের শুরুতে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হলে এ সরকারই শেষ করে যেতে পারত। কিন্তু এখন শঙ্কা হচ্ছে, বর্তমান সরকার বিমানবন্দরের কাজ কতটুকু সম্পন্ন করে যেতে পারবে।

‘আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর, অবিলম্বে দেখতে চাই’, ‘আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর, ডিজিটাল বাংলাদেশের অপর নাম’, ‘আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর, এক দফা এক দাবি’ লেখা ব্যানার ও ফেস্টুন বুকে নিয়ে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। তারা এসব স্লোগান দিয়ে মহাসড়কে মিছিল করে। এ সময় বিভিন্ন পথসভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান বলেন, এ বিমানবন্দরটি হবে একটি উন্নত দেশের সবচেয়ে সুন্দর বিমানবন্দরের সমকক্ষ। এটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এ বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে বঙ্গবন্ধু সিটি। এখানে যে ৩০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, সেখানে আইন করে এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করা হবে। ফলে সবচেয়ে সুবিধাভোগী হবে এলাকার জনগণ।

কালের কন্ঠ

———————————————
আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সিগঞ্জ থেকেঃ গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জের ঢাকা মাওয়া মহাসড়কের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা থেকে শ্রীনগরের ছনবাড়ি পর্যন্ত আডিয়লে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে স্থানীয় সচেতন নাগরিক কমিটি। এখানে বিভিন্ন পেশার প্রায় ৩০ হাজার লোক রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয়। এই মানববন্ধন অনুষ্টানে উপস্থিত হন গৃহয়ান পূর্ত মন্ত্রী এড. আবদুল মান্নান, জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, শ্রীনগর উপজেলার চেয়ারম্যান বেলায়াত হোসেন ও শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও সচেতন নাগরিক কমিটির আহবায়ক তোফাজ্জল হোসেন।

একুশ শতকের আধুনিক বিমান বন্দর মুন্সিগঞ্জে স্থাপনের খবরে এলাকায় জমির দাম বেড়ে গেছে। প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বাজেটর আধুনিক এই বিমান বন্দরের জন্য আড়িয়াল বিলের ২৫ হাজার একর জমি অধিগ্রহন করা হবে। এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ১০ হাজার ৮শ’৯৫ একর জমি। ১৪টি মৌজার এই জমির ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। এছাড়া ঢাকার দোহার উপজেলার ৭টি মৌজায় রয়েছে ৭ হাজার ১ শ’ ৮৮ একর ভুমি। বাকী জমি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৮টি মৌজায়। তবে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার এলাকায় আড়িয়াল বিলের কিছু অংশ পড়লেও বেশী বসতি থাকায় তা বাদ দেয়া হয়েছে। তাই বিমান বন্দরটির অবস্থান থাকবে তিন উপজেলার মধ্যেই।

আড়িয়ল বিলসহ এর আশ পাশের বেশির ভাগ জায়গা ভাগ্যকুলের কুন্ডু জমিদারের। সরকারের এই খাস জমি এলাকার ভূমি দস্যুরা নামে বেনামে অনেকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এসব সম্পত্তিতে বসবাসকারী ক্ষতি পূরণের কোন টাকা পয়সা পাবে না। তাই তারা এখানে বিমান বন্দরের বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকে আবার এ ঘটনাকে পুঁজি করে এলাকায় চাঁদাবজি করছে। বিমান বন্দর নির্মাণে বিরোধিতাকারীরা এখানে সংগ্রাম কমিটি গঠন করেছে।

মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ বলেন, “এই বিমানবন্দর নির্মাণ হলে এই অঞ্চলের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে, ভাগ্যোন্নয়ন ঘটবে এলাকাবাসীর। যা কল্পনাও করেনি কেউ।

” অর্থনৈতিক মুক্তির কেন্দ্র হবে বিক্রমপুর তথা মুন্সিগঞ্জ এই উক্তি করে জাতীয় সংসদরে হুইপ ও মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি জানান, বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর, পদ্মা সেতু, রেল স্টেশন, শেখ মুজিব সিটি, ওষুধ পল্লী, গার্মেন্টস পল্লী ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহনের কারণে এই অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানসহ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বিক্রমপুর সংবাদ
——————————————————-

মুন্সীগঞ্জে বিমানবন্দরের পক্ষে কর্মসূচিতে প্রতিমন্ত্রী

মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর নির্মাণের পক্ষে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান, দুই সপ্তাহ আগেই সেখানে বিমানবন্দরের বিপক্ষে মানববন্ধন হয়েছিলো।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া সড়কে শ্রীনগরের পুরনো ফেরিঘাট থেকে কুচিয়ামোড়া পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মানববন্ধনে ওই এলাকার একদল বাসিন্দা অংশ নেয়।

এর দুই সপ্তাহ আগে ওই এলাকায় বিমানবন্দরের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া স্থানীয়রা মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ করে।

প্রতিমন্ত্রী মানববন্ধনের পর শোভাযাত্রায়ও অংশ নেন। কর্মসূচিতে তার সঙ্গে জাতীয় সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষও অংশ নেন।

নিমতলী পয়েন্টে সমাবেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর হলে এ এলাকার মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন হবে। বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া এই অঞ্চল বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠবে।”

সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেন, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এই অঞ্চলের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই বলে দেয় এ অঞ্চলের মানুষ বিমানবন্দর নির্মাণের পক্ষে।

তিনি জানান, বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে এখানে নদী, সড়ক, রেল ও আকাশ পথে আধুনিক যোগাযোগের এক নতুন দ্বার উন্মোচন হবে।

সরকার মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবাসন প্রকল্প বঙ্গবন্ধু সিটি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় আড়াই হাজার একর ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিমানবন্দর নির্মাণ না করার দাবিতে গত ২৭ ডিসেম্বর শ্রীনগরের লোকজন বিক্ষোভ করে। প্রায় ৩০ হাজার বিক্ষোভকারী সকাল ১০টা থেকে চার ঘণ্টা ঢাকা-মাওয়া সড়ক অবরোধ করে রাখে।

দোহার ও নবাবগঞ্জের লোকজনও একই দাবিতে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছে।

বিডি নিউজ 24
————————————————-

[ad#bottom]